শ্রীপুরে কোটি টাকার খেয়াঘাট যেন ময়লার ভাগাড়!

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর(গাজীপুর) থেকেঃ-গাজীপুরের শ্রীপুরে শীতলক্ষ্যার বানার অংশে উপজেলা বরমী বাজারে কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০০ সালে নির্মিত বীর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী খেয়াঘাটটি যেন ময়লার ভাগাড়। নদীর তীরের হাট-বাজারের মানববর্জ্য প্রকাশ্যেই ফেলা হচ্ছে ঘাটের উপর ও নদীতে। পাশাপাশি খেয়াঘাট ও এর আশপাশের নদীর তীরে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা। ঘাটের সিঁড়ি ও মূল ফটকে একাধিক হকারদের ভাসমান দোকানের সাথে রয়েছে চারা বিক্রির নার্সারীও।সবমিলিয়ে প্রশাসনের নাকের ডগায় ঘাট ও নদী তীরের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

স্থানীয়রা জানান, হাট-বাজারের সৃষ্ট ময়লা-আবর্জনা সরাসরি নদীর তীরে ও এই খেয়াঘাটের উপর রাখা হয়েছে। এসব ময়লা গড়িয়ে পড়ছে নদীতে। এতে রূপ নিয়েছে ময়লার ভাগাড়ে। তাই প্রশাসনের নজরদারির অভাবে নদীর পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে। হুমকির মুখে পড়েছে নদীর জীব বৈচিত্র্য। এসব ময়লার কারণে নদীর পঁচা দুর্গন্ধযুক্ত পানির জন্য আশপাশের মানুষ অতিষ্ট।

ঘাটের সিঁড়ির উপর চারা বিক্রেতা জয়নাল মিয়া জানান, সকলেই তো এখানে দোকান দিয়ে বসেছে। প্রশাসন উঠিয়ে দিলে অনত্র চলে যাবো।

ঘাটের সামনেই ফল বিক্রেতা
আব্দুল হামিদ বলেন, প্রতিদিনই বাজার ইজারাদারকে খাজনা দিতে হচ্ছে। আর ময়লা সকলেই ফেলে থাকে,আপনি ক’জনকে ধরবেন।

খেয়া ঘাটের মাঝি স্থানীয় বিল্লাল হোসেন বলেন, প্রতিদিন নদী পারাপারের সময় পঁচা পানির দুর্গন্ধে বিরক্ত হই। এ খেয়া ঘাটের পাশে ময়লার ভাগাড় থাকায় অবস্থা আরো শোচনীয়। দু,পাড়েই বিদ্যালয়ের অধ্যায়নরত শিশুদের আনা-নেয়ার সময় নাকে রুমাল দিতে হচ্ছে।

এক সময় শীতলক্ষ্যার এ অংশের পানি লোকজন পান করতেন জানিয়ে স্থানীয় করিম বখত বলেন, এখন পান করা তো দূরের কথা নদী পারে দাঁড়ানোই যায় না। খেয়া ঘাটকে প্রকাশ্যে ময়লার ভাগাড় বানিয়ে হাজারো লোকের চলাচলে অসুবিধা ও নদীর সর্বনাশ ঘটাচ্ছে একটি পক্ষ। তাই নদী রক্ষায় জরুরি উদ্যোগ প্রয়োজন।

উপজেলা নদী পরিব্রাজক দলের সভাপতি সাঈদ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে নদীর ঘাটগুলোতে ইচ্ছা অনিচ্ছায় ময়লা ফেলে নষ্ট করছে পরিবেশ। নদী দূষণ রক্ষায় যেমনি শিল্পে ইটিপি চালনা বাধ্যতামূলক রাখতে হবে তেমনি নদীর পাড়ে, ঘাটে ময়লা ফেলা বন্ধ করতে হবে । বরমী ঘাটের ময়লা অপসারণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির দ্রত হস্তক্ষেপ কামনা করছি ও ময়লা ফেলার জন্য আলাদা স্থান নির্বাচন করে বাজারের ময়লা ফেলার ব্যবস্থা করার জন্য দাবী জানাচ্ছি ।

বরমী বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল হাশেম মিলিটারি বলেন, এ বিষয়ে বাজার ইজারাদারদের সাথে বারবার বসেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। বরমী বাজারের ময়লা ফেলার জন্য নির্দিষ্ঠ স্থান তৈরির জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। কোন অবস্থাতেই ময়লা ফেলতে দেয়া হবে না। নদী রক্ষায় প্রশাসনকে সহযোগিতা করা হবে।

এ বিষয়ে বরমী ইউপি চেয়ারম্যান শামসুল হক বাদল সরকারের মুঠোফোনে একাধিক বার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ সামছুল আরেফীন বলেন, নদীরক্ষায় ইতোমধ্যে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। ময়লার ভাগাড় বিষয়ে জানলাম। সংশ্লিষ্ট বাজারের দোকান মালিক ও জনপ্রতিনিধিদের তা সরিয়ে নিতে নোটিশ করা হবে। এরপরও কোন পক্ষ এমন কাজে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।