ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দেয়া কোনো শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হবে না : শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছেন, ‘ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দেয়া কোনো পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার সেসব খাতা শনাক্ত করে আলাদা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেসব খাতা বিশেষভাবে মূল্যায়ন করা হবে।’

বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান শিক্ষমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, সোমবার শুরু হওয়া এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ভুল প্রবেশপত্র সরবরাহের কারণে নীলফামারীর ডোমারে এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে।

বরিশালে শহরের হালিমা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জগদীশ সারস্বত বালিকা স্কুল ও কলেজের ২০ শিক্ষার্থীর নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষা নেয়া হয় পুরাতন সিলেবাসের প্রশ্নপত্রে।

ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়ার পর কুষ্টিয়ায় ১৮ শিক্ষার্থীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়।

লালমনিরহাটে বড়বাড়ী শহীদ আবুল কাশেম উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে এসএসসি বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষা ২০১৮ সালের পুরাতন প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এসব ঘটনার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘সারাদেশে ৫২ হাজার কক্ষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার আয়োজন করা হচ্ছে। তার মধ্যে ১৫টি কক্ষে ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। পরীক্ষার প্রথমদিন প্রশ্নপত্র বিতরণে এ ভুল হয়।’

এমন ভুল অমনোযোগী হওয়ার কারণে হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘কোনো শিক্ষকের অমনোযোগিতা ধরা পড়লে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দেয়া কোনো পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। সেসব খাতা আলাদা করে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করা হবে।’

এসময় সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন, গাইড বই থেকে হুবহু এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন করা হয়েছে।-

এমন অভিযোগের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘গাইডের অনেক প্রশ্ন কমন পড়তে পারে, তবে তা হুবহু মিলতে পারে না, তাই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধ শনাক্ত করার পর সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষাউপমন্ত্রী মাহিবুল হাসান চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মাহাবুব হাসান, কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব মুন্সি শাহাবুদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।