সরকারি আদেশ অমান্য করে চৌগাছায় চলছে নতুন পদ্ধতিতে রমরমা ব্যবসা

চৌগাছা প্রতিনিধিঃ যশোরের চৌগাছায় সরকারি নিষেধ অমান্য করে চৌগাছা বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে চলছে নতুন নতুন পদ্ধতিতে রমরমা ব্যবসা। আতঙ্কে আছে ঘর বন্দী সচেতন ব্যক্তিগণ। চৌগাছা বাজারে পথ যাত্রী সুত্রে জানা যায় চৌগাছার বড়বড় ব্যবসায়ীরা নতুন নতুন পদ্ধতিতে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আসছে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা এবং প্রয়োজনীয় মালামাল ক্রয় করে চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে বড়বড় ছিট-কাপড়ের ব্যবসায়ী, হাড়ি পাতিলের ব্যবসায়ী, ব্যাকারী , বীজ ব্যবসায়ীসহ আরও অনেক (দোকান খোলা আপাতত নিষিদ্ধ) দোকান ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানের সার্টার অথবা দরজার তালা খুলে বাইরে এখানে-সেখানে দাড়িয়ে থাকছে, বসে থাকছে। এর পরপরই ক্রেতা আসলে আস্তে আস্তে চারিদিকে তাকিয়ে নিয়ে দোকান খুলে ক্রেতাদের ভিতরে ঢুকিয়ে সার্টার অথবা দরজা দিয়ে বেঁচাকিনা করে নিচ্ছে। ভিতরে দেখা যাচ্ছে নতুন নতুন ক্রেতা আসা যাওয়া করেই যাচ্ছে। বাইরে থেকে প্রশাসন মনে করছে দোকান তো কেউ খুলছে না। শুধু বেড়াতে আসছে পথচারীরা। কিন্তু না পথচারীরা বেড়াতে নয়, বুঝে ফেলেছে ব্যবসায়ীদের ব্যবসার নিয়ম। সেই নিয়মেই কেনাকাটা করে চলে আসছে। এ কেমন বাঙালীর ধর্ম। মানেনা আইন, মানেনা প্রশাসন, মনে হচ্ছে সরকার নিয়ম কানুন জোর করেই চাপিয়ে দিচ্ছে।

এই বিষয়গুলো নিয়ে সবচেয়ে সংশয় বিরাজ করছে ঘরে বন্দী থাকা লোকগুলোর মধ্যে। সচেতন নাগরিক যারা ছেলে-মেয়ে, বিবি, বাপ-মা নিয়ে ঘরে বন্দী অবস্থায় আছে তারা চিন্তাই আছে এই অসচেতন ব্যবসায়ী, ক্রেতা, চায়ের দোকান ইত্যাদি নিয়ে। কারণ গ্রাম অঞ্চলে যদি একবার ছড়িয়ে পড়ে তাহলে এটা তো আর কমে ছাড়বে না। নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক একজন ঘর বন্দী পরিবারের সদস্য বলেন আমরাতো সচেতনতার সাথে ঘরে বসে আছি। শুধু ঔষধ ও মুদীর মাল কেনা ছাড়া বাইরে যায় না। কিন্তু যারা এভাবে ব্যবসা করছে, আর যারা চুরি করে আনন্দের সাথে চুরি বিদ্যা খাটিয়ে কেনা কাটা করছে তারাতো আর সমাজের বাইরের কেউ না। তাহলে তারা আক্রান্ত মানে আমরাও আক্রান্ত হবো। কোন কাজে লাগবে না আমাদের এই সচেতনতা। তাই প্রশাসনের নিকট আবেদন অবিলম্বে চৌগাছা বাজারের এই চুরি বিদ্যার আশ্রয় নিয়ে চালানো ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। দোকানের তালা চেক করে খোলা থাকলে বড় অঙ্কের জরিমানা করা হোক। সবাই বাঁচুক, আমরা বাঁচি, দেশ করোনা মুক্ত হোক।

অপরদিকে উপজেলার বাহিরে গিয়ে শীমের বীজ কিনে হুমকির মুখে ফেলেছে উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম। করোনা ভাইরাসের ফলে সারা দেশে যেখানে সরকারি ভাবে সর্ব সাধারণের বাড়ির বাহিরে যেতে জোর নিষেধজ্ঞা রয়েছে, সেখানে উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের বড়খানপুর গ্রামের প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি ঝিনাইদাহ জেলার মহেশপুর, কোটচাঁদপুর, কালিগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গার, জীবননগর এবং যশোর জেলার শার্শা ও নাভারন গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে  শীমের বীজ সংগ্রহ করে। পরে এই বীজ বড়খানপুর গ্রামের বেশ কিছু ব্যবসায়ীর নিকট বিক্রয় করে। পরে ব্যবসায়ীরা এই বীজ ট্রাকে করে বাহিরে চালান করেন। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ করোনা ভাইরাস একটি সংত্রমণ রোগ সেহেতু ব্যবসায়ীরা কয়েকদিন এই বীজ কেনা বন্ধ করতে পারে। ফলে কিছুটা হলেও মানুষ নিরাপদ থাকতে পারবে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি শীমের বীজ কিনে অধিক লাভের আশায় এই সময় ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন জায়গা থেকে বীজ সংগ্রহ করে থাকে। নাম প্রকাশ না করা শর্তে এই গ্রামের একাধিক ব্যক্তি বলেন, গ্রামের অনেক সম্মানিয় ব্যক্তিরা এই সময়ে ঝুঁকি নিয়ে বীজ না কিনার কথা বললেও তারা থামেনি ।

বড়খানপুরের ইউপি সদস্য কামাল হোসেন মল্লিক বলেন, গ্রামের বেশ কিছু ব্যবসায়ী আমাদের উপজেলার বাহিরে গিয়ে শীমের বীজ সংগ্রহ করছে, ফলে বিভিন্ন জায়গার বিভিন্ন লোকের সাথে মিশে আবার গ্রামে ফিরে আসছে ফলে গ্রামের লোকজন করোনা ভাইরাসের আতংকের মধ্যে আছে।আমি বেশ কয়েকবার মানা করার শর্তেও তারা আমার কথা শুনছেনা। এমতাবস্থায় প্রশাসন সঠিকভাবে তদন্ত স্বরুপ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে প্রশাসনসহ আমরা দেশবাসী সকলেই বিপদে পড়বো।