1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
সুন্দরবনে প্রবেশ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার শেষ প্রান্তে, প্রহর গুনছে বনজীবীরা - দৈনিক আমার সময়

সুন্দরবনে প্রবেশ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার শেষ প্রান্তে, প্রহর গুনছে বনজীবীরা

সিরাজুল ইসলাম সাতক্ষীরা
    প্রকাশিত : রবিবার, ১০ আগস্ট, ২০২৫

সুন্দরবনে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা বন্ধের শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছেন বনজীবীরা এখন শুধু দিন গুনছে ৩১ শে আগস্টের জন্য ৩১ শে আগস্ট রাত বারোটা থাকে আবারো সুন্দরবনে প্রবেশের জন্য অনুমতি দেওয়া হবে বনজীবীদের সেজন্য অপেক্ষার প্রহর গুনছে বনজীবীরা। কেউ কেউ নৌকা জাল ছাড়াই করছে আবার কেহ কেহ ভিন্ন পেশায় চলে গেছিল ফিরে আসছে আবার বাড়িতে সুন্দরবনে প্রবেশের জন্য। তবে জুন জুলাই আগস্ট জানুয়ারি ফেব্রুয়ারি পাঁচ মাস সুন্দরবন প্রবেশ অধিকার নিষিদ্ধ করায় মানবেত জীবনযাপন করতে হচ্ছে বনজীবীদের সরকারিভাবে যে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয় তাতে অনেক বনো জিবি পরিবারের কিছুই হয় না সে কারণে বাধ্য হয়ে চুরি করে সুন্দর বনে পরিবেশ করে এবং মাছ কাকড়া আহরণ সহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। শ্যামনগর উপজেলায় প্রায় ২৪ হাজার নিবন্ধিত জেনে রয়েছে কিন্তু সরকারি সহায়তা পাচ্ছে মাত্র ৮ হাজার দিলে পরিবার ১৬০০০ দিলে পরিবার হতাশায়। যে ৮হাজার জেলে পরিবার সরকারি খাদ্য সহায়তা পাচ্ছে কিন্তু আরটেকসহতা কোথায় পাবে এটা নিয়ে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে চাউল যদি সরকার কিছু সহায়তা করছে কিন্তু সংসারের অন্যান্য খরচ কোথা থেকে যোগাবেগনজীবীরা সে কারণে বনজীবীদের দাবি খাদ্য সরকার সাথে আত্মিক সহতো ও দিতে হবে তা না হলে মনোযোগীদের মানবতার জীবনযাপন কাটানোর কোন উপায় নেই সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেল মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি মধুচিত্র রপ্তান এই প্রতিবেদককে বলেন শ্যামনগর উপজেলায় ২৪ হাজার নিবন্ধিত জেলায় পরিবার রয়েছে কিন্তু সরকারের খাদ্য সহায়তা বাড়ছে মাত্র 8 হাজার জেলে পরিবার আর ১৬ হাজার জেলে পরিবার বঞ্চিত হয়ে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে সে কারণে মিস্টার রাক্তন বলেন সরকারের সকল নিবন্ধিত জেলা পরিবারকে খাদ্যসহতা এবং আর্থিক সহায়তার আওতায় নিয়ে আসতে হবে তাহলে সুন্দরবনের অপরাধ কমে আসবে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জুন থেকে আগস্ট এই তিন মাস বনজীবীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বন বিভাগ। সিদ্ধান্তটি পরিবেশ রক্ষায় জরুরি হলেও এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল হাজারো পরিবারের ওপর। উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে জেলে, মৌয়াল, বাওয়াল ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট মানুষদের।

