ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় চলতি মৌসুমে সরিষার আবাদ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘন কুয়াশা ও শৈত্য প্রবাহের কারণে ছত্রাকের আক্রমণের আশঙ্কা থাকলেও এখন পর্যন্ত মাঠের পরিস্থিতি সন্তোষজনক রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ মৌসুমে জেলায় সরিষার বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন কৃষকরা।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় মোট ১৬ হাজার ১১৮ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২৯৩ হেক্টর বেশি। স্থানীয় জাতের পাশাপাশি বিনা-৯, বারি-১৪, বারি-১৫, বারি-১৭ ও বারি-১৮সহ বিভিন্ন আধুনিক জাতের সরিষা চাষ করা হয়েছে।
চাষীরা জানান, শীতের তীব্রতা ও ঘন কুয়াশার কারণে শুরুতে কিছুটা দুশ্চিন্তা থাকলেও বর্তমানে জমির অবস্থা ভালো রয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে তাদের ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বিঘা প্রতি ৪ থেকে সাড়ে ৫ মণ সরিষা উৎপাদনের আশা করছেন তারা। আমন ও বোরো ধানের মাঝামাঝি সময়ে বাড়তি ফসল হিসেবে সরিষা চাষ করায় কৃষকদের আগ্রহও বেড়েছে।
এদিকে আবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রণোদনার আওতায় কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ ও সার সরবরাহ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ আশা করছে, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ২১ থেকে ২২ হাজার মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদিত হবে।
জেলা কৃষি কর্মকর্তা ডঃ মোস্তফা এমরান হোসেন জানান, চলমান শৈত্য প্রবাহ ও রোগবালাই থেকে সরিষার জমি রক্ষায় মাঠ পর্যায়ে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। সবকিছু অনুকূলে থাকলে এ বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় প্রায় ১৫০ কোটি টাকার সরিষা উৎপাদন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
Leave a Reply