মুজিববর্ষ হোক দেশ ও জাতির কল্যানেঃ প্রবাসী ছাত্রলীগ নেতা রাকিব

বাঙ্গালী জাতির জনক, বাংলার সূর্য সন্তান, স্বাধীন বাংলার স্থপতি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ই মার্চগোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন । তার বাবা শেখ লুৎফর রহমান এবং মা সায়েরা খাতুন ।

এই বছর ২০২০ সালের ১৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ১০০তম জন্মদিন । ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত এই ১বছরেরনাম দেওয়া হয়েছে মুজিববর্ষ।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে সরকার হাতে নিয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচী । মুজিববর্ষ পালনে বাজেট রাখা হয়েছে ১০০  কোটি টাকা । মুজিববর্ষপালনে বাংলার মাটিতে আমন্ত্রন জানানো হচ্ছে বিভিন্ন রাষ্ট্রের রাষ্ট্র প্রধান সহ   অসংখ্য গুনীজনদের ।

“তুমি জন্মেছ বলে জন্মেছিলো এই দেশ –

মুজিব তোমার আরেক নাম সোনার বাংলাদেশ”

“যতদিন রবে পদ্মা, মেঘনা, গৌরি, যমুনা বহমান – ততদিন রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান”

ঘৃণা ঘৃণা ঘৃণা সেইসব ঘাতক, দালাল, নরপশু, দেশদ্রোহীদের প্রতি যারা সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নদ্রষ্টা’কে হত্যা করেছে ৷

★★★★ মুজিববর্ষ কেমন হওয়া উচিত ??????

আমার মতে, মুজিববর্ষ এবং শেখ হাসিনা সরকারের ভিশন ২০২১ একই সূত্রে গাঁথা । ভিশন ২০২১ এর মূল এজেন্ডা গুলো হচ্ছেবাংলাদেশ কে ডিজিটাল বাংলাদেশে রুপান্তর করা, দেশকে অর্থনীতিতে সমৃদ্ধশালী করা, দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুত পৌঁছেদেওয়া, দেশের জনগনের মৌলিক চাহিদাগুলো সুনিশ্চিত করা, বাঙ্গালী জাতিকে সুশিক্ষিত করতে & প্রতিটি নাগরিকদেরসুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষার মান বাড়ানো, বেকারত্বের হার কমানো সহ অনেক অনেক মহৎ উদ্দ্যোগ ।

এই মুজিববর্ষ শেষ হবে ২০২১ সালেই । অতএব ২০২১ সালে দেশের সাধারণ জনগন & বিশেষজ্ঞরা ঠিকই প্রশ্ন তুলবেন যে, ভিশন ২০২১ এর মিশন কতটুকু সফল ???

হ্যাঁ আমি বলছি ৫০% সফল ।

জনগনের অবশ্যই প্রশ্ন থাকবে বাকি ৫০% এর তাহলে কি হবে ???

বাকি ৫০% লুটেরা’রা লুটেপুটে খেয়ে ফেলেছে ।

দেশে আজ দৃশ্যমান উন্নয়ন অনেক কিছুতেই ।

অনেক অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েও বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই সফল দ্যা মাদার অব হিউম্যানিটি খ্যাত, দেশরত্ন শেখ হাসিনা ।কিন্তু কিছু এমপি, মন্ত্রী, নেতা, আমলা & শিল্পপতিদের লুটপাটের কারণে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ভিশন ২০২১ পুরোপুরি সফলহওয়ার দ্বারপ্রান্তে গিয়েও সফল হতে পারছেনা ।

আমি বিগত বছরগুলোতে দেখেছি, সমসাময়িক সময়েও দেখছি সরকার যখনই কোন অন্যায় অপকর্মের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লাগেআর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে সফলতা অর্জন করে অন্যায়কারী – অপকর্মকারীদের গ্রেপ্তার করতে ঠিক তখনই বেশীরভাগনেতা, এমপি, মন্ত্রীরা সংবাদ সম্মেলনে & দলীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় বলেন যে, শেখ হাসিনার নির্দেশে অমুক তমুকগ্রেপ্তার, অমুক তমুক জায়গায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ।

আমার প্রশ্ন হচ্ছে সব জায়গায় সবকিছু যদি দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে করতে হয় / দেখতে হয় তবে আপনারা কেন রাষ্ট্রীয় কোষাগারথেকে এত টাকা প্রতি মাসে নিয়ে খাচ্ছেন ???

কেন সরকার & জনগন আপনাদের মতো লোকদের সংসদ সদস্য বানিয়েছে ???? কেন সরকার আপনাদের মতো দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যক্তিদের মন্ত্রী পরিষদে জায়গা করে দিয়েছে ??? কেন আপনাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদেরদায়িত্ব ??? দিতে পারবেন কেউ এই প্রশ্ন গুলোর উত্তর ???

