1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
সরকারি ফি দিলেই মিলছে পাসপোর্ট, লক্ষ্মীপুরে সেবায় সন্তুষ্টি - দৈনিক আমার সময়

সরকারি ফি দিলেই মিলছে পাসপোর্ট, লক্ষ্মীপুরে সেবায় সন্তুষ্টি

নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক
    প্রকাশিত : সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৫

সরকারি ফি জমা দিয়ে সরাসরি আবেদন করলেই মিলছে পাসপোর্ট। দালাল বা অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই মিলছে কাঙ্ক্ষিত সেবা। এমন চিত্র দেখা গেছে লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে। সেবা নিতে আসা অনেকেই জানিয়েছেন, আগের চেয়ে এখন সেবা সহজ হয়েছে, কমেছে ভোগান্তি।

সরেজমিনে অফিসে গিয়ে দেখা গেছে, নির্ধারিত নিয়ম মেনেই কাজ চলছে। সকাল থেকেই  সেবা প্রার্থীরা সুশৃঙ্খল ভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদন জমা দিচ্ছেন, ছবি তোলার জন্য অপেক্ষা করছেন। অধিকাংশ আবেদনকারীর মুখে সন্তুষ্টির ছাপ।

স্থানীয় এক শিক্ষার্থী মো. নিজাম বলেন, “আমি প্রথমবারের মতো পাসপোর্ট করতে আসলাম। অনেক ভয় ছিল, কীভাবে করবো। কিন্তু অফিসে এসে দেখি, সহায়তা করছেন কর্মকর্তারা। কোনো দালাল ছাড়াই আজকে আমার বায়োমেট্রিক হয়ে গেছে।”

সফরান সুলতানা বলেন, “আগে শুনতাম দালাল ছাড়া নাকি হয় না। কিন্তু এখন দেখি, নিজের কাজ নিজে করলেই হচ্ছে। কেউ বাড়তি টাকা চায়নি।”

লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস সূত্র জানায়, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৭০-২১৫টি আবেদন গ্রহণ করা হয়। সেবার মান উন্নয়নে অফিসে অতিরিক্ত লোকবল ও পর্যাপ্ত সরঞ্জাম নিশ্চিত করা হয়েছে।

পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক এ কে এম আবু সাঈদ বলেন, ”দুর্নীতিমুক্ত ডিজিটাল সেবা’ বাস্তবায়নে কাজ করছি। দালালদের দৌরাত্ম্য কমাতে অফিস চত্বরের বিভিন্ন পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে, নিয়মিত ভিজিল্যান্স টিম নজর রাখছে। সবাইকে বলবো—সঠিক তথ্য দিয়ে পাসপোর্ট করুন। আমরা চাই আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস শক্তিশালী ও জনবান্ধব হয়ে উঠুক।”

তিনি আরও জানান, “সেবাপ্রার্থীদের সহজে সেবা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট কাউন্টার নির্ধারিত করে দেওয়া হয়েছে। বয়স্ক এবং নারীদের জন্য আলাদা সহায়তা রয়েছে।”

লক্ষ্মীপুরসহ সারাদেশেই আগে পাসপোর্ট করতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে পড়তে হতো নানা ভোগান্তিতে। দালালদের সহায়তা না নিলে অনেক সময় আবেদন গৃহীত হতো না বলেও অভিযোগ ছিল। অতিরিক্ত টাকা, দীর্ঘ সময় ও অনিশ্চয়তার কারণে একসময় পাসপোর্ট সেবা যেন এক আতঙ্কের নাম ছিল।

তবে গত দুই বছর ধরে ডিজিটালাইজেশনের আওতায় এসব দুর্নীতি ও ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে। এখন সেবা নিতে আসা ব্যক্তিরা অনলাইনেই ফরম পূরণ করে নির্ধারিত ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে নির্ধারিত তারিখে সরাসরি অফিসে যাচ্ছেন।

স্থানীয় এক স্কুল প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান বলেন, “পাসপোর্ট সেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক সময় যে নেতিবাচক ধারণা ছিল, তা অনেকটাই বদলে গেছে। এখন মানুষ নিজের ফরম নিজেই পূরণ করছে, টাকা জমা দিচ্ছে—এটাই ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল।”

তবে পাসপোর্টের জন্য অনলাইনে আবেদনের সাথে ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার রশিদের নাম এক না হওয়া অনেক সময় জটিলতা সৃষ্টি হয়। আর এই জটিলতা একবার সৃষ্টি হলে অনেক সময় লেগে যায় তা ঠিক করতে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com