চট্টগ্রাম নগরীতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী পণ্যের গায়ে উল্লেখিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। বিশেষ করে ওষুধের মতো সংবেদনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মূল্য অতিক্রম করে বিক্রি করা আইন ও নৈতিকতার পরিপন্থী। এছাড়া একটি ফার্মেসী পরিচালনার জন্য বৈধ ট্রেড লাইসেন্স, ড্রাগ লাইসেন্স এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন থাকা বাধ্যতামূলক।
এমন প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর থানাধীন দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের কলশী দিঘির পাড় রোডে কার্টুন ফ্যাক্টরী সংলগ্ন – মেসার্স ওয়ান ফার্মা নামের একটি ফার্মেসীর বিরুদ্ধে এমআরপি’র চেয়ে বেশি দামে ওষুধ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী একাধিক ক্রেতার অভিযোগ ও ভিডিও তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি Opsonin Pharma Limited-এর উৎপাদিত Lorix Plus 60 ml নামক একটি ওষুধের প্যাকেটে মূল্য ১১০ টাকা উল্লেখ থাকলেও ক্রেতার কাছ থেকে ১৫০ টাকা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট দোকানকর্মী উচ্চ কণ্ঠে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং ওষুধের দাম বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিভিন্ন অজুহাত তুলে ধরেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একই ওষুধ এমআরপি’র চেয়ে বেশি দামে বিক্রির ঘটনা পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে দোকানে কর্মরত ব্যক্তি কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
এছাড়া উক্ত ফার্মেসীটি বৈধ কাগজপত্র—যেমন ট্রেড লাইসেন্স, ড্রাগ লাইসেন্স ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন—সঠিকভাবে রয়েছে কিনা, তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী।
অপরদিকে বন্দর, ইপিজেড ও পতেঙ্গা এলাকার ওষুধ ফার্মেসী পরিচালনাকারী দোকান মালিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং অন্যান্য ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই ওষুধের গায়ে উল্লেখিত এমআরপি’র চেয়ে বেশি দামে বিক্রির সুযোগ নেই। তারা বলেন, এ ধরনের অনিয়ম সমগ্র ফার্মেসী ব্যবসার সুনাম ক্ষুণ্ন করে।
এ বিষয়ে সচেতন মহল মনে করছেন, ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রশাসনের নিয়মিত মনিটরিং ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফার্মেসীর বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply