1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
সুন্দরবনে প্রবেশের অপেক্ষার পালা শেষ প্রান্ত, আর মাত্র ‌সাত দিন পর উন্মুক্ত - দৈনিক আমার সময়

সুন্দরবনে প্রবেশের অপেক্ষার পালা শেষ প্রান্ত, আর মাত্র ‌সাত দিন পর উন্মুক্ত

সিরাজুল ইসলাম সাতক্ষীরা
    প্রকাশিত : শনিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৫

সুন্দরবনে প্রবেশের অপেক্ষার পালা শেষ প্রান্তে আর মাত্র ৭ দিন পর সুন্দরবনের প্রবেশ করবে জেলে বাওয়ালি ও পর্যটকরা। দীর্ঘ তিন মাস পর। এলা আগস্ট শু ‌থেকে উন্মুক্ত হচ্ছে সুন্দরবন সে কারণে বনজীবীরা আনন্দে উথফুল্লা ‍,,, দ্রুত গতিতে কেউ ছাড়াই করছে নৌকা কেহ ‌সারাই করছে জাল আবার কেহ মহাজনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে দাদন টাকার জন্য আবার কেহ বা ছুটছে মাছের আড়তে সুন্দরবনের যাওয়ার বাজার ঘাট করার জন্য আগাম টাকার জন্য,,, ‌সুন্দরবনের প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় টানা তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার পর রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে বনজীবী ও পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে। দীর্ঘ বিরতির পর সুন্দরবনের ভেতরে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোতে। এ দিন থেকে অনুমতি নিয়ে পর্যটক ও বনজীবীরা সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারবেন। ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছেন সুন্দরবনসংলগ্ন বনজীবী ও ট্যুর অপারেটররা।

দীর্ঘদিন পর আয়-রোজগারের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় সুন্দরবনকেন্দ্রিক পেশাজীবীদের মধ্য স্বস্তি ফিরে এসেছে। কেউ নতুন করে জাল বুনছেন, কেউ পুরোনো জাল মেরামত করছেন। আবার কোথাও চলছে নৌকা-ট্রলার প্রস্তুতের শেষমুহূর্তের কাজ।
বন বিভাগের তথ্যমতে, সুন্দরবনের জলভাগে ২১০ প্রজাতির সাদা মাছ, ২৪ প্রজাতির চিংড়ি, ১৪ প্রজাতির কাঁকড়া পাওয়া যায়। জুন থেকে আগস্ট এই তিন মাস প্রজনন মৌসুমে সুন্দরবনের নদী ও খালে থাকা বেশির ভাগ মাছ ডিম ছাড়ে। এ কারণে গত ১ জুন থেকে তিন মাসের জন্য জেলে ও পর্যটকদের সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বন বিভাগ। রবিবার থেকে সেই নিষেধাজ্ঞা উঠে যাচ্ছে।

সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী ‌ট্যুর অপারেটর মো. এমাদুল হোসেন এই প্রতিবেদককে বলেন ‌ ‘তিন মাস বন্ধ থাকার পর রবিবার থেকে সুন্দরবনে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়া হচ্ছে। ট্যুরিস্টদের জন্য আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। বুকিং পেলে রবিবার থেকে ট্যুরিস্টদের নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারব। দেশের বিভিন্ন স্থানের বন্যার প্রভাব আমাদের মোংলায়ও পড়বে। কেননা, যারা ভ্রমণে আসবেন তাদের অনেকেই এখন বন্যার কবলে। তাই গতবারের তুলনায় এবার যাত্রীর আশঙ্কা খুবই কম।’
বনজীবী মাছুম বলেন, ‘আমাদের এলাকার বহু মানুষ সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। সুন্দরবনে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় ইতোমধ্যে স্থানীয় জেলেরা বন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাস নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছেন। রবিবার ভোরেই আমরা সুন্দরবনের উদ্দেশে রওনা হব।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মো. নূর আলম শেখ বলেন, ‘দীর্ঘ তিন মাস বন্ধ থাকার পর ১ সেপ্টেম্বর খুলছে সুন্দরবন। এ সময় যেন কোনো বন্যপ্রাণী হত্যা না হয়। সুন্দরবনের খালে বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন না হয়। আশা করি, চোরাকারবার বন্ধ রাখতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকবে।’
পশ্চিম ‌সুন্দরবনের কদমতলা স্টেশনের ‍কর্মকর্তা সোলায়মান হোসেন এই প্রতিবেদককে বলেন বলেন, ‘বনের প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষা, বন্যপ্রাণী এবং নদী-খালে মাছের বিচরণ ও প্রজনন কার্যক্রমের সুরক্ষায় প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। আগামী রবিবার নিষেধাজ্ঞার সময় শেষ হবে। রবিবার থেকে বনজীবী ও ট্যুরিস্টরা নিয়ম মেনে অনুমতিসাপেক্ষে সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারবেন। আমরা বনজীবী ও ট্যুরিস্টদের সব ধরনের সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছি।’
সুন্দরবনের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ এই প্রতিবেদককে ‌বলেন, ‘সুন্দরবন জল-স্থলভাগ শুধু জীববৈচিত্র্যেই নয়, মৎস্যসম্পদের আধার। সে কারণে প্রথমে সুন্দরবনের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় ইন্ট্রিগ্রেটেড রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট প্ল্যানিংয়ের সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৯ সাল থেকে প্রতি বছর ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনের সব নদী ও খালে মাছ আহরণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে ২০২২ সাল থেকে মৎস্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে এক মাস বাড়িয়ে ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সময় বৃদ্ধি করে বন মন্ত্রণালয়। এ সময় সুন্দরবনের সব নদী ও খালে মাছ ধরা বন্ধের পাশাপাশি পর্যটক প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।’
এ বিষয়ে কথা হয় পশ্চিম সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাসানুর রহমানের সাথে তিনি এই প্রতিবেদকে বলেন দীর্ঘ ৩ মাস পর পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনে বনজীবী ও পর্যটকরা প্রবেশ করতে পারবেন সরকারের বেদে দেওয়া তিন মাসের নিচে থাকা শেষ হওয়ার পথে আর মাত্র সাত দিন বাকি আছে। তবে তিনি আরো বলেন সুন্দরবনে পরিবেশের অনুমতি দিলেও অপরাধীদের দূরত্ব বাড়তে পারে সে কারণে বনবিভাগ সহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সব সময় তৎপর থাকবে যাতে কোন প্রকার অপরাধ সংগঠিত না হয়। পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনে বনজীবীদের পাস দেওয়ার সময় প্রত্যককে নির্দেশনা দেওয়া হবে হরিণ শিকার বিষ দিয়ে মাছ শিকার ভেসালিরাল ঘাইজাল কল জাল বুড়ো ভাসালি এই সমস্ত জাল কোন প্রকার সুন্দরবনে প্রবেশ করা যাবে না এ ধরনের অপরাধ কাউকে দেখলে বা ধরতে পারলে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন এ ব্যাপারে পূর্ব পশ্চিম সুন্দরবনের সকল স্টেশন ও টহল ফাঁড়িতে আগামনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তাছাড়া কোস্ট গার্ড ‌নৌবাহিনী নৌ পুলিশ সব সময় প্রস্তুত রয়েছে অপরাধ করলে সে যত বড় শক্তিশালী হোক না কেন যে দলে দিলেই লোক হোক না কেন অপরাধী কাউকে ক্ষমা করা হবে না।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com