গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ইউনিয়নের কাওরাইদ গ্রামে রেললাইনের নিচে ফেলে হত্যার অভিযোগে দাফনের ১৭ মাস পর মো. তোফাজ্জল হোসেন নামে এক ব্যক্তির লাশ উত্তোলন করা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশে বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) বিকেলের দিকে শ্রীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল মামুনের উপস্থিতিতে লাশটি উত্তোলন করা হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য স্থানীয় ইউপি সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
নিহত মো. তোফাজ্জল হোসেন (৩০) উপজেলার কাওরাইদ গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে। তিনি কাওরাইদ ইউনিয়নের যুবলীগের সদস্য ছিলেন।
স্বজনদের অভিযোগ, অভিযুক্তরা হাত পা কেটে সুপরিকল্পিতভাবে চলন্ত ট্রেনের নিচে ফেলে তোফাজ্জল হোসেনকে হত্যার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে ১৩ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই যুবলীগ কর্মীর মৃত্যু হয়।
অভিযুক্তরা হলেন, মো. রাকিব মিয়া (৩২), মো. মোকলেছ মিয়া (৩০), মো. হারুন (৩০), দেলোয়ার (৪০), মো. রুবেল (২৮), রাসেল (২৫) ও কামরুল আহসান গোলাম (৫০)।
নিহতের বড়ভাই মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘২০২২ সালের ৮ জুন রাতে মামলার প্রধান আসামি রাকিব তোফাজ্জল হোসেনেকে মোবাইল ফোনে ডেকে নেয়। এরপর রাত পৌনে ১টার দিকে ভাইয়ের সঙ্গে সর্বশেষ কথা তাঁর স্ত্রী রিতা আক্তারের। এ সময় সে বাসায় আসতে দেরি হবে বলে ফোন কেটে দেয়’। এরপর সারা রাত তিনি বাসায় আসেনি। ২০২২ সালের ৯ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মামলার অভিযুক্ত দেলোয়ারা স্থানীয়দের ডেকে বলে তোফাজ্জল রেললাইনের নিচে কাটা পড়েছে। এরপর তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শ্রীপুর পরে ময়মনসিংহ ও ঢাকার হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ২২ জুন তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর আগে অভিযুক্তদের নাম বলে যায় দাবি তিনি আরও বলেন” সে রেললাইনে কাটা পড়ে আহত হয়নি। তাকে ফোনে ডেকে নিয়ে দা দিয়ে ডানহাত কেটে বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরে নির্যাতন চালিয়ে গুরুতর আহত করে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে রেললাইনের ওপর ফেলে যায়। ওই সময় তিনি রেললাইনের ওপর থেকে কিছুটা দূরে সরে আসতে পারেন।
অভিযুক্তদের সঙ্গে তোফাজ্জল হোসেনের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। ঘটনার আগের শুক্রবার অভিযুক্ত দেলোয়ারের সঙ্গে তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে ঝগড়া হয়। ওই দিনই তাঁর ভাইকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
নিহতের স্ত্রী রিতা আক্তার বলেন, ‘রাত পৌঁনে ১টার দিকে আমি আমার স্বামীকে ফোন করি। সেসব বাসায় আস দেরি হবে। এ সময় আমি জানতে চায় কে আছে তোমার সঙ্গে, তখন প্রতি উত্তরে জানায় রাকিব আর মোকলেছ তার সঙ্গে রয়েছে। এরপর সকালে আমার স্বামীকে রেললাইনের পাশে পড়েছিল”।
জানা যায়, এ ঘটনার পর একই বছরে ৩০ এপ্রিল নিহতের বড়ভাই মোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে গাজীপুর আদালতে হত্যা মামলা করেন। এরপর বিজ্ঞ আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গাজীপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পরিদর্শক (তদন্ত) রাফিকুল ইসলাম দৈনিক আমার সময়কে বলেন, “মামলার তদন্তের স্বার্থে আদালতের অনুমতি চাওয়া হয়। মহামান্য আদালতের নির্দেশনায় লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরেী শহিদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে”।
Leave a Reply