রাতে দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন টিপতে থাকা স্বামীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় স্ত্রীর। যা নিয়ে মনোমালিন্য হলে ঘর থেকে বের হয়ে যায় স্বামী। পরে গভীর রাতের নীরবতা ভেঙে ঘরে চিৎকার করে উঠলেন আঞ্জুমান আরা। পাশের ঘর থেকে ছুটে এলেন শশুর । চোখের সামনে দেখলেন, ঘরের আঁড়ায় ঝুলছে সিফাত ইসলামের নিথর দেহ। ঘটনাটি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের পাইটালবাড়ি গ্রামে সোমবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে। নিহত সিফাত ইসলাম (২৫) ওই গ্রামের বাদল মিয়ার ছেলে।
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভোরের দিকে নিহতের লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।
সিফাত কিছুদিন আগে শ্রীপুরের ঢাকা গার্মেন্টসে পোশাক কারখানার চাকরি ছেড়ে বাড়িতেই থাকছিলেন। দুই বছর আগে তিনি খালাতো বোন আঞ্জুমান আরাকে বিয়ে করেন। দম্পতির কোলজুড়ে এক বছরের একটি শিশু রয়েছে।
পরিবার সূত্র জানায়, রাতের খাবার শেষে সবাই ঘুমিয়ে পড়ে। মাঝরাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মোবাইল ফোন নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। পরে
আঞ্জুমান আরা ঘুমিয়ে পড়লেও হঠাৎ ঘুম ভেঙে স্বামীকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। খুঁজতে বের হয়ে গোয়াল ঘরের পাশে উন্মুক্ত একটি কক্ষে আঁড়ায় ঝুলতে দেখেন সিফাতের দেহ। তিনি চিৎকার দিলে পরিবারের লোকজন এগিয়ে এসে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। তবে সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাখাওয়াত হোসেন বলেন,‘‘ আমরা খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছি। পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই। ঘটনাটি আত্মহত্যা বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ও উর্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’’
Leave a Reply