একদিকে নদীর গর্জন, অন্যদিকে আশার আলো। ব্রহ্মপুত্রের দানবীয় ভাঙনে যখন একের পর এক বাড়িঘর বিলীন হয়ে যাচ্ছে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার চরগোয়ালিনী ইউনিয়নে, তখন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সুলতান মাহমুদ বাবু।
ডিগ্রীরচর নতুন পাড়া ও লক্ষীপুর গ্রামের অন্তত ১৫টি বাড়ি এবং ৫০ বিঘার বেশি আবাদি জমি ইতোমধ্যেই নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে শত শত পরিবার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সরকারি অবকাঠামো।
এমন পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাড়িয়ে প্রকাশ করেন সহমর্মিতা, দেন সাহস। এসময় এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন—“আমি শুধু রাজনীতি করি না, মানুষের পাশে থাকি। এই দুর্যোগে যে যেভাবে পারেন, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ান। আমি ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে সব ধরনের সহায়তা চালিয়ে যাব ইনশাল্লাহ।
সাবেক এই সংসদ সদস্য আরও বলেন—“স্থায়ী বাঁধ ছাড়া এই ভাঙন থামবে না। আমি অতীতেও এই বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে তুলেছি। আবারও তুলে ধরব। এটা এখন শুধু নদীভাঙন নয়, মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে তারা শুধু প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন, বাস্তবায়ন হয়নি কোনো কার্যকর উদ্যোগ। ক্ষুব্ধ কণ্ঠে একজন বাসিন্দা বলেন—“ভাঙন আমাদের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। একমাত্র বাবু সাহেবই সরাসরি পাশে দাঁড়িয়েছেন। এখন শুধু তার কথা নয়, কাজ দরকার।”
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির মহিলা দলের নেত্রী নাহিদা সাফিজ বিন্তি, উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি আ: হাকিম, প্রচার সম্পাদক রসুল মাহমুদ, সম্মানিত সদস্য সামিউল হক লাভলু,কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আকবর, ইউনিয়ন বিএনপির নেতা শাহজামাল মেম্বারসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তৌহিদুর রহমান ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুজ্জান খানও ওই এলাকা পরিদর্শন করে জানান, জরুরি সহায়তা কার্যক্রম চলছে এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রস্তাব উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
ব্রহ্মপুত্রের এই ভয়াল ভাঙন যেন আর কোনো জীবনকে গিলে না ফেলে—এটাই এখন ইসলামপুরবাসীর একমাত্র চাওয়া।
Leave a Reply