ইরানে চলমান বিক্ষোভ ও অস্থির পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক আকাশপথেও। দুবাই ও ইরানের বিভিন্ন শহরের মধ্যে চলাচলকারী অন্তত ১৭টি ফ্লাইট শুক্রবার বাতিল করা হয়েছে। দুবাই বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যে এ তথ্য জানা গেছে।
বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে তেহরান, শিরাজ ও মাশহাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরের রুট রয়েছে।”
ফ্লাইদুবাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার ইরানগামী সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে ফ্লাইট বাতিলের সুনির্দিষ্ট কারণ তারা জানায়নি।”
একই দিনে তুরস্কের বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, টার্কিশ এয়ারলাইনস ১৭টি, আজেট ছয়টি এবং পেগাসাস এয়ারলাইনসও ইরানের কয়েকটি রুটে ফ্লাইট বাতিল করেছে। এ ছাড়া কাতারের দোহা ও তেহরানের মধ্যে নির্ধারিত অন্তত দুটি ফ্লাইটও বাতিল হয়েছে।”
এই ফ্লাইট বাতিলের পেছনে ইরানের সামগ্রিক পরিস্থিতি বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। গত মাসের শেষ দিকে তেহরান থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত ইরানের ৩১টি প্রদেশেই ছড়িয়ে পড়ে। হঠাৎ ইরানি রিয়ালের দরপতন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে প্রথমে ব্যবসায়ীরা আন্দোলনে নামেন। পরে তরুণদের বড় একটি অংশ এতে যোগ দেয়।”
বিক্ষোভ দমনে ইরানজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ বা সীমিত করা হয়েছে, যা বৃহস্পতিবার শুরু হয়ে শুক্রবার পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক অস্থিরতায় অন্তত ৩৪ জন বিক্ষোভকারী ও চারজন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন। গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুই হাজারের বেশি মানুষ।”
বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু অর্থনৈতিক সংকট নয়, বরং শাসনব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থার সংকটও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এখন আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থাতেও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
Leave a Reply