” মানবতা, মুক্তি, উন্নয়ন, শান্তি ও গণতন্ত্রের বিকাশ ঘটে তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে “

১৯৮১ সালের ১৭ মে  ও
২০০৭ সালের ৭ মে
বঙ্গবন্ধু কন্যা  জননেত্রী  শেখ  হাসিনার
স্বদেশ  প্রত্যাবর্তন
বাংলাদেশের  জন্য  এক
 কথায়  মহান  সৃষ্টিকর্তার  আর্শীবাদ ।
বাংলাদেশের  গণতন্ত্র,  উন্নয়ন, শান্তি,
আইনের  শাসন, অসাম্প্রদায়িক  চেতনাবোধ,
 মহান  মুক্তিযুদ্ধের  বাংলাদেশ  সবকিছুই
মহান  নেত্রী  দেশরত্ন  শেখ  হাসিনার
স্বদেশ  প্রত্যাবর্তনের  সঙ্গে  সম্পর্কিত ।
১৯৮১  সালের  ১৭ মে  স্বৈরশাসক  খুনি  জিয়ার রক্তচক্ষু  উপেক্ষা  দীর্ঘ ৬  বছরের  নির্বাসিত
 জীবনের  পরিসমাপ্তি  ঘটিয়ে  পাহাড়সম
 দু:খ  বেদনা  নিয়ে  প্রিয়  মাতৃভূমিতে  ফিরে এসেছিলেন ।
পিতা-মাতা  ভাইসহ  পরিবারের  সবাইকে  হারিয়ে বাঙালি  জাতিকে  আপন  করে  তিনি  সেইদিন  চোখের  জল  মুছে  শোককে  শক্তিতে  পরিণত  করেন।  দীর্ঘ  দিনের  অনিয়ম  দুর্নীতি,  স্বজনপ্রীতি, সাম্প্রদায়িকতার  ছোবল  থেকে  দেশকে  মুক্ত  করতে তাঁকে  বন্ধুর  পথ  পাড়ি  দিতে  হয়েছিল  এবং বাংলাদেশের  মানুষ  বঙ্গবন্ধু  কন্যা  শেখ  হাসিনার প্রতি  আস্হা  বিশ্বাস  ভরসা  রেখে  স্বাধীনতার  প্রতীক নৌকা  মার্কায়  ভোট  দিয়ে  আওয়ামী  লীগকে  দেশ পরিচালনা  করার  দায়িত্ব  দেন ।
  আওয়ামী  লীগ  সরকারও  জনগণের  ইচ্ছার প্রতিফলন  ঘটান,  সেই  কারণেই  আওয়ামী  লীগের ১৯৯৬  থেকে  ২০০১  পর্যন্ত  সরকারের
মেয়াদকালকে  বলা  হয়  স্বর্ণের  যুগ ।
২০০১  সালের  নির্বাচনে  দেশীয়  ও  আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের  মধ্য  দিয়ে  আওয়ামী  লীগকে  হটিয়ে ক্ষমতায়  অধিষ্ঠিত  হয়  স্বাধীনতা  বিরোধী  চরম  শত্রু বিএনপি  জামাত ।
তারা  ক্ষমতায়  এসেই  দেশকে  নরকে
 পরিণত  করেন ।  অসাম্প্রদায়িক  বাংলাদেশ  পরিণত হয়  সাম্প্রদায়িক  দেশের  উদাহরণ  হিসেব ।
 শীর্ষস্হানীয়  যুদ্ধাপরাধীদের  রাখা  হয়  মন্ত্রী  সভায় । তারা  লাখো  লাখো  শহীদের  রক্তে  রঞ্জিত  পতাকা গাড়িতে  উড়িয়ে  মহান  জাতীয়  সংসদে  যায়  এবং পিতা  মুজিবের  সোনার  বাংলাদেশকে  তৈরি  করে দক্ষিণ  এশিয়ার  সন্ত্রাসী  জনপথ হিসেবে ।
জঙ্গিবাদ,  মৌলবাদের  মধ্য  দিয়ে  বাংলাদেশের হাজার  বছরের  সংস্কৃতির  পরিপন্থী  দেশ  তৈরি  করতে  অপচেষ্টা  চালায়  অর্থাৎ মহান  মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের  পরিপন্থী  রাষ্ট্র  তৈরি  করতে  যা  যা  কিছু প্রয়োজন  তার  সবটুকুই  চেষ্টা  করে  তৎকালীন বিএনপি  জামাত  সরকার ।
