একসময় নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছিল উপজেলার সাধারণ মানুষের অন্যতম চিকিৎসা ভরসা। তবে বর্তমানে নানা অনিয়ম, দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য এবং হাসপাতালের শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে রোগীরা সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্বল্প ব্যয়ে চিকিৎসা নিতে আসা দরিদ্র রোগীদের জন্য এই প্রতিষ্ঠান এখন যেন এক ভোগান্তির কেন্দ্রস্থল। হাসপাতালের মূল ফটক থেকে শুরু করে অভ্যন্তরীণ ও বহির্বিভাগে দালালদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা নানা কৌশলে রোগীদের বোঝায়, হাসপাতালের যন্ত্রপাতি নষ্ট, রিপোর্ট নির্ভরযোগ্য নয়, চিকিৎসাও যথাযথভাবে হয় না। ফলে রোগীরা বাধ্য হয়ে প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে দ্বিগুণ খরচে সেবা নিতে বাধ্য হন। একজন হতাশ রোগীর স্বজন বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, সরকারি হাসপাতালে এসেছিলাম কম খরচে চিকিৎসা নিতে। কিন্তু দালালরা জোর করে বাইরে নিয়ে গেল। দুই হাজার টাকার পরীক্ষা লিখে দিয়েছে। এত টাকা কোথায় পাবো ? বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।” দালালদের পাশাপাশি, হাসপাতালের ভেতরে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশও রোগীদের জন্য বড় দুর্ভোগের কারণ হয়ে উঠেছে। চিকিৎসকদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় আলোচনা করে তারা রোগী দেখার কাজে বিলম্ব ঘটায়। এতে রোগীরা যেমন ভোগান্তিতে পড়েন, তেমনি সেবার মান নিয়েও তৈরি হচ্ছে প্রশ্ন। স্থানীয় অনেকেই অভিযোগ করছেন, এইসব অনিয়মের কারণে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। অনেকেই এখন বাধ্য হয়ে প্রাইভেট চিকিৎসাকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন, যা অর্থনৈতিকভাবে তাদের জন্য বড় চাপ।
Leave a Reply