শ্রীপুরে প্রতিমা বিসর্জ্জনের পর মন্দিরে ঠাকুরের সাথে সাতপাকে মারামারি!

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর(গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রতিমা বিসর্জ্জন দেয়ার সময় কথা কাটাকাটির জেরে মন্দিরে ঠাকুরের সাথে সাতপাক দেয়ার মুহূর্তে  মারামারির ঘটনায় ৩ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি  মামলা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
৯ অক্টোবর গভীর রাতে শ্রীপুর পৌর সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন,পৌর এলাকার শ্রীপুর গ্রামের রামপ্রদ চৌহানের ছেলে ও পুজা উদযাপন কমিটির  সহ-সভাপতি রতন চৌহান (৪৫), একই এলাকার মৃত নিতাই চন্দ্র বর্ধনের ছেলে ও পূজা উৎযাপন কমিটির সন্মানিত সদস্য সুমন বর্ধন মনা (৪০) এবং একই এলাকার বজন চন্দ্র পালের ছেলে ও পুজা উদযাপন কমিটির সহ সাধারণ সম্পাদক বাশকর পাল শুভ (২০)।
আহতদের ভাষ্যমতে, গতকাল রাতে ফরেস্ট ডাকবাংলা পুকুরে  প্রতিমা বিসর্জ্জন দেয়ার সময় পৌর এলাকার স্বপন চন্দ্র দের ছেলে পলাশ দে (২৩) আতসবাজি ফুটাতে আমাদের শরীরের কাছে গিয়ে প্রস্তুতি নেয়। এসময় তাকে বাধা দিলে কথা কাটাকাটি হয়। পরে প্রতিমা বিসর্জ্জন থেকে মন্দিরে গেলে নারায়ণ চন্দ্র দের ছেলে সুজন দের নেতৃত্বে ৬-৭ জন আমাদের উপর হামলা চালায়।

তবে হামলার কথা অস্বীকার করে পলাশ দে জানান, প্রতিমা বিসর্জ্জনের সময় তাদের কয়েকজন মদব্য অবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। আমরা প্রতিবাদ করতে গেলে তারা উত্তেজিত হয়। পরে মন্দিরে ঠাকুরের সাতপাক দিতে গেলে আমাদের উপর হামলা চালানো হয়।

 

এ বিষয়ে পুজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী বিশ্বজিৎ বনিক জানান, গত রাতে প্রতিমা বিসর্জ্জন দেয়ার সময় অতি উৎসাহী  কতিপয় ব্যক্তি শরীরের কাছে এসে পটকা ফুটাইতে গেলে এ নিয়ে তর্ক হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে  মন্দিরে ঠাকুর নিয়ে সাত পাক দেয়ার সময় হামলার ঘটনা ঘটে।
শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এস আই)  আশরাফুল্লাহ জানান, প্রতিমা বিসর্জ্জন দেয়ার সময় কয়েকজনের নিজেদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছিল। তবে তখনই উভয় পক্ষকেই মিলমিশ করে দেয়া হয়।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী জানান, প্রতিমা বিসর্জ্জন দেয়ার সময় তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে পরবর্তীতে হামলার ঘটনায় শ্রী বিশ্বজিৎ বনিক বাদী হয়ে ৭জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।