স্কুল শিক্ষার্থী পলিকে ধর্ষণের পর হত্যার বিচার দাবিতে সহপাঠীদের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

মোঃ খলিলুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার(চট্রগ্রাম): চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর এলাকায় স্কুল শিক্ষার্থী রেবেকা সুলতানা পলিকে ধর্ষণের পর হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে সহপাঠী ও নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা।
রবিবার (৬অক্টোবর) বিকেল সাড়ে তিনটায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে এ মানবন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন নগর ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর, ফাইট ফর উম্যান রাইটসের সভানেত্রী ও সাবেক কাউন্সিলর এডভোকেট রেহানা বেগম রানু, সুচিন্তা বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বায়ক জিনśাত সোহানা চৌধুরী, বাংলাদেশ বুদ্ধিস মহিলা দলের সভানেত্রী ও এমইএস কলেজের প্রভাষক অধ্যাপক ববি বড়–য়া, নগর ছাত্রলীগের সদস্য মো. পাভেল, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিম, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নগর সভাপতি রায়হান উদ্দিন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগের নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর মা জাহেদা আমিন চৌধুরী, মানবধিকার কর্মী আরিফুর রহমান, পলির ক্লাসমেট তামানśা ইসলাম প্রমুখ। এছাড়া মনববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন, নিহত পলির মা ছকিনা খাতুন ও বড় ভাই রাসেল রানা।
আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, পলিকে পরিকল্পিতভাবে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। যা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তারা এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সবাইকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার দাবি জানায়। পলির ময়না তদন্ত কিংবা সুষ্ঠু বিচার নিয়ে কোন কারসাজি হলে ছাত্র-ছাত্রীরা রাজপথে নামারও হুঁশিয়ারি দেয়।
টাকার বিনিময়ে মামলা তুলে নিতে দেয়া পুলিশের প্রস্তাাবকে দুর্ভাগ্যজনক বলে বক্তারা আরও বলেন, ১৪ লাখ টাকায় রফাদফা করার যে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, তা অন্যান্ত অনৈতিক প্রস্তাব। পুলিশ রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার পরও কিভাবে এমন প্রস্তব দেয়, তা কারাউ বোধগম্য নয়। তাই এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে চট্টগ্রামের ছাত্রসমাজ রাজপথে নামতে বাধ্য থাকবে।
নগর ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগির বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে ১৪ লাখ টাকার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা খুবই অনৈতিক একটি প্রস্তাব। শুনেছি- পলির ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পরিবর্তন করতেও প্রভাবশালীরা উঠে লেগেছেন। তাই আজকের এই মানববন্ধন থেকে বলতে চাই, সাহস নিয়ে কখনো এই কাজ করবেন না। এ কাজ করলে চট্টগ্রামের সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।
দয়াজ ইরফান চৌধুরীর মা জাহেদা আমিন চৌধুরী বলেন, আমার ছেলে হত্যার বিচার আজও আমি পাচ্ছিনা। বরং এখনো অনেকেই আমাকে বিভিনśভাবে ভায়ভীতি দেখায়। আজকে আমার মতো পলির মা ও তার ভাইসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে এসেছে। এভাবে আর কতদিন রাস্তায় নামতে হবে জানিনা। হত্যার বিচার চাইতে আমাদের কেন রাস্তায় নামতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি এসব বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। আর কোন মায়ের বুক যেন খালি না হয়, সে ব্যবস্থা করুন।
সাবেক কাউন্সিলর রেহানা বেগম রানু বলেন, মেয়েকে হারিয়ে আজকে পলির মায়ের বুকে আগুণ জ্বলছে। এ আগুন টাকা দিয়ে কখনো নিভানো যাবে না। টাকার অপার না দিয়ে পারলে পলিকে ফিরিয়ে দিন, জানি কখনোই পলিকে ফিরিয়ে দিতে পারবে না কেউ। আর কারও সাধ্যও নেই। আজকে বলতে চাই- পলির সুষ্ঠু বিচার নিয়ে কেউ যদি কারসাজি করে তাহলে চট্টগ্রামসহ সারা বাংলাদেশে পলির মায়ের বুকের আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হবে।
সুচিন্তা বাংলাদেশের বিভাগীয়র সমন্বায়ক জিনśাত সোহানা চৌধুরী বলেন, একটি মাসুম বাচ্চাকে ধর্ষনের পর হত্যা করা এটা নজিরবিহীন ঘটনা। গ্রেপ্তার অভিযুক্ত যেন আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বের না হতে পারে সে জন্য অবশ্যই নজর রাখতে হবে। আর এই ধর্ষকের পক্ষ নিয়ে কোন আইনজীবি আদালতে সুপারিশ না করে সে দাবিও করেন তিনি।
পলির মা ছকিনা খাতুন বলেন, আমাকে সারা রাত থানায় বসে থাকার পরও পুলিশ আমার অভিযোগ আমলে নেয়নি। পুলিশ বারবার বলছে আমার মেয়ে আতĄহত্যা করেছে। পলি কখনো আতĄহত্যা করতে পারে না। তাছাড়া তারা আমাকে ১৪ লাখ টাকার অপার দিচ্ছে। এই টাকা দিয়ে আমি কি করবো। টাকা তো আর আমাকে মা বলে ডাকবে না। আমি আমার মেয়েকে চাই। কেউ কি তাকে ফিরিয়ে দিতে পারবেন। আমি আমার মেয়ের হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।
সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের ছাত্র নেতা হারুনুর রশিদ হৃদয়ের সভাপতিত্বে ও ছাত্র নেতা সালাউদ্দিন এবং নুরুল আফসার রাফির সঞ্চালনায় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন কলেজের ছাত্র নেতা কাজী নাঈম, আনোয়ার পলাশ প্রমুখ। মানববন্ধনে চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীসহ ছাত্র রাজনৈতিক দলের ভিবিনś নেতা-কর্মীরাসহ সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, মানবধিকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।