যেখানে বঙ্গবন্ধু ও বাংলার মূল ইতিহাস জানা আবশ্যক

একে সালমান : রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় ছাত্রলীগের সভাপতির অফিসে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এই যেন এক পাঠশালা। যেখানে প্রতিটি ছাত্রলীগের কর্মীদের হাতে-হাতে দেখা যায় বই। কারো হাতে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী, আবার কারো হাতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-যুদ্ধের কাহিনী। কেউ কেউ পড়ার পাশাপাশি হাতে খাতা-কলম নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি-বিজড়িত অধ্যায়গুলো নোট করছে। কেউ কেউ আবার বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শন নিয়ে পাঠ্যালোচনায় মগ্ন। বিশেষ নজর কাড়া ব্যাপার হলো, মোহাম্মদপুর জহুরী মহল্লার ছাত্রলীগের প্রাণকেন্দ্র-জুড়ে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর জীবনী, স্বাধীনতা-যুদ্ধের কাহিনী ও ধর্মীয় গ্রন্থসমূহসহ বিভিন্ন ঘরানার বইÑ যা দেখলে মনে হয় এই যেন এক বঙ্গবন্ধু হওয়ার উৎসাহ-উদ্দীপনা। ছাত্রলীগের এই অফিস থেকেই প্রতিটি কর্মীর রক্তেই বঙ্গবন্ধু হওয়ার সাড়া জাগায়। যেখান থেকে ছাত্রলীগের দুঃসময়েও ছাত্রলীগের কর্মীরা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তাঁর গণভবনের পাশে থেকেই দলের জন্য নিজের জীবনকে বিসর্জন দিতে পিছু হটে না। সরেজমিনে গিয়ে মোহাম্মদপুর থানার ছাত্রলীগের সভাপতি মোজাহিদ আজমি তান্না-কে পাওয়া যায়। তাঁর কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আসলে আমার চাওয়া-পাওয়া হলো ছাত্রলীগের প্রতিটি কর্মীই যেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে। যখন তারা বই পড়ে বঙ্গবন্ধুর জীবনী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সম্পর্কে জানতে পারবে তখন মনে হবে আমি ছাত্রলীগের একজন কর্মী হয়ে বঙ্গবন্ধুর মতো একজন বীরের জীবনী সবাইকে জানাতে পারলাম। বিশেষ করে আমি যেখানেই বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের বই দেখি তাই ক্রয় করে অফিসে এনে রাখি। যেন প্রতিটি ছাত্রলীগের কর্মী এ বইগুলো পড়ে এবং তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে দেশের স্বার্থে একেকজন বঙ্গবন্ধু তৈরি হয়। যদি প্রতিটি ইউনিটে এই উদ্যোগ নেওয়া হয় তাহলে হয়তো আমরা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা দেখতে পারব।” সেখানে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায় তারা মূলত পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি এখানে এসে অফিসে নিয়মিত বই পড়ে। তারা আরও বলেন, বর্তমান সভাপতি আমাদেরকে প্রায় পড়াশোনা করার প্রতি উৎসাহ জাগান। পড়ার পর প্রতিটি বই থেকে পরীক্ষা নেন এবং পুরস্কারের ব্যবস্থা করেন। তাছাড়াও তিনি আমাদের রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার জন্য পরামর্শ দেন। আমরাও চাই, প্রতিটি ইউনিটে এমন উদ্যোগমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করা হোক। এ প্রসঙ্গে সভাপতি আরও বলেন, “বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে আমাদের সদা-সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে এবং প্রতিটি কাজে আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা চাই, আওয়ামী-লীগ যেন নিজে উদ্যোগ নিয়ে প্রতিটি ইউনিটে এমনভাবে সৃজনশীলমূলক কর্মকাÐে বঙ্গবন্ধু-লাইব্রেরী গড়ে তোলেন।”