জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে দেশের পরিবেশ-প্রকৃতিতে পরিবর্তন এখন দৃশ্যমান। বিশেষ করে উপকূলে জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততায় অনেক দেশজ শাকসবজি, লতা ও ভেষজ উদ্ভিদ এখন বিলুপ্তির মুখে।
বৃহস্পতিবার এসব বিরল শাক-লতা নিয়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ব্যতিক্রমী মেলার আয়োজন করা হয়। সকাল থেকে চণ্ডীপুর দুর্গামন্দির মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী মেলায় স্থান পেয়েছে ১৩১ প্রজাতির বিরল, বিলুপ্তপ্রায় ও অচাষকৃত লতাপাতা-শাক। এর মধ্যে আছে– হলুদের ফুল, মুক্ত ঝুরি, নিমপাতা, উলো গাছ, কেশে, ষষ্ঠী বট, খুত কৃমি, কালো কচু, ব্রাহ্মী শাক, সাদা অপরাজিতা, পিপুল শাক, থানকুনি, অর্জুন ছাল, তেলা কচু, হেলেঞ্চা, সবুজ শাপলা, সাদা শাপলা, ঢেপ, ঘেটকুল, জার্মানি লতা, ওড়ল পাতা, আলুপাতা, শান্তি শাক, পাথরকুচি, বন টমেটো, গিমে শাক, শিউলি পাতা, বন মুলা, হাতি শুঁড়, ঘুম শাক ইত্যাদি।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ-বারসিক এ আয়োজন করে। এতে স্থানীয় কৃষক, কিষানি, পরিবেশকর্মী ও সংগঠকরা অংশ নেন। মেলায় স্টল ছিল ১২টি, যা ঘুরে দেখেন দর্শনার্থীরা।
নানা গুণে সমৃদ্ধ এসব শাক, লতাপাতা। শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মিলন হোসেন বলেন, নিমপাতার রস চর্মরোগের জন্য উপকারী। পেট পরিষ্কার করে। ধৃতকুমারী গ্যাস্ট্রিক কমায়। মেয়েরা এটাকে চুল ও ত্বকের প্রসাধনী হিসেবে ব্যবহার করে। পিপুল শাক শরীরের ব্যথা উপশমে কাজ করে। থানকুনি শাক ডায়েরিয়া ও আমাশয় আক্রান্তদের জন্য দরকারি। হলুদের ফুল অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এ ছাড়া ব্যথা উপশমে এটি সক্রিয়। পিপুল শাক শরীরের ব্যথা উপশমে কাজ করে।
কৃষি কর্মকর্তা এনামুল হোসেন জানান, হলুদের ফুল, মুক্ত ঝুরি এখন বিলুপ্তপ্রায়। উলো গাছ কমে যাচ্ছে। এ ছাড়া ষষ্ঠী বট, খুত কৃমি কমে গেছে। এ ধরনের মেলা বা প্রদর্শনী কিষান-কিষানিদের এগুলোর চাষাবাদে উৎসাহিত করবে।
মেলায় সর্বোচ্চ ১৩১টি শাক ও লতাপাতা প্রদর্শন করে প্রথম স্থান অধিকার করেন লতিকা রানী। ১১৫টি শাক প্রদর্শন করে দ্বিতীয় হন শম্পা রানী ও ১০০ শাক প্রদর্শন করে তৃতীয় হন কল্পনা রানী।
প্রধান অতিথি কৃষি কর্মকর্তা মো. আহসানুল্লাহ বলেন, লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড় ও পরিবেশগত ঝুঁকির কারণে বহু দেশজ প্রজাতি হারিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের মেলা এসব গাছপালা সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়াবে। অনুষ্ঠানের সভাপতি কৃষক দিলীপ তরফদার বলেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষরা যে লতাপাতা ও শাক দিয়ে চিকিৎসা করতেন, সেগুলোর অনেকটিই এখন আর দেখা যায় না। এগুলো আবার চাষাবাদ ও ব্যবহারিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে চাই।’
মেলায় আরও উপস্থিত ছিলেন গ্রিন কোয়ালিশন শ্যামনগর পৌরসভার সভাপতি কৃষ্ণেন্দু মুখার্জি, সাধারণ সম্পাদক কিরণ শংকর চট্টোপাধ্যায়, কিষানি নূপুর। উপস্থিত ছিলেন বারসিকের সহযোগী কর্মসূচি কর্মকর্তা প্রতিমা চক্রবর্তী, সঞ্চালনা করেন লিপিকা গাইন।
Leave a Reply