বিএনপি  জামাত  ক্ষমতাকে  ভোগের  বস্তুতে  পরিণত করে  দেশকে  দুর্নীতিতে  চ্যাম্পিয়ন  করে ।
 দেশে-বিদেশে  বাংলাদেশের  সেই  সময়কার  চিত্র আজও  বাংলাদেশকে  খুঁড়িয়ে  খুঁড়িয়ে  খাচ্ছে ।
স্বাধীনতাবিরোধীচক্র  বিএনপি  জামাতের  অনিয়ম, দুর্নীতি,  দুরশাসন  ও  সন্ত্রাসী  কার্যকলাপের  বিরুদ্ধে তৎকালীন  বিরোধী  দলীয়  নেত্রী,
বাংলাদেশ  আওয়ামী  লীগ  সভাপতি  বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ  হাসিনার  নেতৃত্বে  আওয়ামী  লীগের  আন্দোলনে বাংলাদেশের  আপামর  সাধারণ  জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে  অংশগ্রহণ  করে  স্বাধীনতা বিরোধীচক্র  বিএনপি  জামাত  সরকারকে  বিদায় জানায় ।
সেই  সময়কার  অসহযোগ  আন্দোলনের  কারণে বিএনপি  জামাত  দিকপাল  হারিয়ে  তাদের  পছন্দের ইয়াজ  উদ্দিন, ফখরুদ্দিন, মইনুদ্দিনের  হাতে  গোপন ষড়যন্ত্রের  অংশ  হিসেবে  ক্ষমতা  হস্তান্তর  করে  এবং ফখরুদ্দিন, মইনুদ্দিন  গণতন্ত্রের  মানস  কন্যা  শেখ হাসিনাকে  বিনা  কারণে  গ্রেফতার  করে  সাবজেলে রেখে  হত্যার  পরিকল্পনা  করে ।
গণতন্ত্রের  পায়ে  বেড়ি  পরিয়ে  সেনাবাহিনীর ছায়াতলের  কেয়ারটেকার  সরকার,  একের  পর  এক অভাগকান্ড  ঘটান ।
শেষমেশ  ক্ষমতায়  থাকার  লিপ্সা  তাদের  মাথায় ঘোরপাক  খেতে  থাকে  এবং  ক্ষমতাকে  পাকাপোক্ত করার  মোক্ষম  সময়  হিসেবে  বেঁচে  নেয়,  যখন বঙ্গবন্ধু  কন্যা  শেখ  হাসিনা  যুক্তরাষ্ট্রে  চিকিৎসাধীন ছিলেন ।
এর পূর্বে  বলা  আবশ্যক  দেশীয় ও  আন্তর্জাতিক চাপের  কারণে  শেখ  হাসিনাকে  খাবারের  সাথে  পয়েজন  মিশিয়ে  হত্যার  পরিকল্পনা  যখন  ভেস্তে  যায় ও  দেশের  এবং  প্রবাসের  বাঙালিদের  চাপের  মুখে তৎকালীন  কেয়ারটেকার  সরকার  বাধ্য  হয়  গণতন্ত্রের  মানসকন্যা  শেখ  হাসিনাকে  উন্নত চিকিৎসার  জন্য  যুক্তরাষ্ট্রে  পাঠাতে ।
হয়তো  তৎকালীন  কেয়ারটেকার  সরকার  ভেবেছিল ভয়  ভীতি  ও  বিভিন্ন  চাপ  প্রয়োগ  করলে  শেখ হাসিনা  আর  দেশে  ফিরে  আসবেন  না ।
সেই  ফাঁকে  কেয়ারটেকার  সরকার  যেনোতেনভাবে দল  গঠন  করে  খুনি  জিয়াউর  রহমানের  স্টাইলে ক্ষমতায়  থেকে  যাওয়ার  লিপ্সা  পূরণ  হবে ।  তার লক্ষণও  দেখা  গিয়েছিল  দেশের  সুশীল  নামের জ্ঞানপাপীদের  অপতৎপরতার  মধ্য  দিয়ে ।
