দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারের খুরুশকুল–ভারুয়াখালী সেতু নিয়ে আশা ছিলো দুই পাড়ের লক্ষাধিক মানুষের। সেতুটি হলে মাত্র নয় কিলোমিটার পথেই পৌঁছানো যাবে শহরে। কিন্তু কাজ শুরুর প্রায় চার বছর ৮ মাস পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি নির্মাণ কাজ । মেয়াদ বেড়েছে বারবার, কিন্তু কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। ফলে প্রতিদিনই ছোট খেয়া নৌকায় করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন স্থানীয়রা।
কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালী ও খুরুশকুল ইউনিয়নকে আলাদা করেছে জোয়ারি খাল। খালের ওপর সেতু না থাকায় ছোট খেয়া নৌকায়ই যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। অথচ শহর থেকে মাত্র নয় কিলোমিটার দূরের এ পথ ঘুরে যেতে হয় ৩৬ কিলোমিটার। তাই এখানকার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন একটি সেতু।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে একনেকে অনুমোদন পায় ৩৯২ মিটার দীর্ঘ ভারুয়াখালী–খুরুশকুল সেতু প্রকল্প। দুই দফা দরপত্র আহ্বানের পর ২০২১ সালের জানুয়ারিতে নির্মাণকাজ শুরু করে তমা কনস্ট্রাকশন ও এম এ জাহের লিমিটেড। চুক্তি অনুযায়ী ৩৬ কোটি ২৮ লাখ টাকায় ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিলো। তবে দুই দফা সময় বাড়িয়েও কাজের অগ্রগতি আশানুরূপ নয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মোঃ সুলেমান জানান, গ্রামে আসতে তাদের ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় বেশি লাগছে। দুই তিনবার গাড়ি বদল করে আসতে হয়। সেতু বাস্তবায়ন হলে তাদের ১৭ কিলোমিটার রাস্তা কমে যাবে।
তিনি বলেন, ‘সেতুটির কাজ পুরোপুরি শেষ হলে ভারুয়াখালীর ছেলেমেয়েরা জেলা শহরের স্কুল কলেজে সহজে পড়াশোনার সুযোগ পাবে। ভোগান্তি থেকে অনেকটা রেহাই পাবে অসুস্থরা।’
ভারুয়াখালীর সন্তান এবং দৈনিক সমকালের সম্পাদকীয় বিভাগের সহসম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, ‘এই সেতু সম্পন্ন হলে ভারুয়াখালী ও খুরুশকুলের মানুষ ছাড়াও খুরুশকুল, পিএমখালী, রামুর রশিদ নগরের মানুষ সরাসরি এই সেতুর উপকারভোগী হবে।
সেতুটি নির্মিত না হওয়ায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত লবণ, চিংড়ি, শাকসবজির ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত! এছাড়া শিক্ষার্থী, মুমূর্ষু রোগী যথাযথ সময়ে পৌঁছাতে পারে না। যাতায়াত অসুবিধার কারণে ডাকাতি, চুরি, অপরাধ প্রবণতা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।’
এলজিইডি বলছে, সেতুর ১৩টি স্প্যানের মধ্যে আটটি স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। তবে মূল খালের ওপর এখনো কাজ শুরু হয়নি। কাজের ধীরগতিতে হতাশ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও।
ভারুয়াখালী ইউনিয়ন সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান বলেন, ‘বছরের পর বছর তিন চারজন লোক দিয়ে কাজ করানো হয়। এতো বড় ব্রিজে পাঁচ ছয়জন দিয়ে কাজ করালে বাস্তবায়ন হবে কোনো দিন? ওনাকে দ্রুত কাজ করার জন্য তাগিদ দেয়া হোক অন্যথায় তাকে বাতিল করে নতুন করে ঠিকাদার দেয়া হোক।’
প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেতুর একাংশে কাজ করছে মাত্র চারজন শ্রমিক। নির্মাণের ধীরগতির বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আনিসুর রহমান কথা বলতে রাজি হননি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও কুমিল্লা পাঁচ আসনের সাবেক এমপি এম এ জাহের আত্মগোপনে যাওয়ার পর থেকেই প্রকল্পে স্থবিরতা নেমে এসেছে। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জমি অধিগ্রহণের জটিলতাও।
কক্সবাজার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন খান বলেন, ‘ঠিকাদারের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। উনি পর্যাপ্ত লোকবল নিয়োগ করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। শিগগিরই সেতুতে বসানো হবে নবম স্প্যান। আশা করছি আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যেই নির্মাণ কাজ শেষ হবে। ’
Leave a Reply