সঙ্কট মোকাবেলায় খাদ্যশস্য আমদানি বাড়াচ্ছে সরকার

সঙ্কট মোকাবেলায় খাদ্যশস্য আমদানি বাড়াচ্ছে সরকার। ওই লক্ষ্যে সরকার আরো সাড়ে ১৪ লাখ টন খাদ্যশস্য আমদানি করতে চায় সরকার। তা মধ্যে ১১ লাখ ছয় হাজার ৮৫৮ মেট্রিক টন চাল এবং ৩ লাখ ৪২ হাজার ৬৭১ মেট্রিক টন গম আমদানি করা হবে। চলতি অর্থবছরের বাদবাকি সময়কালে ওই খাদ্যশস্য আমদানি করা হবে। তবে অর্থবছরের বাকি সময় রয়েছে সাড়ে ৪ মাসেরও কম। আর এতো অল্প সময়ে ওই খাদ্যশস্য আমদানি করা নিয়েও কিছুটা সংশয় রয়ে গেছে। খাদ্য বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, চলমান করোনা পরিস্থিতির পাশাপাশি গত বছর বন্যা, অতিবৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড় আমফানের কারণে খাদ্যশস্য উৎপাদন ব্যাহত এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে খাদ্যশস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। ওই কারণে চলতি অর্থবছরের অবশিষ্ট সময়ের জন্য আরো প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তার মধ্যে চালের পরিমাণ ১১ লাখ ৬ হাজার ৮৫৮ মেট্রিক টন এবং গমের পরিমাণ হচ্ছে ৩ লাখ ৪২ হাজার ৬৭১ মেট্রিক টন। চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকারি উদ্যোগে খাদ্যশস্য সংগ্রহের মোট লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩১ লাখ ৩৬ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন ( চাল ২৪ লাখ ৪১ হাজার মেট্রিক টন ও গম ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন)। কিন্তু অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে খাদ্যশস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়া এবং সরকারি সংরক্ষণাগারে পর্যাপ্ত মজুদ না থাকার কারণে খাদ্যশস্য সংগ্রহের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ২৪ লাখ ৫৫ হাজার ৭ মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে। তার মধ্যে চালের পরিমাণ ১৮ লাখ ৬৪ হাজার ৮২৯ মেট্রিক টন এবং গমের পরিমাণ হচ্ছে ৫ লাখ ৯০ হাজার ১৭৮ মেট্রিক টন।
সূত্র জানায়, সরকার ঘোষিত ধান ও চালের মূল্য বাজারদরের তুলনায় কম হওয়ার কারণে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে গত বোরো মৌসুমে ধান ও চাল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। চলতি আমন মৌসুমেও ওই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না বলে মনে করছে খাদ্য বিভাগ। খাদ্যশস্য সংগ্রহের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে (জুলাই ২০২০-জানুয়ারি ২০২১) ওএমএস-সহ সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচিতে মোট খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়েছে ১৩ লাখ ৩৯ লাখ ৬৪৫ মেট্রিক টন (চাল ১০ লাখ ৩৮ হাজার ৯১০ মেট্রিক টন ও গম ৩ লাখ ৭৩৫ মেট্রিক টন)। নিরাপত্তা মজুদ হিসাবে আরো ১০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য (৮ লাখ মেট্রিক টন চাল ও ২ লাখ মেট্রিক টন গম) প্রয়োজন। ওই হিসাবে চলতি বছরের অবশিষ্ট সময়ের জন্য সরকারি পর্যায়ে খাদ্যশস্য সংগ্রহের মোট চাহিদা দাঁড়াচ্ছে ২১ লাখ ১৫ হাজার ৩৬২ মেট্রিক টন (চাল ১৬ লাখ ২৫ হাজার ৯১৯ মেট্রিক টন ও গম চার লাখ ৮৯ হাজার ৪৪৩ মেট্রিক টন)। তার বিপরীতে খাদ্য বিভাগের গত ১ ফেব্রুয়ারির হিসাব অনুযায়ী সরকারি সংরক্ষণাগারে মোট ৬ লাখ ৬৫ হাজার ৮৩৩ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য (চাল ৫ লাখ ১৯ হাজার ৬১ মেট্রিক টন ও গম এক লাখ ৪৬ হাজার ৭৭২ মেট্রিক টন) মজুদ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চলতি অর্থবছরে সরকারি সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আরো ১৪ লাখ ৪৯ হাজার ৫২৯ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য আমদানি করা প্রয়োজন। তার মধ্যে চালের পরিমাণ ১১ লাখ ৬ হাজার ৮৫৮ মেট্রিক টন এবং গমের পরিমাণ হচ্ছে ৩ লাখ ৪২ হাজার ৬৭১ মেট্রিক টন।
সূত্র আরো জানায়, ইতিমধ্যে চাহিদার বিপরীতে ভারত থেকে ৪ লাখ টন চাল আমদানির ক্রয়চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং ভারত ও মিয়ানমার থেকে আরো ২ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তাছাড়া আর্জেন্টিনা থেকে ইতিমধ্যে এক লাখ টন গম আমদানির চুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং আরো ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানির চুক্তি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।