শরীয়তপুরের জাজিরায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অবৈধ ভাবে শিক্ষক নিয়োগ

মো: ফারুক হোসেন, শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধিঃ শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার সেনেরচর চোকদার মেমোরিয়াল একাডেমীর ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সি.এম ইদ্রিছ আলী ও জাজিরা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক অবৈধ ভাবে তিন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে, নিয়োগ বানিজ্য করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা হলেন মোঃ মাসুম কবির, সহকারী শিক্ষক (গণিত ও বিজ্ঞান), শেখ মহিউদ্দিন ইলিয়াছ (সামাজিক বিজ্ঞান), মোঃ নজরুল ইসলাম সহকারী শিক্ষক (ইসলাম ধর্ম)।
অবৈধভাবে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়কে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও এলাকাবাসীর মধ্যে শুরু হয়েছে বিভিন্ন প্রকার সমালোচনার ঝড়। ২০০৯ সালে জাজিরা উপজেলার সেনেরচর ইউনিয়নে আব্দুল আজিজ মুন্সীকান্দি গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে চোকদার মেমোরিয়াল একাডেমী। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা শুরুর লগ্ন থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সাল পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে কর্মরত ছিলেন কে.এম আতাউর রহমান (মুকুল), ৭ অক্টোবর ২০১৭ সাল থেকে অদ্য পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে কর্মরত আছেন মোঃ তাইজুল ইসলাম। ২৩ অক্টোবর ২০১৯ সালে বিদ্যালয়টি এম.পিও ভুক্ত ঘোষণা হওয়ার পর, জাজিরা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার যোগ-সাজোসে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সি.এম ইদ্রিছ আলী, মাধ্যমিক শিক্ষক নিয়োগ আইন ২০১৫ এন.টি.আর.সি.এ নিয়োগ ব্যবস্থা নীতিমালাকে অমান্য করে ২০১৬ সালের যোগদানকৃত সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলাম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সালের যোগদানকৃত সহকারী শিক্ষক শেখ মহিউদ্দিন ইলিয়াছ। ১ জানুয়ারী ২০২০ সালের যোগদানকৃত সহকারী শিক্ষক মোঃ মাসুম কবিরকে অবৈধভাবে নিয়োগ কমিটি গঠন করে ২০১৪ সালে যোগদান ও তাদের নিয়োগ দেখানো হয়েছে। যাহা শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা পরিপন্থী। কিন্তু বিদ্যালয়ের শিক্ষক হাজিরায় তাদের কোন স্বাক্ষর নেই। বিদ্যালয়ের দপ্তরী মোঃ ইউনুছ খান জানান, সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলাম প্রায় দেড় মাস আগে আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে সু-কৌশলে ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয়ের পুরাতন শিক্ষক হাজিরা খাতা নিয়ে স্বাক্ষর করেছেন। দপ্তরী ইউনুছ আরও বলেন, সভাপতি সি.এম ইদ্রিছ আলী বিদ্যালয়টি এম.পিও ভুক্ত হওয়ার পর আমার নিয়োগের জন্য আমার কাছ থেকে তিন লক্ষ টাকা দাবী করেছে। আমি তিন লক্ষ টাকা দিতে না পারায় আমাকে চাকুরীচ্যুত করা হয়েছে। সভাপতি সি.এম ইদ্রিছ আলী আমার জীবন ধ্বংস করে দিয়েছে। আমি ১০টি বছর যাবৎ বিনা বেতনে খেয়ে না খেয়ে বিদ্যালয়ে শ্রম দিয়েছি।
ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যকরী সদস্য মোঃ রিপন ঢালীর কাছে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, শেখ মহিউদ্দিন ইলিয়াস সেনেরচর করিম উদ্দিন দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন। চার-পাঁচ মাস যাবৎ আমাদের বিদ্যালয়ে যোগদান করেছেন, সহকারী শিক্ষক মোঃ মাসুম কবীর এক-দেড় মাস যাবৎ বিদ্যালয়ে যোগদান করেছেন। সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলাম ২০১৬ সালে সভাপতি সি.এম ইদ্রিছ আলী সাহেবের বাড়ীর মসজিদে ইমাম ও বিদ্যালয়ের খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছেন।
সাবেক প্রধান শিক্ষক কে.এম আতাউর রহমান মুকুল এর কাছে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠা শুরু লগ্ন থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সাল পর্যন্ত আমি চোকদার মেমোরিয়াল একাডেমীর প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে কর্মরত ছিলাম। আমি থাকা কালীন অবস্থায় মোঃ মাসুম কবির, শেখ মহিউদ্দিন ইলিয়াছ নামে ঐ বিদ্যালয়ে কোন শিক্ষক ছিলো না। নজরুল ইসলাম ২০১৬ সালে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছেন। কিন্তু আমি কর্মরত থাকা অবস্থায় তাঁর কোন নিয়োগ হয়নি। অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে কে.এম আতাউর রহমান মুকুল বলেন, আমি কর্মরত থাকা অবস্থায় ঐ বিদ্যালয়ে কোন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছিলেন না। যদি কোন ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে থাকে তাহা সম্পূর্ণ অবৈধ।
বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মোঃ তাইজুল ইসলাম বলেন, মোঃ মাসুম কবীর, ১ জানুয়ারী ২০২০ শেখ মহিউদ্দিন ইলিয়াছ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ এবং নজরুল ইসলাম, ২০১৬ সালে সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেছেন। প্রধান শিক্ষক আরও বলেন এই শিক্ষকদের নিয়োগ সংক্রান্ত কোন কাগজপত্র আমার কাছে নেই।  বিদ্যালয়ের সভাপতি আমাকে বলেছেন তাদেরকে ক্লাস নেওয়ার সুযোগ করে দিতে, এর বাইরে আমার কোন বক্তব্য নেই।
সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলাম, মোঃ মাসুম কবির, শেখ মহিউদ্দিন ইলিয়াছ, এদের কাছে তাদের নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে, তারা কোন বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি।
বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সি.এম ইদ্রিছ আলী ও জাজিরা উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা  মোজাম্মেল হকের কাছে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা দুজনেই বিষয়টিকে বিভিন্ন ভাবে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, ২০১৪ সাল থেকে চোকদার মেমোরিয়াল একাডেমীতে ঐ নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষকগণ কর্মরত ছিলেন।
শরীয়তপুর জেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ এমারত হোসেন মিয়াঁর সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি বলেন, সহকারী শিক্ষক নীতিমালা আইন অমান্য করে যদি অবৈধ নিয়োগ কমিটি গঠন করে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে থাকেন, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।