সাজানো মামলা থেকে পরিকল্পিত বার্তা’র প্রকাশক সহ ৫ জনের খালাস

দিদারুল আলম সিকদার, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার খানখানাবাদ ইউপির রায়ছটা গ্রামের বাসিন্দা জনৈক ছগির আহম্মদের স্ত্রী’র রাজু আক্তার এর বাঁশখালী আদালতে দায়ের করা সাজানো মামলায় খালাস পেয়েছেন পরিকল্পিত বার্তা’র প্রকাশক মোঃ মনছুর আলম সহ একই এলাকার শওকত আলী, আবু সালেক, জান্নাত আরা বেগম ও শারমিন আক্তার।
বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাঈনুল ইসলাম এর আদালতে এ আদেশ দেন বলে জানান তাদের আইনজীবী মোঃ ওমর ফারুক।

মোঃ মনছুর আলম চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার রায়ছটা গ্রামের বাসিন্দা হলেও দেশের পর্যটন নগরী কক্সবাজার শহরেই স্থায়ী ভাবে বসবাস করেন। কক্সবাজারে তার নিজস্ব এম আলম আইটি সার্ভিস নামীয় একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তার প্রকাশিত ‘বাঁশখালী নিউজ’ নামীয় একটি স্থানীয় অনলাইনও রয়েছে। এছাড়াও জনপ্রিয় অনলাইন ‘কক্সবাজার কন্ঠ’ সহ বেশ কয়েকটি অনলাইন গণমাধ্যমের আইটি’র দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি একটি জনপ্রিয় সামাজিক সংগঠন ‘পরিকল্পিত কক্সবাজার আন্দোলন’ এর সমন্বয়ক (আইটি) হিসাবে দায়িত্বে রয়েছেন। সে কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কক্সবাজার সরকারী কলেজ এর প্রাক্তন ছাত্র। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে গড়া ছাত্রলীগের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হলেও বর্তমানে তিনি সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত রয়েছেন।
জানা যায়, বিগত ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর রাত ৮ টার দিকে বাঁশখালী থানার এসআই মোঃ ফারুক তার তদন্তাধিন একটি নারী শিশু মামলার আসামী গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্য রাজু আক্তারের বাড়ি ঘরে অভিযান চালায়। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত বার্তা’র প্রকাশক মোঃ মনছুর আলমকে সহ ৫ জনকে আসামী করে বাঁশখালী আদালতে রাজু আক্তার বাদী হয়ে বিগত ২০১৮ সালের ২ ডিসেম্বর সাজানো এই সিআর মামলাটি দায়ের করেন। পরে মামলাটি বাঁশখালী উপজেলার সাবেক শিক্ষা অফিসার কেএম মোস্তাক আহমেদ সরেজমিনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত না করে চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে একটি মনগড়া প্রতিবেদন দাখিল করেন।
অ্যাডভোকেট মোঃ ওমর ফারুক জানান, মোঃ মনছুর আলম সহ শওকত আলী, আবু সালেক, জান্নাত আরা বেগম ও শারমিন আক্তারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত ফৌঃ কাঃ বিঃ ২৪৭ ধারা মোতাবেক তাদেরকে এ মামলা থেকে খালাস দিয়েছেন।

মোঃ মনছুর আলমের পরিবারের দাবী, বিগত ২০১৮ সালের ১৬ অক্টোবর তার বন্ধু সৈনিক মোহাব্বত আলী’র ভাগনী জোসনা আক্তার অপহরণ হয়ে গেলে মনছুর বাঁশখালী থানা পুলিশকে মেয়েটি উদ্ধারে সহযোগিতা করেন। পরে এ বিষয়ে বাঁশখালী থানায় রাজু আক্তারের স্বামী ছগির আহম্মদ সহ তাদের পরিবারের বেশ কয়েকজনকে আসামী করে সৈনিক মোহাব্বতের বোন বাদী হয়ে বাঁশখালী থানায় একটি নারী শিশু মামলা দায়ের করেন। এখানে মনছুরের সহযোগিতা থাকায় ঐ সাজানো সিআর কাউন্টার মামলায় মনছুরকেও আসামী করেন। আমাদের জানা মতে, মনছুর কারো ক্ষতি করে নাই বরং উপকার করতে গিয়ে সে এত হয়রানির শিকার হয়েছে। এছাড়াও মনছুর সহ তার বন্ধু সৈনিক মোহাব্বত এর বিরুদ্ধে আরও একটি মিথ্যা সাজানো নারী শিশু মামলা চট্টগ্রাম নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে। এ মামলায় মনছুর ১ মাস ২১ দিন কারাগারে ছিলেন।

মোঃ মনছুর আলম বলেন, মিথ্যা মামলা থেকে খালাস পেয়েছি। ধৈর্যের ফল মিষ্টি হয় এবং একটু দেরি হলেও সত্যের জয় নিশ্চিত হয়। সৃষ্টিকর্তার কাছে অন্যায়ের বিচার দিলাম। যারা আমার সাথে ছিলেন তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।