বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তঘেঁষা সাতক্ষীরা জেলা প্রাকৃতিক সম্পদ, কৃষি, মৎস্য ও মানবসম্পদের কারণে দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। চিংড়ি রপ্তানি থেকে শুরু করে কৃষিক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তি প্রয়োগ, সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্প ও বিদেশে কর্মরত জনশক্তির রেমিট্যান্স—সবকিছু মিলিয়ে এই অঞ্চল দেশের অর্থনৈতিক ভান্ডার হিসেবে বিবেচিত।
কিন্তু একইসঙ্গে সাতক্ষীরা দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বরাদ্দের ক্ষেত্রে উপেক্ষিত হয়ে আসছে। রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাতক্ষীরা জেলা উন্নয়ন সমন্বয় ফোরামের উপদেষ্টা আফসার আলী, আহ্বায়ক ইকবাল মাসুদ, সদস্য মোস্তফা বকুলুজ্জামান, এস এম মেহেদী হাসানসহ অন্য সদস্যরা অভিযোগ করেন, নানা সংকট ও সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও জেলাটি প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাচ্ছে না।
বদরুদ্দীন উমরের মৃত্যুতে তারেক রহমান ও মির্জা ফখরুলের শোক
নেতৃবৃন্দ জানান, সাতক্ষীরায় প্রতিবছর হাজার কোটি টাকার মাছ ও চিংড়ি রপ্তানি হয়, যা বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের বড় উৎস। জেলার লবণাক্ততা–সহিষ্ণু কৃষি প্রযুক্তি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সুন্দরবনের অবস্থান পর্যটনশিল্পকে এগিয়ে নিতে পারে, আর বিদেশে কর্মরত মানুষ রেমিট্যান্স পাঠিয়ে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছেন। তবুও সাতটি উপজেলার বহু এলাকায় দুর্বল অবকাঠামো, জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন ও কর্মসংস্থানের ঘাটতি বড় সমস্যা হয়ে আছে।
তারা বলেন, ‘আমরা সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানাচ্ছি, সাতক্ষীরার জন্য একটি আলাদা উন্নয়ন প্যাকেজ ঘোষণা করা হোক। যা হবে টেকসই, বাস্তবমুখী ও মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলার উপযোগী।’
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জেলার উন্নয়নকে ঘিরে পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি, মৎস্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ অবকাঠামোতে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া জরুরি। একইসঙ্গে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সহযোগীদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।
ফোরাম জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, লবণাক্ততা, নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতায় জেলার অর্থনীতি বড় ধাক্কা খেয়েছে। কৃষি ও মৎস্য খাত—যা সাতক্ষীরার প্রধান উৎপাদনভিত্তি—আজ চরম সংকটে। সীমান্তঘেঁষা জেলা হওয়ায় নিরাপত্তা ও পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়নও জরুরি হয়ে পড়েছে।
বদরুদ্দীন উমরের মৃত্যুতে তারেক রহমান ও মির্জা ফখরুলের শোক
১. সাতক্ষীরার জন্য বিশেষ উন্নয়ন বরাদ্দ ঘোষণা।
২. দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় পানি, পরিবেশ ও কৃষি ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়ন।
৩. সড়ক, রেল ও ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ প্রকল্প।
৪. প্রত্যন্ত অঞ্চলে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা সুবিধা।
৫. তরুণদের কর্মসংস্থানে শিল্প ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন।
৬. উপকূলীয় এলাকায় নদীভাঙন ঠেকাতে টেকসই বাঁধ নির্মাণ।
৭. সুন্দরবন রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ।
Leave a Reply