1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
সহিংসতা রুখতে এক টেবিলে সব দল—ময়মনসিংহে সম্প্রীতির জোরালো বার্তা - দৈনিক আমার সময়

সহিংসতা রুখতে এক টেবিলে সব দল—ময়মনসিংহে সম্প্রীতির জোরালো বার্তা

শুভ বসাক
    প্রকাশিত : বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫
রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নির্বাচনী অস্থিরতার মাঝেও ময়মনসিংহে দেখা গেল বিরল এক দৃশ্য—বহুদলীয় নেতারা একই টেবিলে বসে সম্প্রীতি ও শান্তির আহ্বান জানালেন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সহিংসতা ও সংঘাতমুক্ত রাখতে “স্থানীয় রাজনৈতিক সম্প্রীতি উন্নয়নে করণীয়” শীর্ষক এ গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বুধবার (১৯ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কালীঝুলি এলাকার গ্রীন পয়েন্ট কনভেনশন হলে। আয়োজন করে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল ও মাল্টি-পার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরাম (এমএএফ)। বৈঠকে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, গণফোরাম, গণতন্ত্র মঞ্চ, সুশীল সমাজ, শিক্ষক প্রতিনিধি ও গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতি বৈঠকটিকে আরও গুরুত্ববহ করে তোলে। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল ময়মনসিংহের সভাপতি ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহাবুবুল আলম। সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সিনিয়র আঞ্চলিক কর্মকর্তা নার্গিস আক্তার, আর উপস্থাপনা করেন ফারিয়া তাসনিম তিথি।
সভায় বক্তব্য দেন—মহানগর বিএনপি নেতা কাজী রানা, আজহারুল ইসলাম বুলবুল, মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুল হাসান শামীম, মহিলা দলের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন পারভীন, জামায়াত নেতা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল বারী, অধ্যক্ষ মাসুদুল হাসান আরিফ, অধ্যক্ষ জিয়া উদ্দিন সাকির, জামায়াত প্রতিনিধি আইরিন নাহার, অন্য চিত্র ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রেবেকা সুলতানা, সাংবাদিক কামরুল হাসান, আস্থা প্রকল্পের প্রতিনিধি ইমন সরকার, দি হাঙ্গার প্রজেক্টের প্রতিনিধি জয়ন্ত কর, গণতন্ত্র মঞ্চের মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান রাজীব, এনসিপি প্রতিনিধি মাহমুদুল হাসান সোহেলসহ আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন—রাজনৈতিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এখন সময়ের দাবি। সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করা ছাড়া শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব নয়।
তারা আরও বলেন—“সহিংসতা ছাড়া রাজনীতির বিকল্প নেই। পুরনো বৈরিতা ও সংঘাত ভুলে দেশের স্বার্থে সবাইকে আলোচনায় বসতে হবে।”
বৈঠকে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিনিধি যে করণীয় তুলে ধরেন, তার মধ্যে ছিল—রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল ভূমিকা,সামাজিক সম্প্রীতি বাড়ানো,যুবসমাজ ও নারীদের ইতিবাচক সম্পৃক্ততা,অপপ্রচার ও গুজব প্রতিরোধ,নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকা,গণমাধ্যমের সত্যনিষ্ঠ প্রচার। পরে সব পক্ষের প্রতিনিধিরা শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিতে একযোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের কর্মকর্তারা জানান
তারা জনশিক্ষা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে কাজ করছেন।
এমএএফ নেতৃবৃন্দ বলেন—“রাজনৈতিক বিভাজন কমাতে এবং সুশীল সমাজের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সংলাপ বাড়াতে ভবিষ্যতেও এমন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।”
এদিকে, জাতীয় নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঠিক এমন সময় ময়মনসিংহের এই সহনশীলতার বার্তা রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন আলো ছড়িয়েছে। বহুদলীয় ঐকমত্যে শান্তি, সম্প্রীতি ও সংঘাতমুক্ত নির্বাচনের যে প্রতিশ্রুতি উঠে এসেছে—তা দেশব্যাপী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com