1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
২৮ বারের মতো বেইলি ব্রিজ ভেঙে স্লিপার নদীতে!  দুর্ভোগ চরমে - দৈনিক আমার সময়

২৮ বারের মতো বেইলি ব্রিজ ভেঙে স্লিপার নদীতে!  দুর্ভোগ চরমে

আলফাজ সরকার,গাজীপুর
    প্রকাশিত : শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
গাজীপুরের শ্রীপুরের মাটিকাটা নদীর উপর নির্মিত চৌধুরী ঘাট বেইলি ব্রিজটি আবারও ভেঙেছে। এবার ব্রিজের পাটাতন ভেঙে স্লিপার নদীতে পড়ে গেছে। এ নিয়ে ২৮ বারের মতো ভেঙেছে ব্রিজটি। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে হাজারো মানুষ।
শনিবার  (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালের দিকে উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের সোনাব গ্রামের চৌধুরীঘাট এলাকায় অবস্থিত ওই বেইলি ব্রিজের উত্তর পাশের প্রবেশ মুখের সবকট স্ট্রিলে স্লিপার খুলে যাওয়ার দৃশ্য চোখে পড়ে। এদিন সকাল থেকেই ভোগান্তিতে পড়েছে এই সড়কে চলাচলকারী হাজার হাজার কারখানার শ্রমিকসহ সাধারণ যাত্রীরা।
স্থানীয় লোকজন ও সড়কের যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার রাতে ও শনিবার সকালের যেকোনো সময় ব্রিজের স্লিপার খুলে মাটিকাটা নদীতে পড়ে যায়। একই সাথে ব্রিজের পাটাতন ভেঙে নিচে পড়ে গেছে। তাতে করে সড়কে চলাচলকারী অনেক পরিবহন আটকা পড়েছে। এতে জৈনা বাজার টু কাওরাইদ সংযোগ সড়কের সকল ধরনের যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এর আগেও ঝুকিপূর্ণ এই ব্রিজটি ২৭ দফায় ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এপর্যন্ত স্থায়ী সমাধান বা নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণের কোন উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করে চলেছে সব সময়। এতে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীরা পায়ে হেঁটে পারাপার হতে দেখা যায়। ১৫কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথে যাতায়াত করছে ছোটছোট পরিবহনগুলো। আটকা পড়েছে শত-শত শ্রমিক পরিবহনের বাস। এই সড়কে চলাচল করে পাশ্ববর্তী গফরগাঁও ভালুকা উপজেলার হাজার হাজার শ্রমিক।
আমির হোসেন নামে স্থানীয় একজন বলেন,’শনিবার রাতে চৌধুরী ঘাটের মাটিকাটা নদীর ওই ব্রিজের দুটি স্লিপার ভেঙে যায়। একটি স্লিপার খুলে মাটিকাটা নদীতে পড়ে যায়। সকাল থেকেই শত-শত গাড়ি আটকা পড়েছে। যাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে পায়ে হেঁটে ব্রিজ পার হয়ে ভোগান্তি নিয়ে কর্মস্থলে ফিরছে।’
ওই রাস্তায় নিয়মিত যাত্রী আবুল হাশেম নামের একজন বলেন,’ কিছুদিন পরপর এই ব্রিজ ভাঙে। আগেও স্লিপার খুলে নদীতে পড়েছে বহুবার। দুবার গাড়ি নদীতে পড়ছে তবুও ব্রিজের কাজ হচ্ছে না। নড়বড়ে ব্রিজ প্রায় সময় ভেঙে পড়ে। এ দুর্ভোগের শেষ কবে।’
আমান মিয়া নামের এক সিএনজি বলেন,’ সকালে কাওরাইদ বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রী নিয়ে এসে দেখি ব্রিজ ভাঙা। পিছনে বহু গাড়ি তাই পিছনে যেতেও পরছি না। আটকা পড়ে আছি ব্রিজে। এই ব্রিজটি অচল হয়ে যাওয়াতে ১৫ কিলোমিটা ঘুরে আমাদের চলাচল করতে হবে। কিন্তু ঐ সড়কটির অবস্থাও বেশি ভালো না। আমরা এখন কি করবো.?
শ্রীপুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. তাওহীদ আহমেদ বলেন,’ এ বিষয়ে সঙ্গে সঙ্গে খোঁজ খবর নিচ্ছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে বেইলি ব্রিজটি মেরামত করে স্বাভাবিক যানচলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।’
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও সজীব আহমেদ বলেন,’ ইতোমধ্যে উপজেলা প্রকৌশলীকে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসককেও নিরাপত্তার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ওই নদীতে নতুন ব্রিজ নির্মাণের সকল কার্যক্রম সম্পন্ন থাকলেও জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় নির্মাণ কাজ আটকে আছে। আশা করছি সকল জটিলতা নিরসনের মাধ্যমে ব্রিজটি নির্মাণ সম্ভব হবে।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com