শ্রীপুরে গোশতের টুকরো ভরা পুটলি নিয়ে চাঞ্চল্য ! পুলিশের ঘটনাস্থল পরিদর্শন

আলফাজ সরকার আকাশ , শ্রীপুর(গাজীপুর)প্রতিনিধি: ঈদের রাতে কোথায় হতে পঁচা গন্ধে অন্যান্য ভাড়াটিয়াসহ বাড়ীর মালিকও নাক ছিটকানি দিচ্ছে। এদিক সেদিক খুঁজাখুঁজি করে গন্ধের উৎস পাওয়া যাচ্ছে না। এক পর্যায়ে এক ভাড়াটিয়ার তালাবদ্ধ রুমের দরজা খুলে ভিতরে যাওয়া হয়। সে রুমের ওয়্যারড্রোবের ভিতরে কয়েক পুটলি গোশত দেখতে পায়। এতে আতংকিত হয়ে উঠে সবাই। ধারণা করা হয়, এগুলো কোন মানুষের লাশের টুকরো। এক পর্যায়ে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। গোশতের টুকরো নিয়ে এমন এক লঙ্কা-কান্ড ঘটেছে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার মাস্টারবাড়ীর গিলারচালা নামক স্থানে।
১২ আগস্ট সোমবার রাত ৯টায় পৌর এলাকার মাস্টার বাড়ী শাহজাহানের মেয়ের জামাই বিপুল মিয়ার ভাড়া দেয়া বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, ওই রুমে সুমি আক্তার নাসরিন ও তার স্বামী মামুন মিয়া গত দেড় মাস ধরে ভাড়া থাকতো। নাসরিনের বোন বৃষ্টির দাবি নাসরিন বর্তমানে নিখোঁজ রয়েছে।
সুমি আক্তার নাসরিন (২০) নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা থানার নেকবান্দা গ্রামের নিজামুদ্দিনের মেয়ে।
এ ঘটনার পর বৃষ্টি আক্তার ও  বিপুল নামে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
বৃষ্টি আক্তার জানান, গত দেড় মাস আগে শাহজাহানের মেয়ের জামাই বিপুল মিয়ার ভাড়া দেয়া একটি রুমে স্বামীকে নিয়ে থেকে স্থানীয় একটি কারখানায় চাকরি করতো নাসরীন। ঈদের ৫দিন আগে বৃহস্পতিবার  বাড়ীতে যাওয়ার কথা ছিলো তার। কিন্তু এরপর থেকে যোগাযোগ হচ্ছে না তার সাথে । ধারণা যে, তার বোনকে জবাই করে লাশ খন্ড খন্ড করে রুমের ওয়্যারড্রোবের ডয়ারে রেখে দেয়া হয়েছে। পরে ঈদের দিন সন্ধ্যায় কোথাও হতে গন্ধ আসছে এমন খুঁজাখুজি করতে গিয়ে ওই রুমের তালা ভেঙ্গে ওয়্যারড্রোবের ভিতরে খন্ড খন্ড গোশতের পুটলি দেখতে পেয়ে পুলিশকে জানানো হয়।
শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এস আই) রাজিব কুমার সাহা জানান,খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল হতে কয়েকটা পুটলি উদ্ধার করেছে যার মধ্যে গোশতের টুকরো রয়েছে। তবে, কোন আকার আকৃতি না থাকায় এগুলো কিসের গোশত তা সঠিক ভাবে বলা যাচ্ছে না। এগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য  গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনা অবগত হওয়ার সাথে সাথেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী জানান, এ ঘটনার তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।  বৃষ্টি আক্তার নামের এক নারী ও বাড়ীর মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।