1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
সাতক্ষীরায় বানিজ্যিক ভাবে পালন হচ্ছে ছাগল, অর্থনৈতিক গুরুত্ব বেড়েই চলেছে - দৈনিক আমার সময়

সাতক্ষীরায় বানিজ্যিক ভাবে পালন হচ্ছে ছাগল, অর্থনৈতিক গুরুত্ব বেড়েই চলেছে

সিরাজুল ইসলাম সাতক্ষীরা
    প্রকাশিত : সোমবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৫

ছাগল আমাদের দেশের অতি পরিচিত এবং গুরুত্বপূর্ণ পশু সম্পদ। গৃহপালিত প্রাণি হিসেবে ছাগল পালন এবং লালন গ্রাম বাংলার চিরায়ত চিত্র। এক সময় দরিদ্র জনগোষ্ঠির একটি অংশ আর্থিক স্বচ্ছলতার কারনে ছাগল পালন (পোষা) করলেও সময়ের ব্যবধানে আর বাস্তবতার নিরিখে বানিজ্যিক ভাবে ছাগল পালন হচ্ছে। সাতক্ষীরার বাস্তবতায় বৃহৎ জনগোষ্ঠী ছাগল পালনে নিজেদেরকে নিয়োজিত করেছেন, বানিজ্যিক ভাবে গড়ে উঠেছে ফার্ম। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘরে ঘরে ছাগল পালন না হলেও পাড়ায় পাড়ায় ছাগল পালন, রীতিমত উৎসবের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। ছাগল পালনে আর্থিক ভাবে স্বচ্ছলতার ক্ষেত্র যেমন নিশ্চিত হচ্ছে অনুরুপ ভাবে সাফল্য দেখছেন ছাগল পালনকারীরা। সাতক্ষীরায় ছাগল পালন বর্তমান সময়ে আলোচিত আর সাফল্যজনক মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এক সময় মহিলাদের মাঝে এই প্রানি লালন পালনের বিষয়টি বিশেষ ভাবে পরিলক্ষিত হলেও বর্তমান সময় গুলোতে বেকার যুবকদের মাঝে ছাগল পালনের ক্ষেত্র বিস্তৃত হয়েছে। বানিজ্যিক ভিত্তিতে খামারে পঞ্চাশ হতে শতাধিক ছাগল পালন করা হলেও গ্রামীন জনপদে উলে­খযোগ্য সংখ্যক বাসাবাড়ীতে ৫টি, ৭টি আবার কারোর কারোর বাড়ীতে ১টি ২টি ছাগল। অতি দ্রুতবর্ধনশীল ও বংশ বিস্তার কারী এই প্রানি লালন পালনে অপেক্ষাকৃত খরচ অনেক কম এবং লাভ বেশী। রোগ বালাই এর ঘটনাও অনেকাংশে কম। ছাগল ক্রয়ে অনেক বেশী অর্থের প্রয়োজন হয় না। খাদ্য ও কম, প্রাকৃতিক উপায়ের খাবার ঘাসই বেশী পছন্দের একই সাথে সুঠাম, স্বাস্থ্যবান ছাগলের জন্য কাচা ঘাস অতি প্রয়োজনীয়। জেলার দেবহাটার পারুলিয়ার ছাগল পালনকারী রমিছা খাতুন জানান সে গত দুই বছর পূর্বে তিন হাজার টাকা দিয়ে একটি বকরি ছাগল ক্রয় করেন একটি ছাগল নিয়েই তার ছাগল পালন শুরু বর্তমানে ১৫টি ছাগলের মালিক তিনি, ছাগলের বংশ বিস্তরের বিষয়ে তিনি বলেন বছরে দুই বার ছয় মাস পর পর ছাগল বাচ্চা প্রসব করে। দুইটা হতে তিনটি পর্যন্ত বাচ্চা দিয়ে থাকে ছাগল। অনেকে ছাগল পালনে এগিয়ে আসছে আগ্রহী হচ্ছে। ছাগলের অর্থনৈতিক মূল্য দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে ছাগলের মাংস, কালো ছাগলের চামড়া অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে। ছাগলের দুধের চাহিদার শেষ নেই। য²া ও হাঁপানী রোগের মহাষৌধ হিসেবে ছাগলের দুধের সুখ্যাতির শেষ নেই। সাধারনত ১২ হতে পনের মাসের মধ্যে ছাগল প্রথম বাচ্চা দিয়ে থাকে। কোন কোন ক্ষেত্রে ৯/১০ মাসেও ছাগল গর্ভবতি হয়ে থাকে। বর্তমান বাজার ব্যবস্থায় ছাগলের মাংস (খাসি) কেজি প্রতি এক হাজার টাকা কোন কোন ক্ষেত্রে কম বেশী, বিধায় ছাগলের বংশ বিস্তার যেমন দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে অনুরুপ ভাবে মাংস ব্যবসায়ীরা গ্রামে গ্রামে ঘুরে ছাগল ক্রয় করছে। সাতক্ষীরার পারুলিয়া গরুহাট, আবাদের হাট বারোমাইল হাট, মৌতলা হাট সহ অন্যান্য হাটগুলোতে শত সহস্র ছাগলের উপস্থিতি চোখে পড়ার মত। সাতক্ষীরা হতে প্রতিনিয়ত পিকআপ ভর্তি ছাগল রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে। সা¤প্রতিক সময় গুলোতে ছাগলের এক ধরনের সংক্রমক ব্যাধি, চর্মরোগ, চক্ষুরোগ, যৌন রোগ সহ বহুবিধ রোগ দেখা দিচ্ছে। সাতক্ষীরা জেলা