শুধু গ্রেড নয়, বিশ্বাসের জয়ের গল্প গড়েছে হামদর্দ পাবলিক কলেজ। এইচএসসি-২০২৫ এর ফলাফলে ৯৯.৪৬ শতাংশ পাস ও ৯১ জন শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ অর্জনের মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণ করলো—সঠিক দিকনির্দেশনা, নিবেদিত শিক্ষক ও কঠোর পরিশ্রমই পারে গড়তে ব্যতিক্রম সাফল্যের নজির।
বুধবার হামদর্দ পাবলিক কলেজের চত্বরে উদযাপিত হলো এইচএসসি ফলাফল উৎসব। ক্যাম্পাসজুড়ে ছিল আনন্দ, গর্ব ও আত্মবিশ্বাসের এক অপূর্ব মিলন। শিক্ষার্থীদের হাতে ছিল ফুল, মুখে ছিল উচ্ছ্বাস, আর চোখে ছিল ভবিষ্যতের স্বপ্ন।
অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান কলেজের প্রতিষ্ঠাতা এবং হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ (ওয়াকফ) বাংলাদেশ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. হাকীম মো. ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া। তিনি বলেন:“শিক্ষা শুধু ডিগ্রি নয়, এটা হলো ভবিষ্যৎ গড়ার ভিত্তি। হামদর্দ পাবলিক কলেজ সেই বিশ্বাস থেকেই গড়ে উঠেছে—যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে, তাদের ভিতরকার সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তোলা হয়।”
সাথে ছিলেন কলেজের গর্ভনিং বডির সভাপতি অধ্যাপক কামরুন নাহার হারুন, যিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষকের আদর্শ নেতৃত্ব ও শিক্ষার্থীর পরিশ্রম—এই দুই মিলেই অর্জন সম্ভব হয়। এই সাফল্য তাদেরই সম্মিলিত জয়।
সাফল্যের পরিসংখ্যানটি যেমন চমকপ্রদ, তেমনি এর পেছনের গল্পটাও অনুপ্রেরণামূলক।
২০২৩ সালে এই কলেজে জিপিএ-৫ নিয়ে ভর্তি হয়েছিল ৭৬ জন শিক্ষার্থী। অথচ এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ৯১ জন শিক্ষার্থী পেয়েছে জিপিএ-৫। অর্থাৎ, ১৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসিতে জিপিএ-৫ না পেয়েও কঠোর অধ্যবসায়ে তা অর্জন করেছে। এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে—হামদর্দ পাবলিক কলেজ কেবল মেধাবীদের রাখে না, বরং মেধাকে তৈরিও করে।৩৭৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৭১ জন পাস, যা জাতীয় গড় পাসের হার (৫৮.৮৩%) থেকে অনেক বেশি।
কলেজের অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলাম বলেন:“আমরা প্রতিটি শিক্ষার্থীকেই আলাদাভাবে গুরুত্ব দিই। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর বন্ধন, পাঠদানের কৌশল, নিয়মিত মূল্যায়ন—এই সমন্বিত ব্যবস্থাই আমাদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।”
তিনি আরও বলেন, “ড. হাকীম মো. ইউছুফ হারুন ভূঁইয়ার অনুপ্রেরণা, অধ্যাপক কামরুন নাহার হারুনের নেতৃত্ব এবং শিক্ষকদের পরিশ্রমই আমাদের পথ দেখায়।
হামদর্দ পাবলিক কলেজ প্রমাণ করেছে—শিক্ষার মান মানে কেবল ফলাফল নয়, বরং এটি একেকটি জীবন বদলের গল্প। এইচএসসিতে জিপিএ-৫ না পাওয়াদের সফল রূপান্তরই তার বড় উদাহরণ।
নির্বাচিত নয়, প্রস্তুত করা শিক্ষার্থীই একটি প্রতিষ্ঠানকে গড়ার ক্ষমতা রাখে—এই বার্তাই যেন ছড়িয়ে পড়লো হামদর্দের আকাশে বাতাসে।
Leave a Reply