যুবলীগ পরিচয়ে বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুর চালিয়ে জমি দখলের অভিযোগ!আহত-৩

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর(গাজীপুর) থেকেঃ–গাজীপুরে শ্রীপুর পৌর এলাকার বৈরাগীর চালা গ্রামে বসতবাড়ি ভাঙচুর ও হামলা চালিয়ে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এসময় জমি দখলে বাঁধা দেয়ায় তিন জনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে।

এ ঘটনায় শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) শ্রীপুর থানায় মামলা নং-৬৪/২০ দায়ের করা হয়েছে। এর আগে, শুক্রবার বিকেলে হামলাকারী একই এলাকার আউয়াল খানের ছেলে তৌহিদুজ্জামান বাছেদ খান, নাসির খান ও পারভেজ খানকে অভিযুক্ত করে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, শুক্রবার সকালে (১৮ সেপটেম্বর) পৌর এলাকার বৈরাগীচালা গ্রামের রাসেলের স্ত্রী গৃহবধূ ছালমা আক্তারের বাড়ির বারান্দার প্রাচীর ভেঙে বাড়ি দখল নেয়ার চেষ্টা করে।এসময় জমি দখলে বাঁধা দেয়ায় গৃহবধূর ভাসুর হাবিবুর রহমান খান, তাঁর স্ত্রী পিয়ারা বেগম ও মেয়ে ইয়াছমিনকে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে নীলাফুলা জখম ও হাত পা ভেঙ্গে আহত করে। পরে স্থানীয় লোক ও পুলিশের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে প্রথমে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রের্ফাড করেন।

মামলার বাদী গৃহবধূ ছালমা আক্তার বলেন, স্বামী রাসেল মিয়া আমাকে রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করে অন্য বাড়িতে বসবাস করে। আমি আমার দু সন্তান নিয়ে এই বাড়িতে বসবাস করি। আমার স্বামী রাসেল মিয়া ২টি দলিল মূলে আমি ও আমার দু সন্তানের নামে জমি লিখে দেন। জমি লিখে দেয়ার পর থেকে আমাদের কে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য পৌর যুবলীগ নেতা বাছেদ খাঁন ষড়যন্ত্র শুরু করে। বৃহস্পতিবার রাতে দুই সন্তান নিয়ে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। ভোরে হঠাৎ করে বাড়ির বারান্দায় ওয়াল ভাংচুর করার শব্দ শুনতে পেয়ে উঠে পড়ি। পরে দেখতে পান বাছেদ খান লোকজন নিয়ে হামলা চালিয়েছে। তার কান্নার শব্দ শুনে তার ভাসুর হাবিবুর রহমান খান আসলে তাকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে ফেলে। পরে তার পরিবারে অন্য সদস্যরা বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে পুলিশকে খবর দিলে তাৎক্ষনিক পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

নিজের ক্রয়কৃত জমি দখলমুক্ত করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন জানিয়ে বাছেদ খান মুঠোফোনে বলেন, দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আমার উপর হামলা চালায় হাবিবুর রহমান ও তার লোকজন। এতে আমার হাত কেটে গেছে। আমি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আইনের মাধ্যমে ক্রয়কৃত জমি উদ্ধারের ব্যবস্থা কেনো গ্রহন করেননি –  এমন প্রশ্নের উত্তর  জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, হামলা ঘটনার বিষয়ে খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক পুলিশ পাঠিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তা মামলা আকারে গ্রহন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।