হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা ও অর্গানিক ফুড দ্বারা এ্যাজমা রোগ আরোগ্য সম্ভব।

ডাঃ এ আর খান
বর্তমান ডিজিটাল বিশ্বে এ্যাজমার অফুরন্ত কারণ বিদ্যমান। তাই আসুন এ্যাজমা রোগ প্রতিকার ও প্রতিরোধে আমাদের করণীয় কিছু তথ্য জেনে নেই। বর্তমানে খাদ্যের গুনগতমান একেবারেই শূন্যের কোটায়। প্রচলিত বাজারের খাদ্যের দিকে তাকালেই প্রতীয়মান হয় যেমন- মাছে ভেজাল, সবজিতে ভেজাল, খাদ্যে কীটনাশক, ফলে এন্টিবায়োটিক স্প্রে করা ইত্যাদি কারণে কিডনী রোগ, ফুসফুসে রোগ, এলার্জি ও ক্যান্সার জাতীয় মারাত্মক দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হতে দেখা যায়। তাই বিশ্বের শিক্ষিত ও সচেতন মানুষ রোগ ব্যাধির কথা চিন্তা করে অর্গানিক ফুডের প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছে। এটা এখন সময়ের দাবী প্রতিটি মানুষের উচিত অর্গানিক ফুড খাওয়া। আর আমরা যদি সকলের জন্য অর্গানিক ফুড এর ব্যবস্থা করতে পারি তাহলে এ্যাজমা রোগ বহুলাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। অর্গানিক ফুড হচ্ছে জৈব খাদ্য যা বিশুদ্ধতার রীতিতে রাসায়নিক সার, কীটনাশক ছাড়াই উৎপাদন করা হয়। যা ভোক্তার কাছে সংরক্ষণ পদার্থ (Preservatives) এবং কৃত্রিম খাদ্যের মূলশক্তি সংযুক্ত ছাড়ায় বিক্রয় করা হয়। স্বাস্থ্য পরামর্শকরা বিশ্বাস করেন যে, জৈবিক ভাবে উৎপাদিত খাদ্য বিকল্প স্বাস্থ্য সেবামূলক ব্যবস্থা যা নিরাপদ ও অধিক পুষ্টিগুন সম্পূর্ণ। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত অর্গানিক ফুড খাওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া।
শ্বাসকষ্ট কি ?
যদি কোন কারনে শ্বাস-নালীতে ইনফেকশন হয় এবং সাঁ সাঁ শব্দ করে নিঃশ্বাস ফেলাসহ কাশি হয়, বুক আটকা ভাব দেখা দেয় এবং কন্ঠস্বর পরিবর্তন হয়ে যায় তখন তাকে শ্বাসকষ্ট বা এ্যাজমা বলা হয়।
শ্রেণীবিভাগ:
শ্বাসকষ্টের শ্রেনীবিভাগকে আমরা দুইভাগে ভাগ করতে পারি
১. কারনগত শ্বাসকষ্ট, ২ .ক্লিনিক্যাল শ্বাসকষ্ট।
ক. কারনগত শ্বাসকষ্ট আবার দুই প্রকার।
১. Early Onset Asthma.
২. Late Onset Asthma.
খ. ক্লিনিক্যাল শ্বাসকষ্ট আবার চার প্রকার।
১. Episodic (acute) bronchial asthma. ২. Severe acute bronchial asthma.
৩. Chronic bronchial asthma. ৪. Exercise Induced asthma.
এতক্ষন আমরা শ্বাসকষ্ট শ্রেণীবিভাগ জানলাম এখন আমরা শ্বাসকষ্টের কারন জেনে নিব। হোমিওপ্যাথি দৃষ্টিকোন থেকে শ্বাসকষ্ট বা এ্যাজমা এর মূলকারণ হল সোরা এবং সাইকোসিস এর সাথে আনুসাঙ্গিক কারণ হিসেবে আমরা দেখতে পাই বংশগত কারণ, ফুসফুসের দুর্বলতা, বাতাসে অক্সিজেনের অভাব, ধুলাবালি, বিভিন্ন ফুলের পরাগরেনু, গৃহস্থালীর অতিক্ষুদ্র পদার্থ যেমন- কার্পেটের ক্ষুদ্র অংশ, গৃহপালিত পশুর লোম, তুলা, এলার্জি জাতীয় খাদ্য অতিরিক্ত ব্যায়াম, রক্তে ইসোনোফিল বৃদ্ধি, পরিবেশ যেমন- ঠান্ডা, স্যাঁতস্যাঁতে রুমে বসবাস, ঠান্ডা জলাভূমিতে বসবাস, টনসিল ও এডিনয়েড বড় হওয়া। বিভিন্ন ধরনের জীবানু সংক্রমন, বিভিন্ন ধরনের ঔষধ ইত্যাদি কারণে শ্বাসকষ্ট হয়ে থাকে।
শ্বাসকষ্টের লক্ষণাবলী
