“সম্প্রীতির ঐকতানে, গাহি সাম্যের গান। শুধু ধর্ম নয় মানুষ, বিদ্বেষ নয় সম্প্রীতি”—এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৫ উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের উদ্যোগে জেলা ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার জনাব মো: সাইফুল ইসলাম সানতু বিপিএম-বার। এসময় তিনি বলেন, “দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য প্রতীক।” তিনি পূজা উদযাপন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নেয়া নানা প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন এবং উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় জেলা ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সার্কেল অফিসার ও থানার অফিসার ইনচার্জবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় পূজা মণ্ডপের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। পুলিশ সুপার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হবে। উক্ত সভায় প্রায় ১০০ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
সভায় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিম্নোক্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করা হয়:
১। ভেটিংকৃত ভলান্টিয়ারদের তালিকা সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দিতে হবে।
২। প্রতিটি পূজা মণ্ডপে DVR সহ CCTV/IP ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক।
৩। পূজা কমিটি কর্তৃক মনিটরিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৪। নির্দিষ্ট স্থানে ভলান্টিয়ারদের সহায়তায় গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
৫। প্রতিটি থানায় এবং পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা থাকবেন।
৬। জেলা ও থানায় কুইক রেসপন্স টিম (QRT) গঠন করা হবে।
৭। দুষ্কৃতিকারীদের তালিকা পুলিশকে সরবরাহ করতে হবে।
৮। সোশ্যাল মিডিয়ার গুজব প্রতিরোধে সতর্ক থাকতে হবে এবং গুজব ছড়ানো লিংক দ্রুত ডিলেট করতে হবে।
৯। পূজা উদযাপন পরিষদের অভ্যন্তরীণ বিরোধ দ্রুত মিমাংসা করতে হবে।
১০। কোনো সমস্যায় অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি না করে দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে।
১১। পূজা মণ্ডপের সামনে ও পেছনে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখতে হবে; বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় জেনারেটর/চার্জার লাইট ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
১২। সার্বক্ষণিক একজন জেনারেটর অপারেটর উপস্থিত থাকতে হবে।
১৩। জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সম্প্রীতি কমিটি গঠন করতে হবে।
১৪। পূজা মণ্ডপের আশেপাশে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ ও রাস্তায় গাড়ি পার্কিং বন্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
১৫। পূজা উপলক্ষে মেলা বা অন্য কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন নিরুৎসাহিত করতে হবে।
১৬। নির্ধারিত সময়ে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন করতে হবে।
১৭। যে কোনো পরিস্থিতিতে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে (ফোন: ০১৩২০-১০৮৩৯৮) যোগাযোগ করার নির্দেশনা দেয়া হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পূজা মণ্ডপের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ভলান্টিয়ার, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণের সক্রিয় সহযোগিতাই হতে পারে শান্তিপূর্ণ দুর্গাপূজা উদযাপনের মূল চাবিকাঠি।
Leave a Reply