জানি পারবেন না কারণ হাতেগোনা ২০-৩০ জন এমপি, ৭-৮ জন মন্ত্রী, অল্প কিছু আমলা আর অল্প কিছু নেতারা ছাড়া বাকিসবাই আছে যার যার আখের গোছানো নিয়ে ব্যস্ত ।

 

লজ্জা লজ্জা লজ্জা লজ্জা লজ্জা লজ্জা লজ্জা লজ্জা লজ্জা লজ্জা লজ্জা সত্যিই লজ্জা হয় যখন দেখি সেই আপনারা মিড়িয়ারসামনে বসে মুখে নীতিকথার খৈ ফুটান । দুঃখজনক হলেও সত্য যে, জনগন আপনাদের কথা শুনে লজ্জা পায় কিন্তু আপনারাবিন্দুমাত্র ও লজ্জা পান না কারণ লজ্জা নামক শব্দটা আপনাদের ডিকশনারি থেকে হারিয়ে গেছে ।

কথায় আছে, “দশে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ”

তবে আপনারা কেন বলেন সবকিছু দেশরত্ন শেখ হাসিনা করে ??? উনার মান ১ । বাকি ৩-৪‰ আছেন যারা ভালো কাজকরছেন যার যার অবস্থান থেকে তাহলে সেটার মান দাঁড়ায় ৩-৪ ।  কথা হচ্ছে বাকি ৬ এর কি খবর ???  আপনারা কি সমুদ্রেরঢেউ গুনছেন নাকি আকাশের তাঁরা গুনছেন ???

বাকি ৬ এর কারণেই আর দশে মিলে কাজ করা হচ্ছেনা তাই ভিশন ২০২১ ও সম্পূর্ণতা পাচ্ছেনা । সমীকরন খুবই সহজ ।

উন্নয়ন দেশে প্রচুর হচ্ছে এতে কোনপ্রকার সন্দেহ নেই মানুষের তবে মানুষ চায় উন্নয়নের পাশাপাশি,

★সবার জীবনের নিরাপত্তা

★সবার মৌলিক চাহিদার সঠিক মান উন্নয়ন

★মাদকমুক্ত সমাজ, মাদক ব্যাবসায়ীদের গ্রেপ্তার করা

★দুর্নীতি & শোষণ নিপীড়ন মুক্ত সমাজ ব্যবস্থা

★মানুষের গচ্ছিত আমানত ব্যাংকের টাকার নিরাপত্তা

★ব্যাংক ডাকাতদের, লুটেরাদের গ্রেপ্তার করা

★শেয়ার বাজারের টাকা লুটেরাদের গ্রেপ্তার করা

★ধর্ষনকারীর শাস্তি ফাঁসির রায়

★প্রশাসনের ভিতর শুদ্ধি অভিযান কারন প্রশাসনের লোকেরাই বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত    ★আয়কর অফিস গুলোতে শুদ্ধিঅভিযান

★খাদ্যে ভেজাল মিশ্রণকারীদের কঠিন শাস্তির বিধান রেখে আইন করা

★রেল খাতের দুর্নীতিবাজদের গ্রেপ্তার করা

★সড়ক পরিবহন সেক্টরের চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার করা

★বন্দরের চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার করা

★সরকারি প্রতিটি সেক্টরে যারা বিভিন্ন মালামাল ক্রয়ের নামে হরিলুট চালাচ্ছে তাদের গ্রেপ্তার করা

★সরকারি প্রতিটি অফিস CCTV ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা যাতে করে সব কর্মকর্তা কর্মচারী অফিসে বসে জনগনকেসঠিক সার্ভিস দিতে পারে

★তথ্য প্রযুক্তি আইনের মাধ্যমে প্রিন্ট মিডিয়া & ইলেক্ট্রনিকস মিডিয়ায় ভুল সংবাদ প্রকাশ করলে কঠোর শাস্তির বিধান চালুকরা

★পাপিয়ার মতো হাজারো পাপিয়া দেশের আনাচে-কানাচে ভরে আছে তাদের খুঁজে বের করা

★পাপিয়ার খদ্দেরদের সকল প্রকার পদ পদবী থেকে বহিষ্কার করে জেল হাজতে প্রেরণ সহ কঠিন শাস্তি দেওয়া

★শুধু খালেদ, জিসান, শামীম, সম্রাট নয় প্রতিটি জেলা উপজেলার ক্যাসিনো সম্রাটদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা

★কথিত মাদক বিরোধী অভিযান নয়, সত্যিকারের মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে পুরো জাতিকে মাদকের বিষাক্তছোবল থেকে রক্ষা করা

★সব ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের আয়করের হিসাব সঠিকভাবে নেওয়া

★ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের উপর থেকে নেতা & আমলাদের কমিশন বাণিজ্য বন্ধ করা

★পরীক্ষার সময় প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ করা

★সকল চাকুরির পরীক্ষায় অনিয়ম বন্ধ করা, তদবির বন্ধ করা, ঘুষের আদান-প্রদান বন্ধ করা

★সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দেওয়া

★দ্রব্যমূল্য স্থীতিশীল রাখার ব্যবস্থা করা

★ঔষধের গায়ে মূল্য নির্ধারন & ঔষধের মান উন্নয়ন সহ এমন আরো অনেক কিছু আছে যা এক কথায় বলতে গেলেমুজিববর্ষের শপথ এটাই হোক যে,

“মুজিববর্ষের অঙ্গিকার – দুর্নীতিবাজরা পাবেনা ছাড়”