জাতীয় জাদুঘরের টিকিটের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি টাকা দিয়ে টিকিট কিনে ঢুকতে হবে জুলাই গণ অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী জাদুঘরে ঢুকতে বাংলাদেশি দর্শকদের জনপ্রতি ১০০ টাকা ও শিশুদের ৫০ টাকার টিকিট কিনতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ২০ টাকা, যা শিশুদের ক্ষেত্রে ১০ টাকা।”
গত ১০ ফেব্রুয়ারি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ প্রবেশ ফি প্রস্তাব করে অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জুলাই গণ অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের প্রবেশ ফি জাতীয় জাদুঘরের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি। এত বেশি টাকা টিকিটের মূল্য প্রস্তাব করা যৌক্তিক হয়নি। এর ফলে সাধারণ দর্শনার্থীর আগ্রহ কমে যেতে পারে।
“এ বিষযে জানতে চাইলে জুলাই আন্দোলন থেকে গঠিত রাজনৈতিক দল এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও সহশিক্ষা সম্পাদক মাহাবুব আলম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি ধারণা দিতে প্রবেশ ফি পুরোপুরি ‘ফ্রি’ করে দেওয়া উচিত ছিল। তা না করে, জাতীয় জাদুঘরের তুলনায় বেশি ফি করা কোনোভাবেই উচিত হয়নি। প্রবেশ ফির বিষয়টি নিয়ে তাদের পার্টির সভায় আলোচনা করবেন বলে জানান এই এনসিপি নেতা। শুধু দেশি নয়, জুলাই গণ অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর দেখতে বিদেশি নাগরকিদের জন্যও কয়েক গুণ বেশি ফি প্রস্তাব করা হয়েছে। সার্কভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য ৫০০ টাকা এবং অন্য বিদেশি নাগরিকদের জন্য ২ হাজার টাকা টিকিটের মূল্য প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে জাতীয় জাদুঘরের সার্কভুক্ত দেশের নাগরিকদের ৩০০ টাকা ও অন্য বিদেশিদের টিকিটের মূল্য ৫০০ টাকা। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো বলছে, গত ১৩ নভেম্বর জুলাই গণ অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ জারি করে গেজেট প্রকাশ হয়।
“ওই অধ্যাদেশের ধারা-৩ অনুযায়ী এটি একটি স্বতন্ত্র ও পূর্ণাঙ্গ জাদুঘর হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে এ সংস্থাটির পরিচালনা পর্ষদ টিকিটের মূল্য যা প্রস্তাব করেছে, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় সে প্রস্তাবটিই অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। সূত্রগুলো আরও জানায়, গত ৩ ফেব্রুয়ারি ১৫ সদস্য বিশিষ্ট জুলাই গণ অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হয়। এর তিন দিন পর গত ৬ ফেব্রুয়ারি প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় স্মৃতি জাদুঘরের প্রবেশ ফি নির্ধারণ করে প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায়।”
Leave a Reply