লাখ টাকা পেলেও আগের থেকে বেশি অভাবী কুদ্দুস বয়াতি

‘আমি যে সময় ১ টাকায় প্রোগ্রাম করতাম, মানুষের বাড়িতে যাইতাম, সারা রাইত গান গাইতাম। বাড়ি ফিরার সময় আমাকে আধাশের চাউল তুলে দিতো। তখন যেমন ছিলাম এখন পঞ্চাশ হাজার থেকে লাখ টাকা পাই তবু আগের থেকে এখন বেশি অভাবী।’কথাগুলো বলেন লোকগানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কুদ্দুস বয়াতি। কুদ্দুস বয়াতির গানের শুরুটা খুব সহজ ছিল না। অনেক কষ্ট করেই গান শিখতে হয়েছে তাকে। তিনি বলেন, ‘‘জালটাল বাইয়া যখন বইছি তখন রাত্র হইয়া গেছে গা। সবাই ঘুমিয়ে গেছে। এ সময় আমি গান আরম্ভ করছি ‘দুঃখে দুঃখে গেল এ জীবন, পাগল মন মনরে আমার দুঃখে দুঃখে গেল এ জীবন।’’ কুদ্দুস বয়াতির গানের গুরু মনসুর বয়াতি। কৈশোরে ভীষণ অর্থকষ্ট ছিল কুদ্দুস বয়াতির। সেই সংকটকালের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমার ওস্তাদ মনসুর বয়াতি। এগার-বারো বছর বয়সে স্কুল ফাঁকি দিয়ে, রাতে লুকিয়ে ওস্তাদের বাড়ি চলে যেতাম। সে সন্তানের মতো আদর করতো। ওস্তাদ আমাকে রাতে আগায়ে দিত। ওস্তাদ ১৯৮৮ সালে মারা যান। তার ভাইয়েরাও আমাকে জান-পরাণ দিয়ে আদর করতো। খাওয়াতো। অনেক সময় খেতে পারিনি, তখন তারা খাওয়াইতো।’ প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের একটি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মিডিয়ায় পরিচিতি পান কুদ্দুস বয়াতি। এরপর অসংখ্য জনপ্রিয় গান গেয়ে শ্রোতাদের মনে স্থান করে নেন। দেশ ছাড়াও ৪৭টি দেশে স্টেজ শোয়ে গান পরিবেশন করেছেন কুদ্দুস বয়াতি। তবে এ শিল্পী এখন অনেকটাই অন্তরালে চলে গেছেন। তাকে এখন আর খুব বেশি দেখা যায় না। অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে জীবন চলছে তার। এক টাকা পারিশ্রমিকে গান শুরু করলেও এখন ১ থেকে দেড় লাখ টাকা পারিশ্রমিক নেন এই শিল্পী। কিন্তু তারপরও আগের তুলনায় তার এখন আরো বেশি অভাব। তার ভাষায় ‘পৃথিবীতে কেউ সুখি নয়। আমি বিশ্বাস করি পৃথিবীতে যত লোক আছে সবাই দুঃখী। সুখ নামে কোনো শব্দ এ পৃথিবীতে নেই। যে দশটা-বিশটা বাড়ির মালিক সেও আশা করে আরো দশটা বাড়ি করার। এজন্য বলি, পৃথিবীতে সুখের কোনো খবর কারো কাছে নেই।’ করোনা মহামারির কারণে গানের আসর বসে না। স্টেজ শো বন্ধ। তাই কুদ্দুস বয়াতিও বেকার সময় পার করছেন। এই সময় তিনি ইউটিউব, ফেসবুকে কনটেন্ট তৈরি করে প্রকাশ করছেন। কখনো গান গেয়ে ধান কাটেন আবার কখনো গান গেয়ে মাছ ধরেন। কখনো এলাকার মানুষদের নিয়েও বসে যান গানের মজলিসে। এভাবেই সময় পার করছেন বলে জানান কুদ্দুস বয়াতি।