ময়মনসিংহ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে ঘুষ ও অনিয়মে একের পর এক অভিযোগ ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন উপ-সহকারী পরিচালক (এডি) মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের দাবি, দালালচক্র ও ঘুষ বাণিজ্য মাধ্যমে চলা এই পাসপোর্ট অফিস দুদকের পাশের ভবনেই পরিচালিত হলেও কর্তৃপক্ষের নীরবতায় হতবাক সাধারণ মানুষ।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) ময়মনসিংহ অঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেবাপ্রত্যাশীদের ভোগান্তি যেন দিন দিন বেড়েই চলছে, এমনই অভিযোগ জানিয়েছেন একাধিক ভুক্তভোগী। তাঁদের দাবি, অফিসের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি দালালচক্র এবং সেই প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন উপ-সহকারী পরিচালক (এডি) মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন। অভিযোগকারী ব্যক্তিদের ভাষ্য, নির্ধারিত নিয়মে আবেদন জমা দিলেও নানান অজুহাতে ফাইল আটকে রাখা হয়; আর দালালের মাধ্যমে “বিশেষ চিহ্ন” না পেলে কোনো কার্যক্রম এগোয় না।
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, এই চক্রের মাধ্যমে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য অঙ্কের টাকা আদায় হয় এবং এসব অর্থ দালালদের হাত ঘুরে নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে যায়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট এডি, মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন। তিনি বলেন,সব অভিযোগ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর।
তবে ভুক্তভোগীরা জানাচ্ছেন ভিন্ন কথা। তাঁদের অভিযোগ, অফিসের অভ্যন্তরে এমন পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যাতে দালাল ছাড়া কারও সেবা পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিয়মমাফিক আবেদন করতে এলে বিভিন্ন কাগজপত্রে খুঁত দেখিয়ে হয়রানি করা হয়, আর দালালের মাধ্যমে ঘুষ প্রদান করলে ফাইল দ্রুত অগ্রসর হয়।
এমন গুরুতর অভিযোগের পরও দুদকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন নাগরিকরা। কারণ, দুর্নীতি দমন কমিশনের আঞ্চলিক কার্যালয়টি পাসপোর্ট অফিসের পাশেই অবস্থিত। তবুও অভিযোগ উঠেছে, দৃশ্যমান কোনো কঠোর তদন্ত বা ব্যবস্থা এখনো নেওয়া হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, অভিযোগগুলো সত্য হলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁরা দ্রুত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, পাসপোর্ট অফিসের কিছু কর্মচারীকেও এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ততার কথা বলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, রেকর্ড কিপার দেবাশীষসহ কয়েকজন কর্মকর্তা দালালচক্রকে সহায়তা করেন, যার মাধ্যমে পুরো কার্যক্রমটি দীর্ঘদিন ধরে টিকে আছে।
সচেতন মহলের প্রশ্ন, দুদকের নাকের ডগায় এত অভিযোগ জমা হচ্ছে, অথচ দৃশ্যমান পদক্ষেপ কোথায়? তাঁদের দাবি, যথাযথ তদন্ত ছাড়া এসব অভিযোগ নিরসন সম্ভব নয়। আর অভিযোগ সত্যি হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির মাধ্যমেই সেবাখাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
Leave a Reply