সাম্প্রদায়িকাতে তারা প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলর: নওফেল

শিপন পাল, কক্সবাজার সদর প্রতিনিধি: শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, ‘কক্সবাজারে দীর্ঘদিন ধরে এই রাজনৈতিক অপশক্তি নানান অপপ্রচার করে আমাদের সবার মাঝে একটা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে এসেছে। আমাদের হাজার বছরের কৃষ্টি, সংস্কৃতি, আমাদের সনাতন ধর্ম, আমাদের বৌদ্ধ ধর্ম, আমাদের খ্রিস্টান ধর্ম, আমাদের ইসলাম ধর্ম একই সাথে, একই ছায়াতলে আমরা বসবাস করেছি। এগুলো পরিবর্তন করার জন্য এই কক্সবাজার চট্টগ্রাম এবং সাতক্ষিরা সহ আরও অনেক জায়গায় তারা এ অপরাধগুলো করত। এখন সময় এসেছে, বর্তমান সরকার দুই মেয়াদে ক্ষমতায় এসে এই রাজনৈতিক অপশক্তির লেজ কেটে দিয়েছে। এই রাজনৈতিক অপশক্তির পাঠ চুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে। সকল সম্প্রদায়ের সমান সমান অধিকারের প্রশ্নে রাষ্ট্র অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু এটা একটা চর্চ্চার বিষয়, দীর্ঘ মেয়াদে প্রতিষ্ঠিত করবার বিষয়। এই বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষতাকে, অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে করতে হলে সবাইকে নিজের ব্যক্তি জীবনে রাজনৈতিক জীবনে সব সময় সোচ্ছার থাকতে হবে।’

গত ৭ ফেব্রæয়ারি শনিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরীর শহীদ দৌলত ময়দানে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ কক্সবাজার জেলা শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিলের প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এসব কথা বলেন।

এসময় ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দকে গঠনমূলক ভ‚মিকা রাখতে হবে। সরকার, প্রশাসন সকল প্রতিষ্ঠানের সাথে আলোচনা-সমালোচনা করবার জন্য তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখতে হবে। সকলের সাথে আলোচনার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে আমরা অনেক কিছু অতিক্রম করতে পারি। তাই যেকোন মূল্যে সরকারের সাথে এবং প্রশাসনের সাথে সমস্যা সমাধানের পথ খোলা রাখতে হবে। তাহলে যেকোন সমস্যা সমাধানের দীর্ঘমেয়াদী একটা সমাধান পাব।

রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে উপমন্ত্রী বলেন, পাশ্ববর্তী দেশ থেকে এখানে যারা আশ্রয় পেয়েছেন সেই রোহিঙ্গা জনগোষ্টীর কারণে কক্সবাজারের সাধারণ মানুষের কষ্ট হচ্ছে আমরা জানি। আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে, মৌলবাদী গোষ্টী যেন রোহিঙ্গাদের জঙ্গীবাদের পরিণত করতে না পারে। তা না হলে রাষ্ট্র এখানে হুমকির সম্মুখীন হবে। আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে, রোহিঙ্গাদের যাতে তারা কোন ধরণের জঙ্গীবাদী প্রশিক্ষণে স¤পৃক্ত করতে না পারে।

সাম্প্রদায়িকতা সম্পর্কে নওফেল বলেন, বঙ্গবন্ধু নিজে বলেছেন একজন সাম্প্রদায়িক ব্যক্তি নর্দমার কীটের চাইতেও খারাপ। সব চাইতে খারাপ মানুষটি হচ্ছে যে সাম্প্রদায়িক মানুষ। যে মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ দেখে, সেই ভেদাভেদের ভিত্তিতে হানাহানিতে উস্কানি দেয়, তারা হচ্ছে সবচাইতে খারাপ মানুষ। বঙ্গবন্ধুর মতো এমন একজন নেতার নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন করে আমাদেরকে কেন আজ অধিকারের প্রশ্নে কাজ করতে হয়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম লালিত হয়েছে হানাহানি শিখিয়ে। প্রাতিষ্ঠানিক থেকে বই পুস্তকে পর্যন্ত তারা এই হানাহানি, সাম্প্রদায়িকাতে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিল। তাই বলছি, হানাহানি বাদ দিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে সকলকে রাষ্ট্রীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হতেহ হবে।

সড়ক সংস্কারে রাখাইন সম্প্রদায়ের জমি ছেড়ে দেওয়া নিয়ে দাবির উদ্দেশ্যে উপমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারে রাখাইন সম্প্রদায়ের দাবি আমি জেনেছি। এবিষয়ে প্রশাসনের উদ্দেশ্যে আমি বলবো আমাদের জনপ্রতিনিধি সাথে আলোচনা করে একটা সুরাহা অবশ্যই করতে হবে। জোর-জবরদস্তি করে এটির কোন সুরাহা হবে না। ন্যায্য সকল দাবি নিয়ে কোন একটা বিকল্পে পথে এই সমস্যার সমাধান করা যায় সেই পরিকল্পনা করতে হবে। তাহলেই সুষ্ঠু একটি সমাধান পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, কক্সবাজার জেলা শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিল উদ্বোধন করেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি উষাতন তালুকদার। জেলা হিন্দু বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি এডভোকেট পীযুষ কান্তি চৌধুরীর সভাপতিত্ব অনুষ্ঠিত সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার-রামু আসনের সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল, চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সাংসদ জাফর আলম, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক, জেলা জাসদের সভাপতি নঈমুল হক চৌধুরী টুটুল, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক উত্তম কুমার চক্রবর্তী, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান মহিলা ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মধুমিতা বড়–য়া, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক শ্যামল পালিত, গণসংযোগ সম্পাদক বিজয় কুমার বড়–য়া, আদিবাসী বিষয়ক সম্পাদক শরৎ জ্যোতি চাকমা, সহ-সম্পাদক সুপ্ত ভূষন বড়–য়া, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের (চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা) সাধারণ সম্পাদক তাপস কুমার হোড়। এছাড়াও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সাবেক সাংসদ অধ্যাপিকা এথিন রাখাইন, ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘু সংগঠন সমূহের ঐক্য মোর্চা কক্সবাজার শাখার আহŸায়ক এডভোকেট রনজিত দাশ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি মন্ডলীর সদস্য উদয় শংকর পাল মিঠু প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক প্রিয়তোষ শর্মা চন্দন।