রাস্তায়-ঘরে ও মার্কেটে জল-পানিতে নাকাল চট্টগ্রাম

জাহাঙ্গীর আলম,বিশেষ প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামে সকাল থেকে বৃষ্টির কারণে হাঁটু পানিতে তলিয়ে গেছে নগরীর নীচু এলাকা। এই সময় বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী মানুষ। এছাড়া সড়কে পানি জমে যাওয়ায় যানবাহনগুলো ধীর গতিতে চলাচল করেছে।

 

ভারী বর্ষণ আর জোয়ারে বাংলাদেশের বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বহু এলাকাই এখন কোমর থেকে বুক পরিমাণ পানিতে ডুবে আছে৷ এটাকে স্মরণকালের ভয়াবহ জলাবদ্ধতা বলে আখ্যায়িত করছেন অনেকে৷

সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত এই নগরীর প্রাকৃতিকভাবে সাগর-নদী-খালের সাথে যুক্ত৷ অল্প জোয়ারে ভেসে যায় অনেক এলাকা৷ এবারে সেই জোয়ারের উচ্চতাও বেশি৷ তার সাথে যুক্ত হয়েছে বৃষ্টি৷ নগরীর আবর্জনায় ভরা ড্রেন, দখল হয়ে যাওয়া খাল পরিস্থিতিকে করেছে শোচনীয়৷

 

আজ (৬)জুন সকাল শুরু হওয়ায় এ বৃষ্টিতে দুর্ভোগে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ। জলাবদ্ধতার ভোগান্তিতে নগরবাসী।

 

চট্টগ্রাম অক্সিজেন ২ নম্বর গেট, মুরাদপুর, প্রবর্তক মোড়, চকবাজার খাল পাড়, সাগরিকা, নয়াবাজার, আগ্রাবাদ ও হালিশহরসহ অনেক জায়গা পানিতে তলিয়ে গেছে। তার সাথে যুক্ত হয়েছে জোয়ারের পানি ঠিকভাবে নিষ্কাশন না হওয়ায় উচু জায়গায় ও পানি জমে থাকতে দেখা গেছে যেমন রিয়াজ উদ্দিন বাজার / টেরিবাজার সহ বিভিন্ন মার্কেটে দোকানের ভিতরে পানি ঢুকতে দেখা গেছে। সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতা ও খাল-ড্রেনের ময়লা জমে থাকায় প্রতিবারই বৃষ্টির সময় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় নগরবাসীর।

এদিকে চাক্তাই খাল ও হিজড়া খাল পুরোপুরি পরিষ্কার না হওয়ায় বৃষ্টির পানি আশপাশের ঘর-বাড়িতে উঠে গেছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএ’র অধীনে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান প্রকল্পের অধীনে নগরের বিভিন্ন খালে বাঁধ দেওয়া হয়েছে, যা এখন জলাবদ্ধতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন নগরবাসীরা।

 

নগরবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জনপ্রতিনিধিরা প্রতিবারই আশ্বাস দেয়, কোনো কাজ হয় না। কোনো সংস্থা কার্যকর উদ্যোগ নেয় না। ফলে প্রতিবছর জলাবদ্ধতার ভোগান্তি পোহাতে হয়।

 

এদিকে বৃষ্টির কারনে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করা বাসিন্দাদের ভারী বর্ষণের পাহাড় ও ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে।

 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান বলেন, ‘পাহাড়ি এলাকায় লোকজনদের সতর্ক করতে আমরা মাইকিং করেছি। পাশাপাশি আমরা সবধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’

 

আবহাওয়াবিদ শহীদুল ইসলাম বলেন, প্রাক মৌসুমি বায়ু ও লঘুচাপের প্রভাবে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হবে।