প্রাণি সম্পদ দপ্তর সহ প্রতিটি উপজেলায় ছাগলের রোগ বালাই দুরীকরনে ও মুক্ত রাখতে বিভিন্ন ধরনের ভ্যাকসিন ও ঔষধ সরবরাহ করা হয়। অনেকে জানে না তবে বেশীর ভাগ ছাগল পালনকারীরা এ বিষয়ে অবগত ও ভ্যাকসিন পেয়ে থাকে। প্রাণি সম্পদ দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের গ্রামে গ্রামে যেয়ে চিকিৎসা ও খামারে যেয়ে চিকিৎসা প্রদানের পরিবর্তে রোগাক্রান্ত ছাগলকে অফিসে আনার তাগিদ দেওয়ার অভিযোগ ও করেছেন অনেকে। সাতক্ষীরার প্রাণি সম্পদ দপ্তর ছাগল পালনে যথাযথ তদারকি, খামারী ও পালনকারীদের প্রাপ্ত সেবা প্রদান করলে আগামীতে সাতক্ষীরার অর্থনীতিতে ছাগল অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এদিকে ছাগল পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন
পৃথিবীতে প্রায় ৩০০ জাতের ছাগল আছে। এর মধ্যে দেশের কালো ছাগল বা ব্ল্যাক বেঙ্গলকে অন্যতম সেরা জাতের ছাগল বলা হয়।
ব্ল্যাক বেঙ্গল বাংলাদেশ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার এবং ওড়িশা অঞ্চলের পাওয়া যায়। এ ছাগল অধিকাংশ কালো হলেও বাদামী, ধূসর ও সাদা বর্ণেরও হয়।
এই ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের খামার করে স্বাবলম্বী হয়েছেন সাতক্ষীরার তালার মফিজুল ইসলাম।
তালা উপজেলা সদরের মাঝিয়াড়া গ্রামের মফিজুল ইসলামের সফলতা দেখে গ্রামের অনেকে এখন এই জাতের ছাগল পালনে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
মফিজুল ইসলাম বলেন, এক সময় ঢাকার একটি গার্মেন্টেসে কাজ করতাম। হঠাৎ একদিন ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার সময় কোনো একটি বাড়ির ছাদের ওপর ছাগলের খামার দেখতে পাই। এই বিষয়টা পরবর্তীতে আমাকে খামার গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত করে।
তিনি জানান, ২০১৯ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর তিনি ঢাকা থেকে গ্রামে ফিরে আসেন। কিছু দিনের মধ্যে গড়ে তোলেন ছাগলের খামার। শুরুতে ছাগলের সংখ্যা ছিল ১৯টি। এখন তার খামারে ছোট বড় মিলিয়ে ছাগলের সংখ্যা ৬০টি। এছাড়া, ছাগল বিক্রি করে প্রায় ৩ লাখ টাকা আয় করেছেন।  খামারে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের পাশাপাশি দেশি ছাগলও রয়েছে।
মফিজুল ইসলাম বলেন, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বছরে দুই বার বাচ্চা দেয়। প্রতিবার ২ থেকে ৪টা বাচ্চা হয়। রোগ-বালাইও কম হয়। বছরে একবার টিকা দিলেই আর কোনো ওষুধ লাগে না। একটি ছাগল প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ টাকার খাদ্য খায়। ছাগলকে খাওয়ানো হয় গম, ভুট্টা, ছোলা বুটের গুড়ো ও ঘাস। তাই অল্প খরচে বেশি আয় করা সম্ভব।
তালা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাছুম বিল্লাহ জানান, দেশি ছাগলের পাশাপাশি আমরা ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালন করার জন্য উপজেলাতে ১০ জনকে প্রশিক্ষণ ও দুই জনকে টাকা দিয়েছি। উপজেলাতে মোট ১১৯টি ছোট বড় ছাগলের খামার রয়েছে। মোট ছাগল রয়েছে ৪৭ হাজার ৫৫১টি।
সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ বি এম আব্দুর রউফ বলেন, দেশীয় ছাগলের পাশাপাশি ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের মাংসের যেমন চাহিদা রয়েছে, তেমনি দামও ভালো হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে জেলায় অনেক খামার গড়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা নিয়মিত তাদের ওই ছাগলের খামার পরিদর্শন করি। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সব ধরনের পরামর্শ দিচ্ছি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com