রাগ করে না বোন আমার!

লায়ন মুহা. মীযানুর রহমানঃ  কয়েকদিন থেকেই মনটা খুব খারাপ। খুব কাছ থেকে দেখা একজন নারী নেত্রী ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন ‘ রাজনীতি থেকে মনে হয় বিদায় নিতে হবে, নায়ক নায়িকাদের এত ভীড়ে আমাদের আর দেখা পাওয়া কঠিন।’ খুব অভিমান নিয়েই লিখেছেন এ স্ট্যাটাস। তিনি সাবিনা আক্তার তুহিন। রাজপথ কাঁপানো নারী নেত্রী ও জাতীয় সংসদের মহিলা সংসদ সদস্য তিনি।

তিনি আরও লিখেছেন – ‘আন্দোলন সংগ্রামের রোদে পোড়া শরীর এখন কিছুটা ভাল দেখতে হলেও নায়িকাদের রুপে বিলীন। ক্ষমতায় থাকতে এত লোক বিরোধী দলে থাকতে তো দেখি নাই। মেয়েদের রাজনীতিতে কেবলই জ্বালা, নায়িকা জ্বালা। আবার মেয়ে হওয়ার জন্য পুরুষের চাইতে বেশি কাজ করলেও সাধারণ আসনে নমিনেশন দেয়া যাবে না। সরকারী দলের চাইতে তো বিরোধী দলেই ভাল ছিলাম, নিজেদের দল নিজেদের ছিল।

এখন মহাবিপদ, আমাদের দল ছিনতাই করছে নায়িকা হাইব্রিড বিএনপি থেকে আমদানিকারীরা।’ আসলেই এটি একটি ভাববার বিষয়। নায়িকারা হঠাৎ রাজনীতিতে অর্থাৎ নমিনেশন পাওয়ার জন্য এতো উৎসাহী হয়ে উঠলো কেন! রাজনীতি তো অভিনয়ের জায়গা না। রাজনীতি সংগ্রামের জায়গা, লড়াইয়ের জায়গা। এখানে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হয় দেশের প্রয়োজনে, দলের প্রয়োজনে। কিন্তু নির্বাচন এলেই মৌসুমী তারকাদের ভিড় দেখা দেয় রাজনীতিতে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে একমাস আগে।

তখনও মনোনয়নের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন তারকাখ্যাত নায়িকারা। মূল আসনে মনোনয়ন না পেয়ে এখন সংরক্ষিত আসনের জন্য তাদের দৌড়ঝাঁপ। স্বাভাবিকই প্রশ্ন আসে- আসলেই কি মৌসুমীদের ভীড়ে হারিয়ে যাবে রাজপথের ত্যাগী সেসব নেত্রীরা। সাবিনা আক্তার তুহিন একটা সংবাদমাধ্যমকে বলেন- ‘আমরা যারা দীর্ঘদিন রাজনীতির মাঠে সক্রিয় ছিলাম বা বুদ্ধিজীবিদের এই অবস্থানে আসাটা আশানুরূপ। কিন্ত এত নায়ক নায়িকাদের আসতে চাওয়াটা আসলেই দুঃখজনক। রাজনীতির মাঠ কোন অভিনয়ের মঞ্চ না। এটা বাস্তব ভিত্তিক সংগ্রামের জায়গা। নায়ক নায়িকাদের শুধুমাত্র অভিনয়ের মঞ্চেই মানায়। রাজনীতির মাঠে নয়।’ রাজনীতির মাঠেও মানাতো যদি তারা রাজনীতিকেই মনে প্রাণে গ্রহণ করে। সবসময় দলের জন্য দেশের জন্য কাজ করে। রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহন করতো। কিন্তু তা তো তারা করছে না। শুধু নির্বাচন আসলেই রাজনৈতিক অঙ্গনে তাদের আনাগোনা বেড়ে যায়। যাই হোক ফিরে আসি সাবিনা আক্তার তুহিনের কথায়। আওয়ামী লীগের এখন ভরা যৌবন। চারদিকে আওয়ামী লীগের জয়জয়কার। এই জয়জয়কারের ভীড়েও আসলেই কি সবাই সত্যিকারের মুজিব আদর্শ বুকে ধারন করে আওয়ামী লীগ করে? সুবিধাবাদীরাও আওয়ামী লীগের সুখের দিনে উড়ে এসে জুড়ে বসতে চায়! এ নিয়ে খোদ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকও বেশ কয়েকবার কথা বলেছিলেন। উড়ে এসে জুড়ে বসাদের ‘কাউয়া’ বলেও অবহিত করেছেন। এই সব কিছুর ভীড়ে আমার দেখা মুজিব আদর্শের নির্ভীক সৈনিকদের একজন সাবিনা আক্তার তুহিন।

