মায়ের জন্য ভালোবাসা শুধু একটি দিনে কিংবা দিবসের জন্য নয় ; সকল মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা

নাজমিন সুলতানা তুলি: আজকাল আমরা বড্ড বেশি কৃত্রিম হয়ে গিয়েছি ।। মা কে ভালোবাসবো সারাটি বছর; খেয়াল রাখবো সব সময়। কোন অদৃশ্য এক মোহ কিংবা সংস্কৃতি আমাদের গ্রাস করছে। হয়তো এখন বুঝছি না।। কিন্তু এর ভয়াবহতা টের পাবো কয়েক বছর পর। অকৃত্রিম সম্পর্কে র কদর ভুলে যাচ্ছি আমরা ।। কিছু কিছু বিষয় পারিবারিক ভাবে শিক্ষা দেয়া উচিত ।

অনেকেই মনোক্ষুণ্ণ হবেন । কিন্তু আসলে গড্ডালিকায় গা ভাসানো জীবন বোধ কে ধ্বংস করে দেয়।। কিছু বিষয়ে আমরা নিজেদের গা ভাসিয়ে দেই যেমন : ভোজন রসিক খেতে হয়তো পছন্দ করছেন – তাই বলে আপনি আপনার সুস্বাদু কিংবা দামী খাবারের ছবি সামাজিক মাধ্যমে দিচ্ছেন কিংবা আপনার সামনেই আপনার সন্তান শেয়ার করছে।। এটা নিজের অজান্তেই সন্তানের মানবিকতা কে গুম করে ফেললেন।। খাবার আল্লাহর নেয়ামত আপনার রিজিকে দেয়ার মালিক আল্লাহ। খাবারের ছবি পোষ্ট না করে খাবার সকলের সাথে শেয়ারিং করে খেতে শিক্ষা দিন।। পোশাক; একান্ত পারিবারিক বিষয়ে ও সচেতন হতে হবে।। আমার আপনার বিলাসিতা অন্য জন কে যেন কষ্টের অনুভূতি না দেয় তা ভাবা উচিত ।। এ সকল প্রসঙ্গ টানার কারণ – আজকাল – “মা” দিবস, বাবা দিবস”; “ভাই দিবস;” “বোন দিবস; ভালোবাসা দিবস সহ ইত্যাদি দিবস এ খুব লোক দেখানো ভালোবাসা দেখাই ।। আসলে একজন বাঙ্গালী হিসেবে নিজের সংস্কৃতি কে ভুলবো কেন ! আজব মনে হয় ।। “মা” ; “বাবা ” “ভাই-বোন”; বন্ধু ; স্বামী -পুত্র ; কন্যা এসব একেক টি সম্পর্কে র নাম । প্রতিটি সম্পর্কে র সাথে রক্ত বা আত্নীক সম্পর্ক রয়েছে। রয়েছে দ্বায়িত্ব বোধ; কর্তব্য বোধ ।

এগুলো বজায় চললে আলাদা দিবসের প্রয়োজন হয় না ।। মা কে ভালোবাসুন; শ্রদ্ধা করুন ; এটা নৈতিকতা ।। মায়ের স্বাস্থ্য; সখ ; একটু ঘুরতে নেয়া; তাঁকে সমসাময়িক বিষয়ে সচেতন করুন; তাঁর কাছ থেকে ও অভিজ্ঞতা র বর্ণনা শুনুন । আপনার নিজের মধ্যে ভুল -ভ্রান্তি আছে কি না মায়ের কাছ থেকে জানুন ; বাবার কাছ থেকে জানুন । সারা পৃথিবীতে এই দুজন ই একান্ত এবং নিঃস্বার্থ ভাবে ভালোবাসে।। আর মা কে যদি আপনি সত্য ই ভালোবাসেন এবং শ্রদ্ধা করেন – তবে কোনো মা রাস্তায় ঘুরে সন্তান নিয়ে অসহায় জীবন যাপন করুক তা চাইবেন না।। সামর্থ্য অনুযায়ী একজন অসহায় মা কে ও একটু ভালোবাসা দিন। কতো পাগলী মা – অসহায় ; অবুঝ দশায় পরে আছে -তার প্রতি সদয় হোন । একটা অসহায়; ছিন্নমূল মানুষ কে অন্তত এক বেলা একটু খেতে দিন; একটি পুরাতন কিংবা নূতন পোশাক দিন; ধর্ষিতা ; এসিড দগ্ধ মা ‘য়ের পাশে দাঁড়ান ।। এই যে পবিত্র মাহে রমজান চলছে – কতো লোক অনাহারে দিন -রাত কাটাচ্ছে তা ভাবুন ।। কতো মা খাবারের অভাবে হয়তো শিশুকে তার উপবাস দিচ্ছে ।। মাতৃত্ব বোধ জাগ্রত করুন আপনা আপনি মায়ের প্রতি ভালোবাসা চলে আসবে; দিবসের জন্য অপেক্ষায় নয় মায়ের জন্য ভালোবাসা জাগ্রত করুন ।

আর অনুরোধ করবো – দেশে মহামারী আসতে চলেছে – আপনার ঘরে খাবার আছে; তাই খাবারের ছবি ছড়িয়ে দিবেন – তা দেখে আপনার চারপাশে অনেকে কষ্ট পাবে।। # #শাড়ি কিংবা জিলাপি’ র প্রতিযোগিতায় নয় মহান মুক্তিযুদ্ধের সাথে বর্তমান পরিস্থিতি কে তুলনা করা হচ্ছে – তখন মা – বোনেরা যেভাবে মুক্তিযোদ্ধা দের সাহস এবং উৎসাহ দিতো সেভাবেই মানবিক গুণ প্রকাশ করুন ।। যাতে বাংলা র ‘মা -বোন নিয়ে সারা বিশ্ব গর্ব বোধ করে।।