শ্রীপুরে হোটেলসহ বাড়ির পানি সড়কে! জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ চরমে

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ      গাজীপুর জেলার শ্রীপুরের ব্যবসায়িক প্রাণ কেন্দ্র মাওনা চৌরাস্তার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে ময়লা- আবর্জনার জলাবদ্ধতায় প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে লাখো মানুষের। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিবাদ করা হলেও টনক নড়েনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের।

১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার  সকালে সরেজমিনে গিয়ে পৌর এলাকার মাওনা উড়াল সেতুর দু’পাশেই এমন জলাবদ্ধতা চোখে পড়ে।

স্থানীয়দের দাবী, সড়কের আশপাশের চলমান হোটেল এবং বাসাবাড়ির দৈনন্দিন ব্যবহারের পানি ও বর্জ্য নিষ্কাশনের কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় তা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে খোলা ড্রেনে নিষ্কাশন করা হয়। এতেই বৃষ্টির দিনগুলোতে পানির অবস্থা বুঝা না গেলেও সারাবছরই জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সড়কে আসা যাত্রী,পথচারী ও স্থানীয়দের। এ পানি শরীরের কোথাও লাগলে চর্ম রোগসহ পানিবাহিত রোগ হতে পারে। এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার জানানো হলেও কোন সমাধান পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

অভিযোগের ভাষায় মাওনা চৌরাস্তার ব্যবসায়ী আজিজুল হক জানান,চৌরাস্তার আশপাশের অবস্থিত বহুতল ভবন, চলমান খাবার হোটেলসহ ছোটবড় অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পানি নিষ্কাশনের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় মহাসড়কের পাশের ড্রেনই তাদের একমাত্র ভরসা। যার কারনে সড়কের আশপাশের স্থানে চলাচলের পরিবেশ নাই।

বাসযাত্রী স্থানীয় আমেনা খাতুন জানান, বাসাবাড়ির পঁচা- ময়লার পানি ও হোটেলের আবর্জনা মিশ্রিত পানি সরাসরি রাস্তায় ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। হাঁটলে পায় চুলকানি ধরে এবং দুর্গন্ধে পেটে দেখা দেয় নানা অসুখ । এ অবস্থা দেখার যেন কেউ নাই।

পৌর নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহবায়ক আনোয়ার হোসেন জানান, আমরা পৌরসভা তথা সরকারকে নিয়মিত কর ও লাইসেন্স ফি প্রধান করে থাকি। অনেকদিন ধরেই বিষয়টি প্রশাসনের সামনে নিয়ে আসা হয়েছে যে, ড্রেনের পানির নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বছরজুড়েই জলাবদ্ধ থাকে মাওনা চৌরাস্তায় । এর দুর্গন্ধে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন লাখো মানুষ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী, অতি শীগ্রই যেন ড্রেনটির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়।

এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে সড়কের আশপাশের হোটেল ও বাড়ির মালিককের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোন কথা বলতে রাজি হননি।

দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটে জানিয়ে মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক বলেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উড়াল সেতুর দু’পাশে এসে মিশেছে মাওনা-শ্রীপুর ও মাওনা-কালিয়াকৈর এ দুটি আঞ্চলিক সড়ক। কিন্তু দুটি সংযোগস্থলেই সারাবছর জলাবদ্ধ অবস্থায় দেখা যায়। ফলে পুলিশ সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালনে নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়।

তেলিহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন সরকার জানান, আমার ইউনিয়নের সীমানার মধ্যে চৌরাস্তা এলাকায় মাওনা-শ্রীপুর আঞ্চলিক সড়কের (রাস্তার দক্ষিন)পাশের বাড়ি গুলো পৌরসভায় কর দেয়। এছাড়াও সড়কের আশপাশের দোকান গুলোও পৌরসভার ট্রেঢ লাইসেন্স দিয়ে ব্যবসা চালায়। তাই বিষয়টি পৌর মেয়র সমাধান করলেই ভালো হবে।

এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে শ্রীপুর পৌর মেয়র আনিছুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ শামছুল আরেফীন জানান, জলাবদ্ধতার বিষয়টি ইতোমধ্যে প্রশাসনের নজরে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে পৌর মেয়র ও তেলিহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।