রায়পুরে টানা বর্ষণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি, ৭ গ্রাম প্লাবিত

রায়পুর (লক্ষীপুর) প্রতিনিধি : লক্ষীপুরের রায়পুরে প্রবল বর্ষণ ও মেঘনা নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে উপকূলীয় ৭টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি আটকে থাকার কারণে বেড়িবাঁধের বাহিরের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও মেঘনা নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ৪ ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপকূলীয় গ্রামগুলোর লোকজন পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, প্লাবিত গ্রামগুলো হলো, জালিয়ার চর, হাজীমারা, কুচিয়ামোড়া, চরল²ী, চর কাচিয়া, চর ঘাশিয়া, টুনুর চরসহ ৭টি গ্রাম। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মুষলধারে বৃষ্টি ও ঝড় বয়ে যাওয়ার কারনে গাছপালা, কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন গৃহপালিত পশু ও বৃদ্ধ এবং শিশুরা। পানি বৃদ্ধির ফলে নিন্মাঞ্চল এলাকার সংযুক্ত খাল, বসতঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাট হাঁটু পরিমান কোথাও কোমর পরিমান পানিতে ডুবে আছে। জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার পুকুর, মাছের ঘেরের অন্তত অর্ধকোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। এসব এলাকার বেশীরভাগ অঞ্চল জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শত শত মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এদিকে ঐ অঞ্চলের অন্তত ২ হাজার পানের বরজ কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে। পনিবন্দী হয়ে পড়ায় ঐ অঞ্চলের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। তবে কি পরিমান ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা জানাতে পারেননি উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর।

দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মাষ্টার জানান, কয়েক বছরের মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গনে অনেক ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। নদী ভাঙ্গনের হুমকিতে রয়েছে আরো কয়েক’শ একর ফসলি জমি। নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলেই বেড়িবাঁধের বাহিরের এলাকায় জোয়ারে ঐসব গ্রাম প্লাবিত হয়ে যায়। এ সময় এলাকায় দুর্ভোগ নেমে আসে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামিম বানু শান্তি জানান, টানা বর্ষণ ও জোয়ারের পানি বৃদ্ধির কারণে বেশ কিছু কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি ও সড়কের গাছসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নির্ধারণের কাজ চলছে।