সাতক্ষীরার নদীঘেঁষা গ্রামগুলোতে এমন হাজারো পরিবার রয়েছে যাদের জীবন-জীবিকা পুরোপুরি নির্ভর করে সুন্দরবনের ওপর। কাঁকড়া, মাছ, গোলপাতা কিংবা মধু সংগ্রহ করেই চলে এসব পরিবারের জীবনযাপন। তবে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞায় তারা এখন কর্মহীন। অনেকটা ঘরবন্দি সময় কাটছে তাদের।
মুন্সিগঞ্জ এলাকার মৌয়াল শফিকুল গাজী জাগো নিউজকে বলেন, তিন মাস বন বন্ধ। অথচ সংসার তো থেমে নেই। সমিতির কিস্তি, তরিতরকারি, তেল, মসল্যা, ওষুধ সব কিছুরই খরচ আছে। সরকার থেকে ৫৫ কেজি চাল পেয়েছি। কিন্তু তাতে কতদিন চলা যায়? মহাজনের কাছ থেকে সুদে টাকা ধার নিয়ে চলতে হচ্ছে।
একই কথা বলেন জেলে হোসেন গাজী। তিনি বলেন, একদিন মাছ না ধরলে আমাদের খাবার জোটে না। নিষেধাজ্ঞা মানি, সুন্দরবন রক্ষা দরকার। কিন্তু আমাদের তো বেঁচে থাকতে হবে। সেটা কি কেউ ভেবেছে? সুন্দরবনের গহীনের অপরাধীরা ঠিকই অপরাধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বনে জেলে বাওয়ালি না থাকার সুযোগে হরিণ শিকার বেড়েছে। অনেকে চুরি করে বনে যাচ্ছে।

‘একদিন মাছ না ধরলে আমাদের খাবার জোটে না। নিষেধাজ্ঞা মানি, সুন্দরবন রক্ষা দরকার। কিন্তু আমাদের তো বেঁচে থাকতে হবে। সেটা কি কেউ ভেবেছে? সুন্দরবনের গহীনের অপরাধীরা ঠিকই অপরাধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।’
নিষেধাজ্ঞার কারণে শুধু বনজীবীরাই নয়, বিপাকে পড়েছেন পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্তরাও। সুন্দরবন ঘুরতে আসা পর্যটকদের ভরসা হয়ে থাকা শত শত ট্রলার, বোট, গাইড এখন অলস পড়ে আছে ঘাটে।
ট্যুর অপারেটর জাহাঙ্গীর হোসানের বলেন, গত এক মাস ট্রলারগুলো ঘাটে পড়ে আছে। ট্রলারে প্রতিদিন স্টাফ খরচ আছে। মেরামত না করতে করতে ট্রলারগুলোর অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। কারণ যাত্রী না এলে আয় হয় না, আর আয় না হলে মেরামত করবো কীভাবে?
স্থানীয়রা বলছেন, যখন সাধারণ বনজীবীদের প্রবেশ বন্ধ থাকে, তখন জঙ্গলের ভেতর সক্রিয় হয়ে ওঠে চোরাকারবারিরা। বন বিভাগের নজরদারি থাকা সত্ত্বেও দুর্বৃত্তদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায় এই সময়ে।

