গাজীপুরের শ্রীপুরে দীর্ঘদিন ধরে একটি সাঁকো ভেঙ্গে দুর্ভোগে ভুগছিলেন কয়েক গ্রামের হাজারো মানুষ। দীর্ঘদিন ভোগান্তির পর অবশেষে নিজেরাই চাঁদা তুলে ও স্বেচ্ছা শ্রমে সেটি সংস্কার করে কাঠের সেতু নির্মাণ করেছেন গ্ৰামবাসী।
সোমবার (১৪ জুলাই) স্থানীয় লোকজন ও সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শ্রীপুর পৌরসভার পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড ও ৭ ওয়ার্ডের সংযোগ স্থল বংশিঘাটায় অবস্থিত। স্থানীয় সবাই সেতুটিকে বংশিঘাটা নামে চিনেন। বছরের পর বছর পৌরসভা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও নির্মাণের আশ্বাস ছাড়া কিছুই মেলেনি। সবশেষে পঞ্চাশ ফুট দৈর্ঘ্যের ১০ বছরের পুরনো সাঁকোটিকে সংস্কার শুরু হয় গত শুক্রবার। গ্ৰামের ৫০-৬০ জন মিলে দুইদিন ধরে শ্রম ও অর্থ দিয়ে শনিবার রাতে কাঠের সেতু নির্মাণ শেষ করেছেন।
স্থানীয় লোকজন জানান, এ অঞ্চলটিতে একাধিক শিল্প কারখানা রয়েছে। এই সাঁকোর দুই পাশেই ৫টি শিল্প কারখানা আছে । দৈনিক অন্তত কয়েক হাজার শ্রমিক ও সাধারণ লোকজন এটি ব্যবহার করেন। হঠাৎ দুই মাস আগে বাঁশ দিয়ে তৈরি সাঁকোটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ ভেঙে যায়। এতে চলাচলে ঝুঁকি ও দুর্ভোগ দেখা দেয়। এতদিন ধরে দুর্ভোগ হলেও গ্ৰামবাসীর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও তা সংস্কারে কেউ এগিয়ে আসেনি। এর পর স্থানীয়ভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী কাইয়ুম সরকার বলেন, পঁচা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি মাড়িয়ে কাজে যেতে হচ্ছিল হাজারো পথচারীদের । তাই তাঁরা নিজেরাই এটি সংস্কারের উদ্যোগ নেন। আমার কাছে কাঠ চাইলে আমি চেরাই কলের বিপুল পরিমাণ কাঠ দিয়েছি। এটা দিয়েই কাজ করছে।’
একই এলাকার বাসিন্দা আরাফাত বেপারী বলেন,সকাল-সন্ধ্যায় এলাকায় এক থেকে দেড় হাজার মানুষ সাঁকো দিয়ে চলাচল করেন। তাঁদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে গ্ৰামের লোকজন মানবিক শ্রমের মাধ্যমে সাঁকো সংস্কার করে মানবতার সেবা করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশ কর্মী খোরশেদ আলম বলেন,’ দীর্ঘদিন এমন দুর্ভোগের চিত্র পোহাতে হলে বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ হন। সকলের সহযোগিতা ও আন্তরিকতায় সেতুটি নির্মাণ করা হয়। রোববার সকাল থেকে শ্রমিক ও গ্ৰামবাসী সেটি ব্যবহার করছেন।তবে,সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষ আরও আগেই এটি নির্মানে এগিয়ে আসা উচিত ছিল বলে আমি মনে করি।’
এ বিষয়ে শ্রীপুর পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী শাহেদ আক্তার জানান,’ ইতোমধ্যেই বংশিঘাটায় স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ব্যয়বহুল সেতু হওয়ার কারণে সেখানে পৌর কর্তৃপক্ষ অর্থায়ন করতে পারবে না। মন্ত্রনালয়ে এ বিষয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।’
শ্রীপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার সজিব আহমেদ যায়যায়দিনকে বলেন,’ বিষয়টি অবগত হয়ে ওই স্থানে একটি সেতুর জন্য ইতোমধ্যেই প্রস্তাব হয়েছে। আশা করছি এ বছরের মধ্যে ব্যবস্থা হবে।’
Leave a Reply