চট্টগ্রাম নগরীর ১৭ নং ওয়ার্ড পশ্চিম বাকলিয়া রসুলবাগ আবাসিকে দীর্ঘদিনের পরিবেশ দূষণ ও অস্বাস্থ্যকর ডাস্টবিন ইস্যুতে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের জেরে দৈনিক আজকের বাংলা পত্রিকার চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যুরো চীফ ইসমাইল ইমনকে সরাসরি হুমকি ও অশ্রাব্য গালিগালাজের মুখে পড়তে হয়েছে। ঘটনাটি ১৬ নভেম্বর রবিবার বিকেল পাঁচটায় ঘটে।
আবাসিক এলাকা, মসজিদ ও কবরস্থানের সামনে ডাস্টবিনের কারণে এলাকাজুড়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি, দুর্গন্ধ ও কুকুরের উৎপাত ভয়াবহ আকার ধারণ করলেও দীর্ঘদিন তা সরানো হয়নি। গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ পেলে চসিক মেয়র সরেজমিনে গিয়ে অবিলম্বে ডাস্টবিন অপসারণের নির্দেশ দেন। কিন্তু মেয়রের এ নির্দেশ প্রকাশ্যেই অমান্য করে পুনরায় সেখানে ময়লা ফেলা শুরু হলে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।
অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ড্যাব মহাসচিব ডা. সরোয়ার আলম এবং মেয়রের একান্ত সচিব মারুফুল হক চৌধুরী। সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি নথিভুক্ত করতে ভিডিও ধারণ করছিলেন সাংবাদিক ইসমাইল ইমন। ঠিক সেই সময় রসুলবাগ সমাজ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আসাদ উল্লাহ সাংবাদিকের ওপর প্রকাশ্যে হুমকি, অকথ্য গালিগালাজ ও উগ্র আচরণে লিপ্ত হন। এমনকি চসিক কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনেও তিনি একই উগ্রতা দেখান।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—
“সরকারি কর্মকর্তাদের সামনে একজন সাধারণ ব্যক্তি এত বড় দুঃসাহস দেখায় কীভাবে? কোন খুঁটির জোরে মেয়রের নির্দেশ অমান্য করে তিনি প্রকাশ্যে সাংবাদিককে হুমকি দিতে সাহস পান?”
পরবর্তী অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে আরও গুরুতর তথ্য। এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়—আসাদ উল্লাহর বিরুদ্ধে পূর্বেও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তার বাড়িতে অবৈধ ভিওআইপি সরঞ্জাম রাখার তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব অভিযান পরিচালনা করে হাতেনাতে এসব অবৈধ সরঞ্জাম জব্দ করে। এ ঘটনায় বাকলিয়া থানায় মামলা নং ৪৩-১০-১৯ দায়ের করা হয়।
স্থানীয়দের মন্তব্য—
“অবৈধ ভিওআইপি মামলার আসামি হয়েও তিনি কীভাবে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেন? আবার কীভাবে প্রশাসনের সামনে দাঁড়িয়ে উগ্র আচরণ করেন—এ প্রশ্নের জবাব প্রশাসনকেই দিতে হবে।”
ঘটনার পর গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তারা এটিকে শুধু সাংবাদিক নিরাপত্তার ওপর আঘাত নয়, বরং পরিবেশ সুরক্ষা উদ্যোগ, আইনশৃঙ্খলা এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্তৃত্বের ওপর সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।
Leave a Reply