এ বিষয়ে এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, আমরা তো নিষেধাজ্ঞা মেনে ঘরে বসে আছি। কিন্তু শুনি এই সময়েই চোরা পথ দিয়ে অনেকে গাছ কাটছে, মাছ-কাঁকড়া শিকার করছে। এদের কেউ ধরে না।
‘তিন মাস বন বন্ধ। অথচ সংসার তো থেমে নেই। সমিতির কিস্তি, তরিতরকারি, তেল, মসল্যা, ওষুধ সব কিছুরই খরচ আছে। সরকার থেকে ৫৫ কেজি চাল পেয়েছি। কিন্তু তাতে কতদিন চলা যায়? মহাজনের কাছ থেকে সুদে টাকা ধার নিয়ে চলতে হচ্ছে।’
সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, সরকারি নির্দেশ মোতাবেক জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আমরা নিয়মিত টহল দিচ্ছি, স্পেশাল টিম ও স্মার্ট টিমের মাধ্যমে টহল কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বনের জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্যই এই ব্যবস্থা। বনজীবীদের প্রতি অনুরোধ, তারা যেন নিয়ম মেনে চলেন। কারও যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, প্রতিবছরই এই নিষেধাজ্ঞা আসে, কিন্তু নেই কোনো দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান পরিকল্পনা। শুধুমাত্র ৫৫ কেজি চাল দিয়ে তিন মাস চলা যায় না।
গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম জাগো নিউজকে জানান, সরকারিভাবে প্রথম পর্যায়ে এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে চাল এসেছে। সেগুলো জেলেদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। তবে এটি পর্যাপ্ত নয়, অনেক জেলে ও বনজীবী এই তালিকার বাইরে রয়েছে।
‘সুন্দরবনকে বাঁচাতে গিয়ে যদি সুন্দরবনের মানুষগুলো ধীরে ধীরে নিঃস্ব হয়ে যায় তবে সেই সংরক্ষণ নীতিই প্রশ্নের মুখে পড়ে। তাই শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, দরকার সমন্বিত, মানবিক এবং টেকসই পরিকল্পনা; যাতে বন বাঁচে, মানুষও বাঁচে।’
পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংগঠন সিডিও ইয়ুথ টিমের সভাপতি গাজী আল ইমরান জাগো নিউজকে জানান, সুন্দরবনের অস্তিত্ব রক্ষায় এই নিষেধাজ্ঞা জরুরি। তবে বনজীবীদের জন্য বিকল্প আয়ের পথ তৈরি না করলে তারা বাধ্য হয়ে নিয়ম ভেঙে বনাঞ্চলে প্রবেশ করতে পারেন, ফলে প্রকৃতি আবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সুন্দরবনকে বাঁচাতে গিয়ে যদি সুন্দরবনের মানুষগুলো ধীরে ধীরে নিঃস্ব হয়ে যায় তবে সেই সংরক্ষণ নীতিই প্রশ্নের মুখে পড়ে। তাই শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, দরকার সমন্বিত, মানবিক এবং টেকসই পরিকল্পনা; যাতে বন বাঁচে, মানুষও বাঁচে।
এ ব্যাপারে এই প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় পশ্চিম সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এজড এম হাসানুর রহমানের সাথে তিনি এই প্রতিবেদক কে বলেন যাদের টানে বি এল সি আছে শুধুমাত্র সরকার তাদেরকে খাদ্যসহতা দিচ্ছে বি এল সির বাইরে যে সমস্ত বনজীবীরা আছে বাজে ছেলেরা আছে তাদেরকে সরকার কোন খাদ্য সহতা দেয় না। তিনি আরো বলেন বি এল সি ধারের বাইরে যে সমস্ত বনোযোগী পরিবার আছে তাদেরকে চিহ্নিত করে আমরা সরকারকে খাদ্য সহতা সহ সার্বিক সহতার জন্য অনুরোধ করেছি বিষয়টি নিয়ে কি হচ্ছে সেটি জানতে আরো বিলম্ব হবে। তবে এবছর আর কোন নতুন বনজীবী পরিবার খাদ্য সহতা পাবে না আগামীতে কি হবে সেটি নির্ধারণ করবেন সরকারের উচ্চ পর্যায়ে। মিস্টার হাসান এই প্রতিবেদককে আরো বলেন সরকারের বাইরে তো আমরা কিছুই করতে পারি না সে কারণে প্রতিবছর পাঁচ মাস সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকে। আমরা সরকারের আইন বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি সরকারের জারি করা আইন অমান্য করে যারা সুন্দরবনে প্রবেশ করছে বা করবে তাদের বিরুদ্ধে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী আইনানুর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় বা হবে। তাই মিস্টার হাসান আরো বলেন আর সামান্য কয়েকদিন বাকি আছে সুন্দরবনে বৈধভাবে প্রবেশের জন্য সে কারণে বনজীবীদের কাছে মিস্টার হাসানের দৃষ্টি আকর্ষণ সামান্য সময়ের জন্য সরকারের আইন জানো কেহ অমান্য না করে। এ ব্যাপারে কথা হয় সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জার সহকারি রেঞ্জ কর্মকর্তা হাবিবুল ইসলাম এর সাথে তিনি এই প্রতিবাদককে বলেন সরকারের জারি করা নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য আমরা ওয়ান আর গার্ল সুন্দরবনে পাহারা জ্বালিয়ে যাচ্ছি ইতিমধ্য সরকারের আইন অমান্যকারী কিছু মনোযোগীদের আটক করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় বনাম মামলার দেওয়া হয়েছে। হাবিবুল ইসলাম আরো বলেন সামান্য সময় বাকি আছে সকল মনোযোগীদের প্রতি তার অনুরোধ সরকারের আইন মেনে চলার জন্য তা না হলে সরকারের আইন বাস্তবায়ন করার জন্য আমরা সদাই প্রস্তুত রয়েছি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com