সাতক্ষীরা শ্যামনগর মহাসড়কটির বেহাল দশা শিরোনামে খবরটি বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেকট্রিক মিডিয়ায় প্রকাশিত হওয়ায় সর্বশেষ মুখ খুলল সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ তিনি এই প্রতিপাদককে বলেন সাতক্ষীরা শ্যামনগর মহাসড়কের কাজ অক্টোবারে শুরু হবে । তিনি আরো বলেন এখন ভরা বর্ষাকাল সে কারণে জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মালামাল সরবরাহ করতে পারছে না সে কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমার সাথে কথা বলেছেন অক্টোবরে তারা এই বেহাল সড়কটির কাজ শুরু করবেন ।তিনি আরো বলেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সরকারের বেদে দেওয়া ধার্য সময়ের মধ্য কাজ শেষ করতে হবে এটা আমরা বাধ্যতামূলক করাতে চাপ প্রয়োগ করব নির্দিষ্ট টাইমে কাজ শেষ না করলে ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সাতক্ষীরার আঞ্চলিক মহাসড়ক, সাতক্ষীরা থেকে শ্যামনগর পর্যন্ত সড়ক দীর্ঘ এক যুগেও সংস্কার হয়নি। ফলে চারটি উপজেলার প্রায় ১৫ লাখ মানুষ এই সড়কের বেহাল দশার কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন। বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে নানা পরিবহনও নষ্ট হচ্ছে। এর ফলে সুন্দরবনে পর্যটক আগমন কমছে, যা রাজস্ব আয়েও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ব্যবসা-বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার পাঁচটি প্যাকেজের মাধ্যমে অক্টোবর মাস থেকে এই সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করবে।
‘সাতক্ষীরার আকর্ষণ, সড়ক পথে সুন্দরবন’ স্লোগান থাকা সত্ত্বেও সাতক্ষীরা-শ্যামনগর সড়কের বেহাল দশা চলছেই। আগের সরকারের সময় একবার এই সড়কটি একনেকে পাস হয়েছিল, তবে এরপর আর কোনো উন্নতি হয়নি। ফলে সড়কটিতে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বৃষ্টির কারণে খানাখন্দ এত বড় হয়েছে যে, সড়কটি চলাচলের জন্য একেবারেই অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
দেশের সবচেয়ে বড় উপজেলা শ্যামনগর ও সুন্দরবনের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ঠিক রাখতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ, আলিপুর বাজার, আলিপুর শ্মশান, কুলিয়া সহ আঞ্চলিক মহাসড়কের ১৬টি স্থানে ইটের সোলিং করে চলাচলের ব্যবস্থা নিয়েছে। পাকা রাস্তার ওপর ইটের সোলিং করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক বলছেন অনেকেই।
স্থানীয়রা জানান, সড়কের অধিকাংশ স্থানে পিচ উঠে গিয়ে খানাখন্দে পরিণত হওয়ায় গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে প্রতিদিনই। শুধু ইজিবাইক নয়, বাস ও ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহনও ক্ষতির সম্মুখীন।
চালকরা জানান, যাত্রীসংখ্যা কম থাকায় তারা ক্ষতিপূরণের জন্য মালিকের কাছে দায়ভার নিতে পারছেন না। এছাড়া যাতায়াত কম হওয়ায় পরিবহনের আয়ও কমেছে, যা চালক ও পথচারীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক আজাদ বেলাল হোসেন বলেন, ‘সাতক্ষীরার আকর্ষণ ‘সড়ক পথে সুন্দরবন’ হলেও চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন জেলার চারটি উপজেলার মানুষ। এর ফলে সরকার পর্যটক থেকে রাজস্ব হারাচ্ছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
তবে জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার পাঁচটি প্যাকেজে ভাগ করে এই সড়কের সংস্কার কাজ আগামী অক্টোবরে শুরু করবে।
সড়ক জনপদ বিভাগের দেয়া তথ্য মতে, সাতক্ষীরা-শ্যামনগর আঞ্চলিক মহাসড়কের ৬২ কিলোমিটার রাস্তা ৫টি প্যাকেজে ৫৬৫ কোটি টাকার টেন্ডার পাস হয়েছে। একটি প্রক্রিয়াধীন সহ চারটি টেন্ডার হয়ে গেছে। বর্ষার পর কাজ শুরু হবে।
Leave a Reply