1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
১৫ ইঞ্চি লম্বা বাম হাতের নখ - দৈনিক আমার সময়

১৫ ইঞ্চি লম্বা বাম হাতের নখ

অমর গুপ্ত, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
    প্রকাশিত : শনিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৫

শখের নখের প্রতি ভালোবাসা: দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে বাম হাতের নখ কাটেননি ফুলবাড়ীর অরুণ কুমার সরকার

ব্যতিক্রম শখের বসে দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে বাম হাতের নখ কাটেননি দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের উত্তর লক্ষ্মীপুরগ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ সরকারের ছেলে অরুণ কুমার সরকার (৪০) এবং পেশায় একজন ফটো স্টুডিও ব্যবসায়ী।

      শখ করে নখ রাখা এই সখ থেকেই নখের প্রতি ভালোবাসার টানে দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে বাম হাতের নখ কাটেননি এই অরুণ কুমার সরকার। দীর্ঘদিন ধরে নখ না কাটায় শুধু এলাকাতেই নয় পুরো উপজেলা জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্যের। লোকমুখে শুণে এক নজর অরুণ কুমারের হাতের নখ দেখার জন্য প্রতিদিনই ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ।

      ১৯৮৪ সালে জন্ম নেওয়া অরুণ কুমারের নখ রাখা নিয়ে প্রথম দিকে পিতা-মাতার আপত্তি থাকলেও পরে তারাও ছেলের সখের কাছে আর তেমন কোনো আপত্তি করেননি।

      অরুণ কুমার সরকারের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৩ সালে অরুণ কুমার চতুর্থ শ্রেণিতে অধ্যায়ণরত অবস্থায় এক সপ্তাহ ধরে নখ না কাটায় বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাকে নখ কাটার কথা বলেন। কিন্তু সে শিক্ষকদের কথায় কর্ণপাত না করে আরো একটু নখ বড় হলে কেমন লাগবে সেটি দেখার জন্য বাম হাত লুকিয়ে রাখতে শুরু করে। এতে নখের প্রতি প্রবল ভালোবাসা জন্ম নেয় তার। সেই ভালোবাসাকে চিরস্থায়ী রূপ দিতে অরুণ কুমার বাম হাতের নখ কাটাই বন্ধ করে দেন। তখন থেকেই নখ না কাটার যাত্রা শুরু হয় তার। এভাবেই দেখতে দেখতে কেটে গেছে দীর্ঘ ৩৩ বছর। নখগুলো এতোটাই বড় হয়ে গেছে যে, গাছের ডালের মতো আকা-বাকা হয়ে হয়ে রয়েছে।

      বর্তমানে অরুণ কুমারের বাম হাতের মধ্যমা আঙুলের নখ ১১ ইঞ্চি, অনামিকা ১৫ ইঞ্চি, কনিষ্ঠ ১৩ ইঞ্চি, বৃদ্ধাঙ্গুল দেড় ইঞ্চি এবং তর্জনি ২ ইঞ্চ লম্বা হয়ে রয়েছে।

      গ্রাম সম্পর্কে কাকাতো ভাই গৌতম কুমার রায় ও গ্রাম পুলিশ যোতিশ চন্দ্র রায়, অরুণ দীর্ঘদিন ধরে বাম হাতের নখ না কেটে রেখে দিয়েছে। আগে বিষয়টি ভালো না লাগলেও এখন নখগুলো দেখতে ভালোই লাগে।

      সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) নূর ইসলাম বলেন, অরুণ কুমারের হাতের নখ দেখলে নিজেও অবাক লাগে। এটি খুব ধর্য্যরে বিষয়। নখগুলো দেখতে ভালোই লাগে। লোকজনও দেখতে আসে তার নখ।

      উত্তর লক্ষ্মীপুর স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মাসুদ রানা বলেন, অরুণ কুমার উত্তর লক্ষ্মীপুর স্কুল এন্ড কলেজেরই প্রাক্তন ছাত্র। ছাত্র থাকা অবস্থাতেও সে নখ কাটতো না। শিক্ষকরা এনিয়ে তাকে বকাবকিও করতো। কিন্তু সে হাত লুকিয়ে রেখে ক্লাস করতো। এখন তো সে তার নখের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছে। তবে এটি সাধনার আর ধর্য্যরে বিষয়।

      এলাকার হোমিও চিকিৎসক লিয়াতক আলী বলেন, হাতের নখ বড় হলে নখের সঙ্গে রোগ জীবাণু শরীরে ঢুকতে পারে। এজন্য নখ না রাখাই ভালো। তবে যেহেতু অরুণ তার সখের নখ বড় করতে করতে এই পর্যায়ে এসেছে এ জন্য তাকে নখগুলোর পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর রাখা উচিত।

      হাতের নখের প্রসঙ্গে অরুণ কুমার সরকার বলেন, সখের বসেই নখ রাখা। প্রথম দিকে পিতা-মাতাসহ আত্মীয় স্বজন ও শিক্ষকরা বড় নখ নিয়ে আপত্তি করলেও পরে সবাই মেনে নিয়েছেন। লেখাপড়ার পাঠ চুকিয়ে ২০০৩ সালে বিয়ে করেন। বর্তমানে একছেলে ও এককন্যা সন্তানের জনক। ছেলের নামেই উত্তর লক্ষ্মীপুর বাজারে ‘কান্না ডিজিটাল ফটো স্টুডিও’ ব্যবসা রয়েছে। সেখানে ছবি তোলা, বিকাশে টাকা লেনদেন, ফ্লেক্সিলোডসহ ডিস সরবরাহ ব্যবসার আয় দিয়েই চলে তার জীবন-জীবিকা।

      অরুণ কুমার আরো বলেন, বড় বড় নখের জন্য আগে ব্যবসায়ীক কাজকর্মে অসুবিধা হলেও আর তেমন কোনো সমস্যা হয় না। নখগুলোর প্রতি প্রচন্ড ভালোবাসা রয়েছে তার। এ কারণে সে তার বেড়ে ওঠা নখ আর কোনোদিন কাটবেন না। কারণ নখগুলো তার গৌরবের বিষয় হয়ে গেছে। নখ আছে বলেই বিভিন্ন এলাকার মানুষ তাকে দেখতে আসে আর তার নাম ছড়িয়ে পড়েছে চতুর্দিকে। নখের জন্য তার ব্যাপক পরিচিতি হয়েছে। তবে নখগুলোকে টিকিয়ে রাখতে নিয়তিম পরিষ্কার করে যতœসহকারে কাজ করতে হয়।     উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মশিউর রহমান বলেন, নখ বড় হলে নখের ভেতর ময়লাসহ রোগ জীবাণু ঢুকে মানুসের বিভিন্ন ধরণের রোগ বালাইসহ স্বাস্থ্যহানীর ঘটনা ঘটতে পারে। এজন্য দীর্ঘদিন না কেটে নখ রাখা ঠিক না। বড় নখ উষ্ঠে গিয়ে আঙ্গুলের ক্ষতি হতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com