ব্রাহ্মণবাড়িয়া উপজেলার পিআইও’র অফিস সহকারীর হাতে আলাদিনের চেরাগ!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:  নূর মোহাম্মদ সেলিম। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিসের কম্পিউটার অপারেটর কাম অফিস সহকারী। আর মাত্র কয়েক মাস পর যাবে অবসরে। কিন্তু চাকরি জীবনের ৩৬ বছরের মধ্যে ৩০ বছর কাটিয়েছেন নিজ জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেই। আর হয়েছেন বিপুল অর্থবিত্তের মালিক। সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের কাছাইট গ্রামের ছাদেকুর রহমানের ছেলে নূর মোহাম্মদ সেলিম। পিতা ছাদেকুর রহমান ছিলেন স্থানীয় বাজারের ছোট মুদিমালের ব্যবসায়ী। সেলিম ত্রাণ পুর্ণবাসন অধিদপ্তরে চাকরিতে ঢুকেন ১৯৮৪ সালের। প্রথম যোগদান করেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায়। সেখান থেকে ১৯৮৭ সালে খাগড়াছড়ি জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলায় আসেন। ১৯৮৯ সালে খাগড়াছড়ি জেলা থেকে বদলী হয়ে আসেন নিকটবর্তী জেলা কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে। ১৯৯২ সাল থেকে শুরু হয় নূর মোহাম্মদ সেলিমের সোনালী যুগ। ১৯৯২ সাল থেকে অদ্যাবধি নিজ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় তিনি কাজ করেছেন। সদর উপজেলায় তিনি ২০০৫ সাল থেকে ১৫বছর যাবত কর্মরত আছেন। এরই মাঝে সেলিম হাতে পেয়ে যান আলাদিনের চেরাগ। জেলার কান্দিপাড়ায় শহরের প্রধান সড়কের পাশে নির্মাণ করেছে ৫তলা আলিশান বাড়ি। অল্প জায়গায় এই বাড়ি নির্মাণ করেছে প্রায় কোটি টাকা ব্যয় করে। ব্যাংকে নিজের ও স্ত্রীর নামে রয়েছে অঢেল অর্থ। কিন্তু অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের পদে থেকে কিভাবে এত বিপুল অর্থ ব্যয় করে বাড়ি নির্মাণ করেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়ে। স্থানীয়রা জানায়, ১৫/২০বছর আগেও সেলিমের অর্থনৈতিক অবস্থা তেমন সচ্ছল ছিল না। মাঝে শুনেছি ধান-চাল বিক্রি করে তার ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। এসব ধান-চাল সরকারি নাকি তার ব্যক্তি মালিকানাধীন, তা আমরা জানি না। তিনি ফকিরি করেন। নিজেকে আবার পীর হিসেবে দাবি করেন। তার ভক্তরা তাকে হাদিয়া দেন বলে শুনা যায়৷ উনি হঠাৎ পীর কিভাবে হলেন, তাও বুঝতে পারছিনা। বিষয়ে জানতে নূর মোহাম্মদ সেলিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা ৭ভাই দুই বোন ছিলাম। চলেছি অনেক কষ্ট করে। চাকরি হওয়ার পর আমার স্ত্রী যখন আমাকে সালাম করতে, তখন ৫০০/২০০ টাকা দিলে তা জামাতেন। শ্বাশুড়িও মাঝে মাঝে দিতেন। স্ত্রীর এই জমানো টাকা দিয়ে ১৯৯৫সালে শহরে দুই শতক জায়গা ক্রয় করা হয়। তিনি বলেন, গত প্রায় একবছর আগে এই জায়গায় ৬তলা ভিত্তিতে ৫তলা বাড়ি ৫০লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এই টাকা ব্যাংক লোন ও আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে হাওলাত করা হয়। এই বিষয়ে মাছিহাতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আল আমিনুল পাভেল বলেন, নূর মোহাম্মদ সেলিমের পিতার স্থানীয় বাজারে ভাতের হোটেল ছিল, পরে মুদিমালের ব্যবসা শুরু করেন বলে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি। তিনি ফকিরী লাইনের তাই বিভিন্ন মাজারে যান। এলাকায় মাঝে মাঝে আসেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী মিজানুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, বাড়িঘর নির্মাণ করা এটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। তবে এই বেতন দিয়ে তিনি ৫তলা বাড়ি নির্মাণ করা সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।