 বিশেষ  করে  নোবেলজয়ী  ড. ইউনূস  ছিলেন ক্ষমতায়  যাওয়ার  লিপ্সায়  শীর্ষে ।
 রাজনীতিকে  কলুষিত  করতে  বিনা  কারণে  অকারণে  রাজনৈতিক  নেতাকর্মীদেরকে  কারাবন্দী করে  রেখেছিল  ফখরুদ্দিন  মইনুদ্দিন  সরকার ।
বাংলাদেশের  মানুষ  এই  বিভীকাষিকাময়  পরিস্হিতি থেকে  মুক্তি  পেতে  জননেত্রী  শেখ  হাসিনার নি:শর্ত মুক্তি  কামনা  করতে  থাকে ।
আর  বঙ্গবন্ধু  কন্যা  হাসিনা  বুঝতে  পেরেছিলেন চিকিৎসা  শেষ  এখন  আমাকে  দেশে  ফিরতে  হবে।  তাইতো  তিনি  জীবনের  ঝুঁকি  নিয়ে  পরিবারের  কথা চিন্তা  না  করে  শুধুমাত্র  বাংলাদেশের  মানুষের  কথা ভেবে, সেনাবাহিনীর  ছায়াতলের  কেয়ারটেকার সরকারের  হাত  থেকে  গণতন্ত্র  ও  দেশের  মানুষের ভোটারাধিকার  নিশ্চিত  করতে  ২০০৭ সালের  ৭ মে তিনি  স্বদেশ  প্রত্যাবর্তন  করেন ।
তিনি  ফিরে  এসেছিলেন  বলেই  বাংলাদেশ  আজ মধ্যম  আয়ের  দেশ । দেশের  মানুষের  মাথাপিছু  আয় দুই  হাজার  মার্কিন  ডলারের  উপরে ।
আইনের  শাসন, ও বৈষম্যহীন  সমাজ  তৈরিতে অনেকাংশেই  বাংলাদেশ  এখন
  অনেক  এগিয়ে  আছে ।
মানবিক  ও  মানবতার  উৎকৃষ্ট  উদাহরণ  এখন বাংলাদেশ ।
বিনামূল্যে  ত্রিশ  কোটির  অধিক  বই  পহেলা  জানুয়ারি  বই  উৎসব  করে  শিক্ষার্থীদের  হাতে  পৌঁছে দেওয়া ,
ভূমিহীন  ও  গৃহহীনদের  জমি,  ঘর  বরাদ্দ
পৃথিবীর  কোনো  দেশে  আছে  বলে  আমার  জানা নাই।
বঙ্গবন্ধু  স্যাটেলাইট-১ আকাশে  প্রেরণের  মধ্য  দিয়ে লাল  সবুজের  পতাকা   আকাশ  সীমা  জয়  করতে সক্ষম  হয়েছে ।
মিয়ানমার  ও  ভারতের  সঙ্গে  সমুদ্র  সীমা  জয় । বহি:শত্রুর  হাত  থেকে  দেশকে  রক্ষা  করতে সাবমেরিন  ক্রয়, বিজ্ঞানমনস্ক  আধুনিক  তথ্য  প্রযুক্তির  উন্নতসমৃদ্ধির  ডিজিটাল  বাংলাদেশ ।
২১০০ সালের  ব-দ্বীপ  ডেল্টাপ্ল্যান  পরিকল্পনা অনুসারে   সরকার  কাজ  করে  যাচ্ছে ।
মানবতার  দিশারী  মুক্তিপাগল  মানুষের  একমাত্র ঠিকানা  দেশরত্ন  শেখ  হাসিনা ।
তিনি  সারা  বিশ্বের  সততা  ও  আদর্শের  উৎকৃষ্ট উদাহরণ ।  তিনি  সারা  বিশ্বের  সেরা  রাষ্ট্রনায়ক,
তিনি  বিশ্বের  সেরা  প্রধানমন্ত্রী । তিনি  ক্যারিশমেটিক লিডার ।  তিনি  বঙ্গবন্ধু  কন্যা  শেখ  হাসিনা ।
 তাঁর  দু’টি  স্বদেশ  প্রত্যাবর্তন   বাংলাদেশের  মানুষের  জন্য  তথা  সমগ্র  মানুষের  জন্য
 অত্যন্ত  গুরুত্বপূর্ণ  বটে ।
 সততা, আদর্শ, উন্নয়ন, মানবিকতা, শান্তি ও গণতন্ত্র এবং  নেতৃত্বের  বিকাশ  ঘটে  জননেত্রী  শেখ  হাসিনার স্বদেশ  প্রত্যাবর্তনের  মধ্য  দিয়ে।