* সাঁ সাঁ শব্দসহ শ্বাস ফেলা * কন্ঠস্বর পরিবর্তন হয়ে যায় * শ্বাস ত্যাগের সময় অধিক কষ্ট হওয়া * প্রথমে শুষ্ক কাশি শুরু হয়ে পরে মিউকাসযুক্ত কাশি চলতে থাকে * সকাল বেলা এবং রাত্রে চটচটে শ্লেষ্মাযুক্ত কাশি * শিশুর বক্ষ প্রদেশে সংকোচন বোধ অনুভব করে *শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি দ্রুত হয় * শ্বাস-গ্রহণের সময় দুই খাচার মাঝ খানের অংশ ভিতরের দিকে ঢুকে যায় * শ্বাস গ্রহণের সময় গলার হাড়ের কাছে গর্তের সৃষ্টি হয় * প্রচন্ড শ্বাসকষ্টের সময় রোগী শরীরে বিভিন্ন স্থানে নীল হতে দেখা যায় * দীর্ঘদিন শ্বাসকষ্ট চলতে থাকলে কবুতরের বুকের মত বক্ষ প্রদেশ সামনের দিক উচঁ হয়ে যায়। ইত্যাদি লক্ষণ সমূহ যদি কোন মানুষের মধ্যে দেখা যায় তখন বুঝতে হবে মানুষটি শ্বাসকষ্ট বা এ্যাজমা দ্বারা আক্রান্ত।
রোগানুসন্ধান (Investigation)
আমরা এই শ্বাসকষ্ট সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য কিছু প্যাথলজীক্যাল পরীক্ষা করতে পারি। আসুন এবার শ্বাসকষ্ট হলে কি কি পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করতে পারি তা জেনে নেই-
* Blood * CBC, * X-ray of chest, * ECG, Echo, * Sputum Examination, * Blood Sugar, * KFT, * LFT ইত্যাদি পরীক্ষার মাধ্যমে শ্বাসকষ্ট সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
জঠিলতা (Complication):-
শ্বাসকষ্টের জটিলতা বলতে বুঝায়-এই রোগ থেকে আর কি কি রোগ হতে পারে বা সম্ভাবনা থাকে।
*এমফাইসিমা, * করপাল মোনাল, * নিউমোথোরাক্স, *সেকেন্ডারী ইনফেকশন, *রাইট হার্ট ফেইলিওর ইত্যাদি রোগের শ্বাস কষ্টের মত লক্ষণাবলি দেখা দিতে পারে।
ব্যবস্থাপনা (Management):-
ঔষধ- লক্ষণসদৃশ হোমিওপ্যাথি ঔষধ প্রয়োগ করতে হবে ।
শ্বাসকষ্ট প্রতিরোধের উপায়-
শ্বাসকষ্ট প্রতিরোধের জন্য পাঠকদের উদ্দেশ্যে বলব যারা শহরে বসবাস করে তাদের ঘরের ভিতরে ধুলাবালি যাতে প্রবেশ করতে না পারে সে ব্যবস্থা করে আলো-বাতাসপূর্ণ স্বাস্থ্যকর পরিবেশ থাকতে হবে। স্যাঁত স্যাঁত স্থানে থাকা উচিত নয়। যাদের ঘরে এসি আছে রুমের তাপমাত্রা ২৫-২৮ ডিগ্রী সেলিসিয়াস রাখা ভাল।
* যাদের ঘরে কার্পেট আছে তা সতকর্তার সাথে পরিষ্কার করবে।
* যারা টিনসেট ঘরে বসবাস করে অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা যাতে না লাগে সে দিকে খেয়াল রাখা।
* বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাহিরে না যাওয়া।
* যে সকল মানুষ গ্রাম-গঞ্জে বসবাস করে তাঁরা যেন রোদে-গরমে বেশি না যায়। খাল-বিল, পুকুরে বেশি না ডুবাই।
* যাদের এলার্জির সমস্যা আছে তাদেরকে এলার্জি জাতীয় খাদ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
উপদেশ (Advice) –
* রোগীকে চিকিৎসকের যোগাযোগের সন্নিকটবর্তী স্থানে অবস্থা করতে হবে
* রোগীকে ঠান্ডা লাগানো থেকে বিরত রাখতে হবে
* অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে এবং অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
* নিয়মিত মুক্ত বাতাসে ভ্রমন রোগীর জন্য হীতকর।
নিষেধ (Avoid):-
উত্তেজক খাবার যেমন- গরুর মাংস, হাঁসের মাংস, হাঁসের ডিম, ইলিশ মাছ, চিংড়ি, বোয়াল মাছ, বেগুন ইত্যাদি।
* যে সকল পদার্থ রোগ বৃদ্ধি করে তা পরিহার করতে হবে। * ব্যায়াম করা যাবে না।
* ভারীকাজ করা যাবে না। কঠোর পরিশ্রম করা যাবে না।
* শিশুদের কোন ঔষধ দেওয়ার পূর্বে অবশ্যই সতর্কতার সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ঔষধ সেবন করাতে হবে।
পথ্য – (Diet):-
* রোগীকে পুষ্টিকর স্বাভাবিক খাবার খেতে দিতে হবে। * রোগীকে প্রচুর পরিমান শাকসবজি খেতে দিতে হবে।
* রোগীকে পর্যাপ্ত ফল এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খেতে দিতে হবে। * রোগীর অবস্থা জটিল হলে অক্সিজেন দিতে হবে।