রিজার্ভ থেকে ব্যবসায়ীদের ঋণ দেয়া ঠিক হবে না: অর্থনীতিবিদ

কোনো চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবার আগেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের ডলার থেকে ঋণ চেয়েছেন বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উদ্যোক্তারা। রিজার্ভের ঋণে নতুন কেন্দ্র নির্মাণ ও বিদেশি ঋণ শোধ করতে চান তারা। তবে, শুধু বিদ্যুৎ খাত নয়, রিজার্ভ থেকে অভ্যন্তরীণ কোন খাতেই ঋণ দেয়ার পক্ষে নন অর্থনীতিবিদরা। অন্যদিকে শুধু সরকারি প্রকল্পে রিজার্ভের অর্থ ব্যবহারের সুবিধা রেখে নীতিমালা করতে চায় সরকার। বাংলাদেশ ব্যাংকে রিজার্ভের ছাড়িয়েছে ৪৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। আর এই রিজার্ভের অর্থ মেগা প্রকল্পের জন্য বিণিয়োগ করা হবে কি না, তা নিয়ে চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবার আগেই এই তহবিল থেকে ঋণ চেয়েছে বাংলাদেশ ইন্ডিপেনিডন্ট পাওয়ার প্রডিউসার এসোসিয়েশন। বিআইপিপিএ এর সভাপতি ইমরান করিম বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যে সুদটি উদ্যোক্তারা প্রাপ্ত হবেন সে সুদের হার ৩-৪% হবে বলে আমি শুনেছি। এই ফান্ডগুলো যদি এই সুদের হারে আমাদের দেওয়া হয় তাহলে ওই প্রোজেক্টগুলো ৬% এর জায়গায় ৪% কিংবা ৩% সুদ এনজয় করতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের উপার্জন বাড়বে এ বর্ধিত ৬-৪% কিংবা ৩% এর যে ব্যাবধান আছে এ বর্ধিত অর্থ এটা বিদেশে চলে যেত সেটা এখন আর যাবেনা। আমরা পলিসির ব্যাপারে এখনও সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা পাইনি, এটা আমাদের আশাবাদ। তবে, ব্যবসায়ীদের এই দাবি অযৌক্তিক বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর। পিআরআই এর নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, সরাসরি একটা কেন্দ্রিয় ব্যাংক কোন ব্যাক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানকে দিতে পারে না। কোন দেশের কেন্দ্রিয় ব্যাংক এটা করে না। অনেক ব্যাংক আছে যারা ট্রায়াল লোন দিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কেন নজর দিচ্ছে তারা। এদিকে, রিজার্ভের টাকা প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য একটা নীতিমালা করার বিষয়টি জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ৪৩-৪৪ মিলিয়ন ডলার রির্জাভ আছে ন্যাচারালি দেখতে ভাল লাগে। পাকাঁ ফল নজরে পরে কিন্তু বললে তো হবে না। এটা তো কষ্টের ইনকাম, এই কষ্টের ইনকাম যক্ষের মতো ধরে রাখতে হবে। কিন্তু বেড় না করলে বোকামি হবে, এটা ডিম দিচ্ছে নাতো। বাংলাদেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি।এর মধ্যে ৪৮ শতাংশ উৎপাদন ক্ষমতার ভাগিদার বেসরকারি খাত। যদিও বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকায় মোট সক্ষমতার অর্ধেকই বছররের বেশিরভাগ সময় বসে থাকে।