“ভাত দে আর নয়, মানচিত্র খাবো ” -কবির উক্তি যেন আজ বাস্তব

নাজমিন সুলতানা তুলিঃ করোনা মহামারী কে কেন্দ্র করে এবং পবিত্র মাহে রমজানের কারণে ঢাকায় প্রবেশ করেছে হাজারো ভাসমান ভিক্ষুক । এদের নেই মাথা গোঁজার ঠাঁই । এরা করোনার ভয়াবহতা সম্পর্কে ও জানে না । সকল গণপরিবহন বন্ধ থাকা সত্ত্বেও এরা কিভাবে ঢাকায় প্রবেশ করেছে -জানতে চাইলে এদের বেশিরভাগ ই উত্তরে জানায় পায়ে হেঁটে । আমার মাথায় কাজ করে না জলপথ, স্থলপথ সব কিভাবে ঢিঙিয়ে এলো। আর এদের ধারণা ঢাকা মানেই ধনী -শিল্পপতী দের আবাস স্থল।। কিভাবে বুঝাই আমরাও শ্রমিক। আমরা ও ফ্ল্যাট ভাড়া, সার্ভিস চার্জ; বিদ্যুৎ বিল; গ্যাস বিল; গৃহকর্মীর মাইনে; বাচ্চার স্কুলে র খরচা, টিউশন ফি, আত্নীয় স্বজনদের পাশে দাঁড়াতে না পারার যন্ত্রণায় ভুগি ।আমরা হাত পেতে দাঁড়াতে পারি না।। কাঁদতে চাইলে ও কাঁদতে পারি না। এ হলো মধ্যবিত্ত।। যাই হোক সবচেয়ে জরুরি সবাই মিলে সুস্থ ভাবে বাঁচা। দৃশ্যপট : আজ সকাল; স্থান : খিলক্ষেত ফ্লাইওভার।। সকালে ঘরের প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসের জন্য এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কিছু কাজে বের হয়ে মাথা ঘুরে গেল।। প্রায় এক কিলোমিটার জায়গা হবে আনুমানিক -এতো ভিক্ষুক ।। খিলক্ষেত বটতলার পর থেকেই কিন্তু খিলক্ষেত ফুটওভার ব্রীজে উঠে রীতিমতো ভূত দেখছি মনে হলো – গায়ে গায়ে লেগে আছে সকল বয়সী ভিক্ষুক । প্রতিটা সিঁড়িতেও ।। আহারে এই দুস্থ মানুষ গুলো জানে না করোনা কি ! উল্টো তাদের অভিযোগ এরা কেউ ই নাকি কোথাও থেকে ত্রাণ বা সাহায্য পায় নি। অনেকের নাকি আবার ভোটার আইডি কার্ড ই নেই ।তবে কি এরা জনসংখ্যা র বাইরে । আমি এদের সাথে কথা বলছি দেখে অনেকেই সাবধান করলেন । আবার অনেক পথচারীর মন্তব্য এদের কে দিলেও এরা ভিক্ষা করবে; হাত পেতে নিবে।। দশ পনের জনের সাক্ষাৎকার নিলাম কিন্তু নিজেও রোজা রেখে এদের কষ্ট শুনতে পারতেছিলাম না।। আমার মাস্ক; চশমা কিংবা হ্যান্ড গ্লাভস ছুড়ে ফেলে এদের জন্য কোথাও থেকে অনেক রকম খাবার এনে দিতে মন চাইছিলো। নিজ কাজে হাঁটা ধরলাম।। আর পিছন ফিরে ফিরে এদের ক্ষুধাকাতুর চোখ গুলো দেখছিলাম – তবে কি এদের জন্য ই কবি বলেছিলো – ভাত দে আর নয় মানচিত্র খাবো।। এদের সুস্থতা এবং সকলের জন্য ই এদের কে খোলা স্থান থেকে দ্রুত সরিয়ে একমুঠো ভাতের নিশ্চয়তা দিতে হবে ।।