নারী নেতৃত্বের উজ্জ্বল নক্ষত্র যুব মহিলা লীগের আইকন খ্যাত একজন সুযোগ্য কর্নধার ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের সভাপতি সাবিনা আক্তার তুহিন। অসাধারণ প্রতিভাবন ও সুবিচক্ষনতার অধিকারিণী এ নেত্রী নারী জাগরনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। রাজধানী ঢাকার মীরপুরের গণমানুষের প্রিয় এই নেত্রী ইতিমধ্যে দেশরত্ন শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন। দলের দুর্দিনে সবসময় আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। সাবিনা আক্তার তুহিন আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে শিকার হয়েছেন ৫৬টা মামলার। ১৮ বার জেল খেটেছেন, ২১ দিনের শিশুকে বাসায় রেখে জেলে যেতে হয়েছিল এই ত্যাগী নেত্রীকে। সদা মিষ্টভাষী এ নেত্রী মাঠে কাজ করতে সকলকে কাছে টেনে নেওয়ার মানবিক গুনাবলী প্রখর।

মিরপুরবাসীর মনে আস্থার জায়গা তৈরি করে নিয়েছেন। রাজনীতিতে সাধারন জনগনের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সাধারন জনগনকে নিয়ে সভা-সমাবেশ ও জনগনের কাছে নিজে গিয়ে শুনেছেন তাদের দুঃখের কথা। সেই অনুযায়ী পাশে দাঁড়িয়েছেন সাধারণ মানুষের। স্কুল জীবনে জননেত্রীর শেখ হাসিনার সাথে স্মৃতি নিয়ে সাবিনা আক্তার তুহিন একটি …… বলেছিলেন -‘আমার স্কুল জীবনে রাজপথে দেখা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আবেগময় স্মৃতি, বিএনপির অপশাসনের বিরুদ্ধে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘ পদযাত্রা দিয়েছিলেন সেদিন আমি আমি কর্মী ছিলাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনার আজ ও আছি নেত্রী আপনার কর্মী হয়ে, শৈশব কৈশরের প্রিয় মানুষ ভালবাসা আপনি মৃত্যু যেন হয় আপনার কর্মী হয়ে।

ভালবাসার মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছি কারন আপনাকে মমতাময়ী মায়ের রুপে দেখে মুগ্ধ হয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার মায়ার কথা ভুলতে পারি না, আমি তখন স্কুলে পড়ি বিশাল পদযাত্রা ছিল মহাখালী থেকে টঙ্গী, আমার কাছে সেদিনের ছবি নেই আপনার পাশে নাজমা রহমান (মৃত) ছিল আমি তারপাশে, অনেকদূর হাঁটার পর আপনার জন্য নেতাকর্মীরা রিক্সা ঠিক করলে আপনি রিক্সায় নাজমা আপাকে নিয়ে উঠে আমাকে ডাকলেন পরম মমতায় আমাকে বললেন তুমি ছোট মানুষ এতদূর হাঁটলে কেন এই বলে আমাকে কোলে উঠিয়ে ছিলেন, নেত্রী আমি আপনার কষ্ট বুঝে সেদিন বলেছিলাম আমি বঙ্গবন্ধুর সৈনিক আমি হাঁটতে পারবো আমি নেমে পড়লে আপনি বার বার আমাকে দেখছিলেন পরে আপনি রিক্সা ছেড়ে দিয়েছিলেন । আপনার পিছনে স্টেজে বসে ছিলাম আপনার বক্তৃতা শেষে আপনি আমাকে বললেন তুমি কাদের সাথে এসেছো কিভাবে বাসায় যাবে , নেত্রীর কথার পর দেখি মিরপুরের কেউ নাই আমি একটু চিন্তিত হলাম কিন্তু নেত্রীকে বললাম মিরপুরের তো সবাই চলে গেছে অসুবিধা নেই আমি একা যেতে পারবো।

নেত্রী আমার সমস্যা বুঝতে পারলেন তিনি মোহাম্মদপুরের মকবুল ভাইকে ডেকে বললেন ওকে মিরপুর ওর বাসায় পৌঁছে দিবে। মকবুল ভাই সেদিন আমাকে বাসায় ঠিকই পৌঁছে দিয়েছিলেন। আমার কাছে নেত্রী এক মহামানব হয়ে গিয়েছিলেন আজও তাই মমতাময়ী মায়ের রুপ নেত্রীর দেখি বার বার। আর শ্রদ্ধা ভক্তিতে উনার কর্মী হয়ে গর্বিত হই। আমি আর একটি পদযাত্রায় যাই মিরপুরে ২৬ জানুয়ারী ৯৫ সালে আমি তখন মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের কর্মী। আমাকে দেখে নেত্রী বললেন কেমন আছ আমি অবাক হয়ে গেলাম আমাকে মনে রেখেছে নেত্রী, আমাকে!

লেখকঃ সাংবাদিক ও কলামিষ্ট।