মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার চরাঞ্চলে ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে শত শত পরিবারের স্বপ্ন। এবছর মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে সেপ্টেম্বর মাঝামাঝি পর্যন্ত উপজেলার লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের হরিহরদিয়া, গঙ্গাধরদী, সেলিমপুর, জয়পুর ও উত্তর পাটগ্রামে শত শত বিঘা ফসলি জমির পাশাপাশি তিন শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। গত বছর হরিহরদিয়ার নটাখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গঙ্গাধরদীর পাঠানকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পদ্মায় হারিয়ে যায়। বর্তমানে ঝুঁকিতে রয়েছে নটাখোলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, নটাখোলা আফরোজা উচ্চ বিদ্যালয় ও লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনও।
পাটগ্রাম গ্রামের গৃহবধূ নার্গিস আক্তার বলেন, “অনেক কষ্টে টাকা জমাইয়া পাকা একটা ঘর দিছিলাম, সেই ঘড় ভাইঙ্গা রাখছি। যেকোন সময় বাড়ি পদ্মায় ভাইঙ্গা যাইবো। আমগো কিছুই থাকতেছেনা, কেউ চাইয়াও দেখতেছেনা।”
আহম্মদ আলী (৫৮) বলেন, ১০ বিঘা জমি আছিল, সব ভাইঙ্গা গেছে, আমগো কিছুই নাই”।
খালেক মৃধা (৭০) বলেন, আমগো সব শ্যাষ হইয়া গেলো” ঘড় বাড়ি, জমি, ফসল সব শ্যাষ, কেউ দেখতেছেনা, ভাঙন ফিরাইতেছেনা, বস্তা ফালায়তেছেনা।
লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, এ বছর লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের সাতটি মসজিদ, হরিহরদিয়া, গঙ্গাধরদী ও সেলিমপুর বাজার নদীগর্ভে চলে গেছে । এছাড়া আরও তিন শতাধিক বাড়িঘড়ও ভেঙে গেছে।
হরিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান খান বলেন, হরিহরদিয়া, সেলিমপুর, নতুন হাট, হরিনাঘাট, সুতালড়ী এলাকার ২০০ হেক্টরের মতো ফসলি জমি পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখতারুজ্জামান জানান, চরাঞ্চলের ভাঙন এলাকায় দ্রুত ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply