‘লতিরাজ’ কচুতে ভাগ্য বদল শ্রীপুরের আজিজুলের!

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর (গাজীপুর) থেকেঃ—অন্যের মালিকানাধীন রিকশা ভাড়ায় চালিয়ে টেনেটুনে চলা অভাবের সংসারে সচ্ছলতা এনে দিয়েছে লতিরাজ কচু। আর এ কচু চাষেই ভাগ্য বদল হলো আজিজুল ইসলামের। ‘লতিরাজ’ কচু চাষ করে তিনি পরিশোধ করেছেন পূর্বে গ্রহন করা সমিতির ঋন,তৈরি করেছেন আধাপাকা একটি বসতবাড়ি ।

গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে আজিজুল (৫০) । দুই কন্যা সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে লতিরাজ কচু চাষে এখন ভালোই আছে তার সংসার। আজিজুলের বাড়ি থেকে পাইকাররা লতা ও কচু নিয়ে যায় জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ স্থানীয় হাট-বাজারে।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, এ উপজেলার অনেক এলাকায় বর্ষাকালীন সময়ে কচু চাষে যথেষ্ট উপযোগী। স্থানীয় পর্যায়ে দেশি কচুর পাশাপাশি লতিরাজ নামের একটি কচু কৃষকদের আবাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অগ্রহায়ণ মাসের শুরুতে এ কচুর চারা রোপণ করতে হয়। দুই মাস পর থেকে কচুর লতি বিক্রি করা যায় এবং লতি বের হওয়া বন্ধ হলে কচু বিক্রি করে দিতে হয়। আর এটা বিক্রি চলে শ্রাবণ মাস পর্যন্ত।

আজিজুল ইসলাম জানান, ‘অভাবের সংসারে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। কৃষি কাজ করার মতো নিজের কোন জমিও নেই। তাই এক সিজনের ফসল প্রতি ৮ হাজার টাকায় সাড়ে তিন বিঘা চুক্তিবদ্ধ জমিতে ঋণ নিয়ে ‘লতিরাজ’ কচুর চাষ শুরু করি।কচু চাষে তেমন বেশি খরচ হয় না। সাড়ে তিন বিঘা জমিতে কচু চাষে মজুরি ও যাতায়াত খরচসহ মোট উৎপাদন খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা।

তিনি আরও বলেন, কচুর চারা রোপণের ২০ দিন পরপর ৬ মাস পর্যন্ত হালকা নিড়ানি দিতে হয়। কচু গাছের যখন তিন মাস বয়স হয় তখন গাছের গোড়ায় যে লতি বের হয় তা কেজিপ্রতি খুচরা বিক্রি হয় ৪০ থেকে ৫০ টাকা। আর কচু বিক্রি করতে হয় ১৫-২৫ টাকা দরে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ হাজার টাকার কচুসহ লতি বিক্রি করেছি। এ বছর সবমিলিয়ে দেড় লাখ টাকা বিক্রি হবে বলে আশা করছি।

শ্রীপুরের কাঁচামাল ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, আজিজুলের খেতের কচু ও লতা দুটোই সুস্বাদু বলে ক্রেতারা জানিয়েছেন। চাহিদার কারনে তার বাড়ী থেকে এগুলো কিনে থাকি।

গাজীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাহবুবুর আলম দৈনিক আমার সময়-কে জানান, আজিজুল ইসলামের মতোই অনেক কৃষক সবজি উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আধুনিক উপায়ে ফসল উৎপাদনে কৃষি অফিস থেকে তাদেরকে যথাযথ পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। পরিশ্রমী সবজি উৎপাদনকারী হিসেবে আজিজুল ইসলামকে সরকারের দেয়া প্রণোদনা ও প্রদর্শনীর আওতায় আনা হবে।